📌 ৮ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকর। ৫০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয়শিল্পী হিসেবে গ্ল্যামারের বদলে নিখাদ অভিনয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বলিউডে নতুন মাপকাঠি স্থাপন করেন
৮ অক্টোবর ভোরে ভারতের মুম্বাইতে নিজ বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার ভোরে অচেতন অবস্থায় তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ৪৫ মিনিটের সিপিআর চিকিৎসা শেষেও তাঁর জীবন রক্ষা সম্ভব হয়নি। ৭৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ে হৃদ্রোগে মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকর
- 📌 ৭৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুতে বলিউডে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে
- 📌 ৫০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয়শিল্পী হিসেবে গ্ল্যামারের বদলে নিখাদ অভিনয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন
- 📌 ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে মেজর পদমর্যাদায় সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন
- 📌 ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য নাম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন
📰 বিস্তারিত
মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জাঞ্জিরায় জন্মগ্রহণকারী নানা পাটেকর (বিশ্বনাথ পাটেকর) মুম্বাইয়ের স্যার জে জে ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লায়েড আর্ট থেকে পড়াশোনা শেষে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমায় অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন। তবে বলিউডে তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল ১৯৮৪ সালের ‘আজ কি আওয়াজ’ চলচ্চিত্রে।
১৯৮৬ সালের ‘অঙ্কুশ’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। ১৯৮৯ সালের ‘পারিন্দা’ চলচ্চিত্রে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি পার্শ্ব অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। তবে নিজেকে পার্শ্বচরিত্রের সীমায় আটকে রাখেননি। ১৯৯১ সালে পরিচালক এবং নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘প্রহার’ চলচ্চিত্র দিয়ে।
নব্বইয়ের দশকে ‘তিরঙ্গা’ ও ‘ক্রান্তিবীর’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় তাকে সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। ‘ক্রান্তিবীর’ চলচ্চিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার লাভ করে তিনি প্রমাণ করেন যে, গ্ল্যামারাস হিরো না হয়ে শুধু অভিনয় দক্ষতাই দর্শকের হৃদয় জয় করতে পারে।
‘আব তাক ছাপ্পান’, ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ এবং ‘রাজনীতি’ চলচ্চিত্রে রাগী বা সিরিয়াস চরিত্রের পাশাপাশি ‘ব্লাফমাস্টার’, ‘ফির হেরা ফেরি’ এবং ‘হ্যাটট্রিক’ চলচ্চিত্রে কমেডি অভিনয়েও তিনি সমান সাবলীল ছিলেন। বিশেষ করে ‘ওয়েলকাম’ চলচ্চিত্রে ডন উদয় শেঠি চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের হাসির খোরাক হয়ে আছে।
বাস্তব জীবনে নানা পাটেকর ছিলেন অনন্য। ১৯৮৮ সালে টেরিটোরিয়াল আর্মিতে ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে মেজর পদমর্যাদায় সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ওই বছর ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে।
২০১৫ সালে তিনি মহারাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় নাম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
"প্রচলিত ব্যাকরণ ভেঙে দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। প্রখর মেধা আর ব্যক্তিত্ব দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, পর্দায় রাজত্ব করতে নিখাদ অভিনয়ের চেয়ে বড় কোনো অস্ত্র নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নানা পাটেকর (বিশ্বনাথ পাটেকর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যু, ৫০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ার, ৪৫ মিনিট সিপিআর চিকিৎসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!