📌 বিশ্ববিখ্যাত কাওয়ালি শিল্পী নুসরাত ফতেহ আলী খান ৪৮ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে তিনি অসুস্থতা সত্ত্বেও সংগীতের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিডনি ও লিভারের জটিলতা ছিল মৃত্যুর মূল কারণ
বিশ্বের শ্রোতাদের মুগ্ধ করে গেছেন কাওয়ালির সুরে। পাকিস্তানের সীমানা অতিক্রম করে তাঁর সংগীত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমা শিল্পীদের সাথে সমানতালে কাজ করতেন নুসরাত ফতেহ আলী খান। কিন্তু ৪৮ বছর বয়সে তাঁর জীবন থেমে যায়। ১৯৯৭ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা যান এই কিংবদন্তি শিল্পী। মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু সংগীতের কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি। আজ ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন — এই দিনে তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে আলো ফেলা যাক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৯৭ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডনের ক্রমওয়েল হাসপাতালে মারা যান নুসরাত ফতেহ আলী খান, মৃত্যুকালীন বয়স ৪৮ বছর
- 📌 মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে পাকিস্তানি শিল্পী সালমান আহমেদের সাথে দেখা হয়, সে সময় তাঁর অসুস্থতা লক্ষ্য করেন সালমান
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও লন্ডনে যাত্রাবিরতিতে শারীরিক অবস্থা অবনতির কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন
- 📌 ৯ আগস্ট লন্ডনের ক্রমওয়েল হাসপাতালে ভর্তি হন, চিকিৎসা চলছিল কিডনি ও লিভারের জটিলতা নিয়ে
- 📌 ১৭ আগস্ট সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটে মৃত্যু হয়, মৃত্যুর সময় পাশে ছিলেন ব্যবস্থাপক হাজি ইকবাল নকভি ও সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদসহ পরিচিতজন
- 📌 মৃত্যুর আগেও কাজের চিন্তা ছিল — যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় গাড়িতে নতুন অ্যালবামের রেকর্ডিং চালিয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
নুসরাত ফতেহ আলী খানের কণ্ঠে সুফি সংগীত পেয়েছিল নতুন মাত্রা। তাঁর কাওয়ালি পরিবেশনায় শ্রোতাদের মুগ্ধ করতেন কণ্ঠের ওঠানামা, তালের নিয়ন্ত্রণ এবং তীব্রতা। কিন্তু জীবনের শেষ দিকে শরীর তাঁকে আগের মতো সহযোগিতা করছিল না। কিডনির সমস্যা নিয়ে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের চিকিৎসা চলছিল। তবুও তিনি সংগীতের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেননি।
১৯৯৭ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন নুসরাত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আগেই লন্ডনে যাত্রাবিরতি নেওয়ার সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে। ৯ আগস্ট তিনি লন্ডনের ক্রমওয়েল হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর কিডনি ও লিভারের জটিলতা রয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও হেপাটাইটিসের সমস্যা ছিল।
মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে পাকিস্তানি শিল্পী সালমান আহমেদের সাথে তাঁর দেখা হয়েছিল। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালমান জানান, সেদিন নুসরাতকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, শিল্পী ভালো নেই। অসুস্থ শরীর সত্ত্বেও তিনি প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলেন। সালমানের মনে হয়েছিল, নুসরাতের কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়া দরকার। কিন্তু সেই বিরতি আর নেওয়া হয়নি।
"সেদিন নুসরাতকে দেখে মনে হয়েছিল, শিল্পী ভালো নেই। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলেন।"
১৬ আগস্ট সকালে নুসরাতের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ভোর চারটার দিকে তাঁর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। পরে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের চেষ্টা চলছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। ১৭ আগস্ট সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন তাঁর ব্যবস্থাপক হাজি ইকবাল নকভি, সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদসহ কয়েকজন পরিচিতজন।
মৃত্যুর আগেও কাজের চিন্তা ছিল নুসরাতের। তাঁর ভাতিজা ও শিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান ২০২৫ সালে প্রকাশিত দ্য নেশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় গাড়িতে নুসরাতকে বিষণ্ন ও চিন্তিত দেখেছিলেন। তবে নতুন একটি অ্যালবাম প্রকাশের কথা ভেবে তিনি গাড়িতে সেই অ্যালবামের রেকর্ডিং চালিয়েছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেও কাজের চিন্তা করেছিলেন তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন (ক্রমওয়েল হাসপাতাল), যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুসরাত ফতেহ আলী খান, সালমান আহমেদ, রাহাত ফতেহ আলী খান, হাজি ইকবাল নকভি, জাভেদ মিয়াঁদাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮ বছর (বয়স), ১৬ আগস্ট (মৃত্যু তারিখ), ১৩ সেপ্টেম্বর (জন্মদিন), ৯ আগস্ট (হাসপাতালে ভর্তি), ১১টা ৫৭ মিনিট (মৃত্যু সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!