📌 'জাদুকর' গানের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে পাঁচ বছর পর বিয়ে করলেও প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেমের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। জনপ্রিয়তা ও ব্যস্ততার কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির বিপরীতে ব্যক্তিগত জীবনে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়
প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেমের সম্পর্কের শুরু হয়েছিল 'জাদুকর' গানের মিউজিক ভিডিও শুটিংয়ে। ২০১৭ সালে সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, প্রেম, বিয়ে এবং শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথে নেমে পড়া — এই পাঁচ বছরের গল্পে ছিল অনেক গোপন। প্রীতমের ক্যারিয়ারে আসা বড় পরিবর্তন এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনই ছিল এই বিচ্ছেদের মূল কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 'জাদুকর' গানের মিউজিক ভিডিও শুটিংয়ে প্রীতম ও শেহতাজের পরিচয়; ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলে বিয়ে হয়
- 📌 'তুফান' সিনেমার মাধ্যমে প্রীতমের জনপ্রিয়তা বাড়লে তার ব্যস্ততা বৃদ্ধি পায়; শেহতাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কমে যায়
- 📌 ২০২৪ সালের তৃতীয়ার্ধ থেকে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়; বন্ধুদের উপস্থিতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়
- 📌 বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার আগে শেহতাজ কানাডায় গিয়েছিলেন; দেশে ফিরে আসার পরই তাদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে দূরত্ব ছিল; বিয়ের পর শেহতাজ নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
২০১৭ সালে 'জাদুকর' গানের মিউজিক ভিডিও শুটিংয়ে প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেমের পরিচয় হয়। কাজ করতে কাজতে তাদের যোগাযোগ বাড়ে এবং ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রীতম নিজেই জানিয়েছিলেন যে, 'জাদুকর'-এর শুটিংয়ের পরই শেহতাজকে বিয়ের কথা বলেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের আয়োজনে পাহাড় আর চা-বাগানে ঘেরা পরিবেশে দুজনের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজন উপস্থিত ছিলেন। শেহতাজ নিজেই বিয়ের পোশাকের নকশা করেছিলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
বিয়ের পর দুজনের জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। প্রীতমের ক্যারিয়ারে 'তুফান' সিনেমার মাধ্যমে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি শহর থেকে গ্রাম, দেশ থেকে বিদেশে জনপ্রিয়তা পান। 'বরবাদ' ও 'প্রিন্স' সিনেমার জনপ্রিয় গানগুলোও তাঁর পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়। ধীরে ধীরে প্রীতমের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। স্টেজ শোর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, সম্মানী বাড়ে, এবং দেশ-বিদেশে ছুটে বেড়ানোর সুযোগও পায়। ঘনিষ্ঠজনদের মতে, ২০২৪ সালের তৃতীয়ার্ধ থেকে প্রীতম ও শেহতাজের মধ্যে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রীতমের কাজের ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে তাঁর আচরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। শেহতাজের কাছে প্রীতমের এই পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যায়নি, যা তাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে।
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া বা আড্ডা করার সময়েও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এমনকি বন্ধুদের উপস্থিতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়। এই ঘটনাগুলো তাদের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে বাইরে থেকে তাদের সম্পর্কের অবস্থা বোঝা সম্ভব ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ঘোরাঘুরির ছবি ছিল, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত থাকতেন। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেফার রহমান ও রাফসান সাবাবের বিয়ের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তাদের দূরত্ব ছিল। শেহতাজ বিয়ের আগে গান ও অভিনয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিয়ের পর নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। অন্যদিকে প্রীতম ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন সংগীত নিয়ে।
"আমাকে তোমার সাথে নিয়ে চলো" — এই সংলাপের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল তাদের গল্প, কিন্তু শেষ হয়েছিল বিচ্ছেদের ঘোষণায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্রীমঙ্গল (বিয়ের আয়োজন), কানাডা (শেহতাজের ভ্রমণ), পাহাড় আর চা-বাগান (বিয়ের পরিবেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রীতম হাসান, শেহতাজ মনিরা হাশেম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ অক্টোবর (বিয়ের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!