📌 ৭৫ বছর বয়সে ভারতের বিখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকর গোয়ায় হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি দর্শকদের স্মরণে বলেছিলেন, 'মারা গেলে কেউ মনে রাখবে না'। অভিনয়ের স্বতন্ত্র ভঙ্গি ও মানবিক কাজের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন
৭৫ বছর বয়সে ভারতের চলচ্চিত্র জগতে অমর হয়ে থাকা অভিনেতা নানা পাটেকর গোয়ার ডোনা পাউলায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮ অক্টোবর ভোরে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি দর্শকদের স্মরণে একটি সতর্কবাণী দিয়েছিলেন, 'আপনি মারা গেলে কেউ মনে রাখবে না। তাই যত দিন বেঁচে আছেন, আনন্দে থাকুন। অন্যের জন্য যদি কিছু করতে পারেন, করুন'। এই কথাগুলো ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে প্রথম আলোর প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন। মৃত্যুর পরেও তাঁর এই কথাগুলো অন্যভাবে ফিরে আসছে, কারণ নানা পাটেকরকে স্মরণ করছেন অসংখ্য দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮ অক্টোবর ভোরে গোয়ার ডোনা পাউলায় হৃদরোগে মারা যান ভারতের বিখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকর, বয়স ৭৫ বছর
- 📌 মৃত্যুর আগে তিনি দর্শকদের স্মরণে বলেছিলেন, 'মারা গেলে কেউ মনে রাখবে না, তাই আনন্দে থাকুন'
- 📌 অভিনয়ের স্বতন্ত্র ভঙ্গি ও মানবিক কাজের জন্য তিনি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন
- 📌 ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অভিনেতা অক্ষয় কুমারসহ অনেকেই তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন
- 📌 পুনের দোঞ্জে এলাকায় নিজের খামারবাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে
📰 বিস্তারিত
মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী নানা পাটেকর ছোটবেলা থেকেই অভাবের সঙ্গে লড়াই করেছেন। সংসারের প্রয়োজনে কৈশোরে সিনেমার পোস্টার এঁকে উপার্জন করতেন তিনি। পরে মুম্বাইয়ের স্যার জে জে ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লায়েড আর্টসে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবনে নাটকের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। মঞ্চে অভিনয় করতে করতেই ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর।
শুরুর দিকে ছোট ও পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও আশির দশকে ‘অঙ্কুশ’, ‘প্রতিঘাত’, ‘মোহরে’ ও ‘সালাম বম্বে!’ ছবিতে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। অভিনয়জীবনের বড় মোড় আসে ‘পরিন্দা’ ছবিতে। বিধু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত এই ছবিতে খলচরিত্রে অভিনয় করে তিনি পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। নব্বইয়ের দশকে ‘প্রহার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ ও ‘ওয়াজুদ’ ছবিতে তিনি বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেন।
১৯৯৪ সালের ‘ক্রান্তিবীর’ ছবিতে প্রতিবাদী চরিত্রে অভিনয় ও সংলাপ বলার ভঙ্গি দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় সেরা অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। আবার ‘ওয়েলকাম’ ছবিতে হাস্যরসাত্মক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের অন্য রূপ দেখান। মারাঠি চলচ্চিত্র ও মঞ্চেও তাঁর দাপট ছিল। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত করে। পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল’ অ্যাটাক পরিচালনা করেন তিনি।
নানা পাটেকর অভিনয়ের ক্ষেত্রে পরিচালকের ওপর আস্থা রাখতেন। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন, ‘একজন অভিনেতা যদি পরিচালকের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে দেন, তাহলে কাজটা আরও সহজ হয়ে যায়’। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজসেবায় সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও পানিসংরক্ষণের কাজে অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’।
"একটা কথা মাথায় রাখবেন, আপনি মারা গেলে কেউ মনে রাখবে না। তাই যত দিন বেঁচে আছেন, আনন্দে থাকুন। অন্যের জন্য যদি কিছু করতে পারেন, করুন। কাল মানুষ আপনাকে মনে রাখবে, এই ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে থাকবেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোয়ার ডোনা পাউলা, পুনের দোঞ্জে এলাকা (মহারাষ্ট্র, ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অভিনেতা নানা পাটেকর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: বয়স ৭৫ বছর, ৮ অক্টোবর (মৃত্যু তারিখ), ১৯৫১ (জন্মবছর), ১ জানুয়ারি (জন্ম তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!