📌 মেরিলিন মনরোর ১৯৫২ সালের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস। সকালে গরম দুধে কাঁচা ডিম, রাতে মাংস ও গাজর — এছাড়াও তার ১০ মিনিটের শরীরচর্চা ও ঘুমের রুটিনের বিস্তারিত জানা যায়
হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর খাদ্যাভ্যাসের গোপন বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৫২ সালের ‘পেজেন্ট’ সাময়িকীতে প্রকাশিত তার নিজের লেখায় তিনি নিজের দৈনন্দিন খাবার, শরীরচর্চা এবং ঘুমের রুটিনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তার বর্ণিত খাদ্যাভ্যাস আজকের দিনেও অনেকের জন্য অবাককর হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সকালের নাশতায় গরম দুধে ভেঙে খাওয়া দুটি কাঁচা ডিম — মনরোর পছন্দের পুষ্টিকর খাবার
- 📌 রাতের খাবারে মাংসের সঙ্গে চার-পাঁচটি কাঁচা গাজর — তার বিশেষ পছন্দ
- 📌 প্রতিদিন ১০ মিনিটের শরীরচর্চা: ডাম্বেল দিয়ে ১৫ বার করে ব্যায়াম
- 📌 ঘুমের সময় ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা — কাজের ব্যস্ততার উপর নির্ভর করে তার ঘুমের সময়সূচী
- 📌 আইসক্রিমের প্রতি দুর্বলতা: সন্ধ্যায় অভিনয় ক্লাস শেষে হট ফাজ সানডে পছন্দ করতেন
📰 বিস্তারিত
মেরিলিন মনরোর খাদ্যাভ্যাসের বিবরণ তার নিজের লেখা ‘হাউ আই স্টে ইন শেপ’-এ প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, সকালে গোসলের আগে হোটেলের ছোট চুলায় এক কাপ দুধ গরম করতেন। তারপর দুটি কাঁচা ডিম ভেঙে সেই গরম দুধে মিশিয়ে কাঁটাচামচ দিয়ে পান করতেন। এই পদ্ধতি তাকে ব্যস্ত কর্মজীবনে দ্রুত নাশতা করার সুবিধা দিত। তিনি মনে করতেন, এই খাবার কর্মব্যস্ত নারীদের জন্য বেশ পুষ্টিকর।
রাতের খাবারে মনরোর পছন্দ ছিল মাংস ও গাজর। তিনি লিখেছিলেন, প্রতিদিন হোটেলের কাছের বাজার থেকে স্টেক বা ভেড়ার মাংস কিনে রান্না করতেন। মাংসের সঙ্গে খেতেন চার-পাঁচটি কাঁচা গাজর। গাজরের প্রতি তার বিশেষ ভালোবাসা ছিল। তিনি মজা করে লিখেছিলেন, ‘আমাকে বোধ হয় খরগোশের মতোই দেখতে হবে; কাঁচা গাজর খেতে কখনো বিরক্তি আসে না।’
মিষ্টি খাবারের প্রতি মনরোর দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। অভিনয় ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রায়ই থামতেন আইসক্রিমের দোকানে। সেখানে তার পছন্দ ছিল হট ফাজ সানডে — আইসক্রিমের ওপর গরম চকলেট সস দেওয়া একধরনের মিষ্টান্ন। তিনি জানিয়েছিলেন, দিনের খাবার তুলনামূলকভাবে সাধারণ রাখার কারণে এই মিষ্টি খাওয়ার সুযোগ পেতেন।
শরীরচর্চার অভ্যাসেও মনরো ছিলেন নিজস্ব। প্রতিদিন সকালে দাঁত ব্রাশ ও মুখ ধোয়ার পর বিছানার পাশে মেঝেতে শুয়ে ব্যায়াম শুরু করতেন। তিনি ব্যবহার করতেন পাঁচ পাউন্ড ওজনের দুটি ডাম্বেল। বিশেষ করে শরীরের নির্দিষ্ট পেশি দৃঢ় রাখার জন্য নিজের মতো করে কিছু ব্যায়াম তৈরি করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, দুই হাত ছড়িয়ে ডাম্বেল বুকের ওপর থেকে মাথার ওপর পর্যন্ত তুলতেন এবং ধীরে ধীরে ১৫ বার করে ব্যায়ামটি করতেন। হাত মেঝে থেকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে রেখে ডাম্বেল ঘোরানোর ব্যায়ামও ছিল তাঁর রুটিনে।
ঘুমের সময় মনরোর কাছে ঘুমও ছিল দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি লিখেছিলেন, কাজের ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করে রাতে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমাতেন। সকালে ঘুম থেকে উঠতে তাঁর বেশ সময় লাগত। ছুটির দিনে কখনো কখনো বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় কাটাতেন।
"আমাকে বোধ হয় খরগোশের মতোই দেখতে হবে; কাঁচা গাজর খেতে কখনো বিরক্তি আসে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লস অ্যাঞ্জেলেস (জন্মস্থান), হোটেল (বাসস্থান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেরিলিন মনরো (নারমা জিন মর্টেনসন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ মিনিট (শরীরচর্চা), ১৫ বার (ব্যায়াম), ৪৫ ডিগ্রি (কোণ), ৫-১০ ঘণ্টা (ঘুম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!