📌 সালমান খানের যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাতৃভূমি’ সেন্সরশিপের কারণে ৪০% নতুন শুটিং এবং নাম পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছে। চীনকে সরাসরি উল্লেখ বাদ দিয়ে গল্পের ভিত্তি পরিবর্তন করা হয়েছে
সালমান খানের যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ (পূর্বনাম: ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’) সেন্সরশিপের কারণে একটি জটিল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চলচ্চিত্রটির প্রায় ৪০ শতাংশ দৃশ্য পুনরায় শুটিং করতে হয়েছে এবং চীনকে সরাসরি উল্লেখ বাদ দিয়ে গল্পের কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলি ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সালমান খানের ‘মাতৃভূমি’ চলচ্চিত্রের প্রায় ৪০ শতাংশ দৃশ্য পুনরায় শুটিং করতে হয়েছে সেন্সরশিপের কারণে।
- 📌 চলচ্চিত্রের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ থেকে ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ বাদ দিয়ে।
- 📌 চীনকে সরাসরি উল্লেখ বাদ দিয়ে গল্পের ভিত্তি পরিবর্তন করা হয়েছে, যা ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক কৌশলগত অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- 📌 চলচ্চিত্রের মূল নির্যাস পরিবর্তন করা হয়েছে ‘যুদ্ধ জয়’ থেকে ‘মানবিক সহানুভূতি ও সৈনিকদের মানসিক লড়াই’ দিকে।
- 📌 পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া এবং প্রযোজনা সংস্থা সৈনিকদের ব্যাকস্টোরি ও পারিবারিক বন্ধন যোগ করে গল্পের রূপান্তর করেছে।
- 📌 সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন পেলে চলচ্চিত্রটি ১৩ নভেম্বর দিওয়ালির সপ্তাহে মুক্তি পেতে পারে।
📰 বিস্তারিত
২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সৈন্যদের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের উপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘মাতৃভূমি’ চলচ্চিত্রে সালমান খান ১৬ বিহার রেজিমেন্টের অধিনায়ক প্রয়াত কর্নেল বিক্কুমাল্লা সন্তোষ বাবুর অনুপ্রাণিত চরিত্রে অভিনয় করছেন। তবে চলচ্চিত্রটির প্রথম টিজার প্রকাশের পরপরই চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং ভারতের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা চলচ্চিত্রটির গল্পের কাঠামো পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।
সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফায়েড (সিবিএফসি) নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে যেখানে বলা হয়েছে, বৈদেশিক বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন উপাদান চলচ্চিত্রে রাখা যাবে না। এই নির্দেশিকায় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে। চলচ্চিত্রের শিরোনাম থেকে ‘গালওয়ান’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ যুক্ত করা হয়েছে, যা চলচ্চিত্রটিকে নির্দিষ্ট কোনো সীমান্ত যুদ্ধের বিবরণ থেকে সরিয়ে সর্বজনীন সেনাপ্রেম ও মানবিক ত্যাগের গল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের অর্থসংস্থান দিক থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ দৃশ্য পুনরায় শুটিং এবং মুক্তির তারিখ বারবার পিছিয়ে যাওয়া একটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া এবং প্রযোজনা সংস্থা সৈনিকদের ব্যাকস্টোরি, পারিবারিক বন্ধন এবং রোমান্টিক আবহ যোগ করে যুদ্ধক্ষেত্রের তীব্র আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তি কমিয়ে আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলি সরকারি সবুজ সংকেত পাওয়ার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
"চলচ্চিত্র শিল্পকে রাষ্ট্র প্রায়শই ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু যখন কোনো চলচ্চিত্রের কনটেন্ট রাষ্ট্রীয় পররাষ্ট্রনীতির পথে অস্বস্তি তৈরি করে, তখন সেন্সরশিপ ও রাষ্ট্রীয় তদারকি কঠোর হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত (নয়াদিল্লি), চীন (বেইজিং), যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালমান খান, পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া, কর্নেল বিক্কুমাল্লা সন্তোষ বাবু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ শতাংশ (নতুন শুটিং), ১৬ বিহার রেজিমেন্ট, ১৩ নভেম্বর (মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!