📌 হলিউডে ১০ বছর অডিশন দিয়েও কাজ না পাওয়ায় অর্থকষ্টে বাসা ছেড়ে যাবার আশঙ্কায় ছিলেন নাওমি ওয়াটস। কিন্তু ‘মুলহল্যান্ড ড্রাইভ’ ও ‘দ্য রিং’-এর মতো সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বর্তমানে তাঁর সম্পদ ৪৩০ কোটি টাকারও বেশি
হলিউডের মঞ্চে ১০ বছর ধরে অডিশন দিয়েও কাজ পাওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় অর্থকষ্টে বাসা থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কায় ছিলেন ব্রিটিশ-অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী নাওমি ওয়াটস। কিন্তু তারপরেই তিনি ‘মুলহল্যান্ড ড্রাইভ’, ‘দ্য রিং’, ‘২১ গ্রামস’ ও ‘দ্য ইমপসিবল’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বর্তমানে তাঁর সম্পদ ৪৩০ কোটি টাকারও বেশি। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর ৫৮তম জন্মদিন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৬৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের কেন্টের শোরহ্যামে জন্মগ্রহণকারী নাওমি ওয়াটসের বাবা পিটার ওয়াটস ছিলেন বিখ্যাত ব্যান্ড পিংক ফ্লয়েডের রোড ম্যানেজার ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার।
- 📌 মাত্র চার বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদ এবং সাত বছর বয়সে বাবা হারানোর পর তিনি ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠেন।
- 📌 ১৪ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান নাওমি ওয়াটস। জাপানে মডেলিং ও অস্ট্রেলিয়ার একটি ম্যাগাজিনে ফ্যাশন এডিটর হিসেবে কাজ করার পর অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন।
- 📌 ১৯৮৬ সালে ‘ফর লাভ অ্যালোন’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে হলিউডে পা রাখেন। হলিউডে ১০ বছর ধরে অডিশন দিয়েও কাজ পাওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় তিনি অর্থকষ্টে বাসা ছেড়ে যাবার আশঙ্কায় ছিলেন।
- 📌 ২০০১ সালে ‘মুলহল্যান্ড ড্রাইভ’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ বদলে যায়। এই সিনেমায় তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়।
- 📌 ‘দ্য রিং’ (২০০২), ‘২১ গ্রামস’ (২০০৩), ‘দ্য ইমপসিবল’ (২০১৩) সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের মনোনয়ন পান।
- 📌 সেলিব্রিটি নেট ওয়ার্থ অনুযায়ী, নাওমি ওয়াটসের সম্পদ আনুমানিক ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩০ কোটি টাকার সমান।
📰 বিস্তারিত
নাওমি ওয়াটসের জীবনের প্রথম দিকটা ছিল কঠিন। শৈশবেই তিনি দুঃখের মুখোমুখি হন। তাঁর বাবা পিটার ওয়াটস ছিলেন বিখ্যাত ব্যান্ড পিংক ফ্লয়েডের রোড ম্যানেজার ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু মা-বাবার বিচ্ছেদ হয় যখন নাওমির বয়স মাত্র চার বছর। পরের বছরগুলো তিনি বাবা হারান। ১৯৭৬ সালে বাবা হেরোইন ওভারডোজের কারণে মৃত্যুবরণ করেন। এই দুঃখের পরও তিনি জীবনে এগিয়ে যান। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন জায়গায় বেড়ে ওঠার পর ১৪ বছর বয়সে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি জাপানে মডেলিং ও অস্ট্রেলিয়ার একটি ম্যাগাজিনে ফ্যাশন এডিটর হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। একটি অভিনয়ের কর্মশালায় অংশ নেওয়ার পর তিনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং অভিনয়ের জন্য অডিশন দেওয়া শুরু করেন।
১৯৮৬ সালে ‘ফর লাভ অ্যালোন’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হলিউডে পা রাখেন। হলিউডে এসে তিনি এক দশকের লড়াই ভেবেছিলেন পথটা সহজ হবে। কিন্তু সেখানে সাফল্য পেতে তাঁকে প্রায় এক দশক অপেক্ষা করতে হয়। একের পর এক অডিশন দিয়েও কাজ পাচ্ছিলেন না। নাওমি ওয়াটসের এজেন্ট তাঁকে বলেছিলেন যে, তিনি অতিরিক্ত ‘ইনটেন্স’ এবং মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলেন। এই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘ সময় হলিউডে কাজ না পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়েছিল। এমনকি ভাড়া বকেয়া থাকায় উচ্ছেদের আশঙ্কাতেও ছিলাম।’
২০০১ সালে আসে সেই সিনেমা, যা তাঁর ক্যারিয়ারকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়—‘মুলহল্যান্ড ড্রাইভ’। পরিচালক ডেভিড লিঞ্চের এই সিনেমায় তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। নাওমি ওয়াটস বলেছেন, ‘লিঞ্চ আমার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আমার তৈরি করা নানা “অতিরিক্ত” আবরণ সরিয়ে আমার আসল অভিনয়সত্তাকে দেখতে পেরেছিলেন।’ ‘দ্য রিং’ (২০০২) সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি মূলধারার হলিউডের পরিচিত মুখে পরিণত হন। এরপর ‘টুয়েন্টিওয়ান গ্রামস’ (২০০৩) সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান। একই চরিত্রের জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোব ও বাফটা মনোনয়নও পান।
"লিঞ্চ আমার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আমার তৈরি করা নানা ‘অতিরিক্ত’ আবরণ সরিয়ে আমার আসল অভিনয়সত্তাকে দেখতে পেরেছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইংল্যান্ড (শোরহ্যাম), অস্ট্রেলিয়া, জাপান, হলিউড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাওমি ওয়াটস, পিটার ওয়াটস, নিকোল কিডম্যান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৮ (বয়স), ৪৩০ (কোটি টাকা), ১০ (বছর), ২৮ (সেপ্টেম্বর), ১৪ (বছর), ৩ (কোটি মার্কিন ডলার), ৫০ (লাখ মার্কিন ডলার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!