📌 গানের প্রতি আগ্রহের কারণে গ্রামবাসীরা মনির খানের বাবাকে মারধর করে। কণ্ঠশিল্পী মনির খান মাছরাঙা টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে ভয়াবহ ঘটনাটি তুলে ধরেন। বাবা মাহবুব আলী খানের মৃত্যুর পরেও তিনি গানের প্রতি অটুট আগ্রহের কথা বলেন
গানের প্রতি অটুট আগ্রহের কারণে গ্রামবাসীরা কণ্ঠশিল্পী মনির খানের বাবাকে মারধর করে। এসএসসি পরীক্ষা শেষে বাবা হারমোনিয়াম কিনে আনলে গ্রামবাসীরা গানের ‘অপরাধে’ তাদেরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। মনির খান মাছরাঙা টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে এই ঘটনাটি ভয়াবহভাবে স্মরণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **গানের অপরাধে** মনির খানের বাবা ও তার নিজেই গ্রামবাসীরা মারধর করে — হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাওয়ার কারণে তাদেরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
- 📌 **৭-৮টি মামলা** করা হয়েছিল মনির খানের নামে গানের অপরাধে, যার কারণে তাকে পালিয়ে পালিয়ে থাকতে হতো।
- 📌 **কাঠগড়ায় গান গাওয়ার পর** জজ সাহেব তাকে বেকসুর খালাস দেন, যা মনির খানের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল।
- 📌 **২৫ জানুয়ারি ২০২৫**-এ বাবা মাহবুব আলী খানকে হারান মনির খান, যিনি একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন।
- 📌 **১৭ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে** হারমোনিয়াম কিনতে যান মনির খান, যেটি বাবা তার জন্য কেনেছিলেন।
📰 বিস্তারিত
মনির খান মাছরাঙা টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নিজের বাড়িতে গান গাওয়ার অপরাধে আমার নামে কমপ্লেইন করেছিলেন এক হুজুর। গান গাওয়ার অপরাধে আমার নামে ৭-৮টা মামলা করা হয়েছিল। সে সময় আমাকে পালিয়ে পালিয়ে থাকতে হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার হারমোনিয়াম ভাঙার জন্য বাড়িতে লোক আসে। আমাকে পেটাতে থাকে। এ সময় আমি হারমোনিয়াম জড়িয়ে থাকি। বাবাও হারমোনিয়াম আর আমাকে আগলে রাখার চেষ্টা করেন। বাবা পিঠে আঘাত পান।’
মনির খানের বাবা মাহবুব আলী খান একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন। তিনি তার সন্তানকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতেন। মনির খান বলেন, ‘বাবা খুব হিসেবি মানুষ ছিলেন। প্রতিটি পদক্ষেপই হিসেব করে নিতেন। তিনি আমাকে গানের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই তিনি হারমোনিয়াম কিনে আনেন। ১৭ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে আমি হারমোনিয়াম কিনতে যাই।’
মনির খান বলেন, ‘বাবা আমাকে বলেছিলেন, তোমার কাছে তোমার বাবার যে চাওয়াটা আছে, সেটা পূরণের চেষ্টা করবে। আমি তার কথা মনে রেখে গানের দিকে এগিয়ে যাই। কিন্তু গ্রামবাসীরা আমাদেরকে মারধর করে। আমাদের হুজুর এসে কমপ্লেইন করতেন। একটা পর্যায়ে তো খুব সমস্যাই হলো। আমাকে পালিয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে শুধু গান গাওয়ার অপরাধে।’
"আমি তখন গান শেখা শুরু করলাম। আমার প্রথম ওস্তাদ রেজা খোসরু। কাঠগড়ায় গান গাওয়ার পরে জজ সাহেব আমাকে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন। সেটা অনেক লম্বা ইতিহাস।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গ্রাম (বাবার বাড়ি), ঢাকা (বর্তমান বাসস্থান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনির খান, মাহবুব আলী খান (বাবা), গ্রামবাসীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭-৮টি মামলা, ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১৭ কিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!