📌 বাংলা চলচ্চিত্রের তিন কিংবদন্তি উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন ও সুপ্রিয়া দেবীর সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত প্রেমের গল্পের বাইরে ছিল শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার বহুমাত্রিক বন্ধন। কলকাতার বৃষ্টিময় দিনে সুচিত্রা সুপ্রিয়াকে বলেছিলেন, 'উতুকে ভীষণ চুমু খেতে ইচ্ছে করছিল'
তিনজনই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র। উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন ও সুপ্রিয়া দেবী—তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে নানা গল্প। অধিকাংশ গল্পেই তাঁদের সম্পর্ককে ত্রিকোণ প্রেম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল আরও গভীর ও বহুমাত্রিক। ছিল বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা, অভিমান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার নানা স্তর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলা চলচ্চিত্রের তিন কিংবদন্তি উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন ও সুপ্রিয়া দেবীর সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণার বাইরে ছিল শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের বহুমাত্রিক বন্ধন
- 📌 অনুপ কুমার তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বলেন, উত্তম ও সুচিত্রা এতটাই কাছের মানুষ ছিলেন যে তাঁদের মধ্যে কখনো প্রকাশ্য ঝগড়া দেখা যায়নি
- 📌 সুপ্রিয়া দেবী প্রথম উত্তম ও সুচিত্রাকে একসঙ্গে দেখেছিলেন শেওড়াফুলির একটি প্রেক্ষাগৃহে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ছবি দেখতে গিয়ে
- 📌 উত্তমকুমার ও সুপ্রিয়ার প্রথম ছবি ছিল ‘বসু পরিবার’, আর সুচিত্রার সঙ্গে সুপ্রিয়ার পরিচয় হয়েছিল নির্মল দের মাধ্যমে
- 📌 কলকাতার এক বৃষ্টিময় দিনে সুচিত্রা সুপ্রিয়াকে বলেছিলেন, 'উতুকে ভীষণ চুমু খেতে ইচ্ছে করছিল'
📰 বিস্তারিত
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন ও সুপ্রিয়া দেবী তিনটি অবিস্মরণীয় নাম। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। অধিকাংশ মানুষই তাঁদের সম্পর্ককে ত্রিকোণ প্রেম হিসেবে দেখেন। তবে তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল আরও গভীর ও জটিল। ছিল বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা, অভিমান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার নানা স্তর।
অভিনেতা অনুপ কুমার তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণায় বলেন, উত্তম ও সুচিত্রা এতটাই কাছের মানুষ ছিলেন যে তাঁদের মধ্যে কখনো প্রকাশ্য ঝগড়া দেখা যায়নি। তিনি বলেন, 'ওঁরা দুজন এতটাই বন্ধু ছিলেন যে দুজনের ইগো কখনো বাইরে প্রকাশ পেত না। ওঁরা দুজন ঝগড়া করেছেন এমন কখনো দেখিনি।'
সুপ্রিয়া দেবী তাঁর স্মৃতিচারণায় জানান, তিনি প্রথম উত্তম ও সুচিত্রাকে একসঙ্গে দেখেছিলেন শেওড়াফুলির একটি প্রেক্ষাগৃহে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ছবি দেখতে গিয়ে। ততদিনে তাঁর উত্তম ও সুচিত্রা দুজনের সঙ্গেই পরিচয় হয়ে গেছে। উত্তমকুমার ও সুপ্রিয়ার প্রথম ছবি ছিল ‘বসু পরিবার’। অন্যদিকে সুচিত্রার সঙ্গে সুপ্রিয়ার পরিচয় হয়েছিল পরিচালক নির্মল দের মাধ্যমে। তখন ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবির শুটিং চলছিল। নির্মল দেই সুচিত্রার সঙ্গে সুপ্রিয়ার পরিচয় করিয়ে দেন। সেই পরিচয় পরে গভীর সম্পর্কের উষ্ণতায় রূপ নেয়।
সময়ের সঙ্গে উত্তম ও সুপ্রিয়া একে অপরকে আরও কাছ থেকে চিনেছেন। আর সুচিত্রা তখন সুপ্রিয়ার কাছে হয়ে উঠেছিলেন ‘রমাদি’। সুপ্রিয়াও সুচিত্রাকে শ্রদ্ধা করতেন। সুচিত্রার কাছেও সুপ্রিয়া ছিলেন পছন্দের মানুষ। তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে ঈর্ষার গল্পের বাইরে ছিল শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া।
কলকাতার এক বৃষ্টিময় দিনে ময়রার স্ট্রিটের বাড়িতে সুচিত্রা ফোন করেছিলেন সুপ্রিয়াকে। উত্তমকুমারকে ‘উতু’ নামে ডাকতেন সুচিত্রা। সুপ্রিয়া জানান, উত্তম তখন শুটিংয়ে গেছেন। উত্তমকে না পেয়ে হতাশ সুচিত্রা বলেছিলেন, 'ইশ্! শুটিংয়ে গিয়েছে? উতুকে এখন ভীষণ চুমু খেতে ইচ্ছে করছিল।' সুপ্রিয়া এতে বিচলিত হননি। তিনি উত্তমকে সুচিত্রার বাড়িতে যেতে বলেন। এতে অবাক হন সুচিত্রাই। সুপ্রিয়ার উত্তর ছিল, 'রমাদি তোমাকে আমি খুব ভালো করে চিনি।'
"ওঁরা দুজন এতটাই বন্ধু ছিলেন যে দুজনের ইগো কখনো বাইরে প্রকাশ পেত না। ওঁরা দুজন ঝগড়া করেছেন এমন কখনো দেখিনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, সুপ্রিয়া দেবী, অনুপ কুমার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: তিনজন কিংবদন্তির সম্পর্ক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!