📌 মাসুম আজিজের অভিনয় জীবনের শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রক্সি’ অভিনেতা হিসেবে। সাত দিন অন্য অভিনেতার জায়গায় অভিনয়ের পর সেরা অভিনেতা পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সাফল্য অর্জন করে ২০২২ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ১৭ অক্টোবর ২০২২ সালে ৬৮ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আন্তবিশ্ববিদ্যালয় হল নাটক প্রতিযোগিতায় ‘প্রক্সি’ অভিনেতা হিসেবে সাত দিন অভিনয় করে সেরা অভিনেতা পুরস্কার পেয়েছিলেন মাসুম আজিজ। গানের মানুষ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পী অভিনয় জীবনের শুরু করেছিলেন অন্য অভিনেতার জায়গায় অভিনয়ের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিজের প্রতিভা প্রদর্শন করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৭ অক্টোবর ২০২২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, যা ছিল তাঁর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাসুম আজিজের অভিনয় জীবনের শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রক্সি’ অভিনেতা হিসেবে — সাত দিন অন্য অভিনেতার জায়গায় অভিনয় করে সেরা অভিনেতা পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।
- 📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিলেন মাসুম আজিজ। কিন্তু শফিক কামালের নিয়মিত না আসায় প্রভোস্ট তাঁকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বলেন।
- 📌 নাটক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মাসুম আজিজ সেরা অভিনেতা পুরস্কার পান, যা তাঁর অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
- 📌 অভিনয় ও নির্দেশনায় সাফল্য পাওয়ার পর ঢাকায় আসেন মাসুম আজিজ। সেখানে তিনি বিভিন্ন চাকরি করলেও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে স্থির রাখে।
- 📌 ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন মাসুম আজিজ। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রেও কাজ করেন এবং ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা পুরস্কার পান।
- 📌 শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০২২ সালে মাসুম আজিজকে একুশে পদক দেওয়া হয়।
- 📌 ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর ২টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স ছিল ৬৮ বছর।
📰 বিস্তারিত
মাসুম আজিজের অভিনয় জীবনের শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আন্তবিশ্ববিদ্যালয় হল নাটক প্রতিযোগিতায়। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল শফিক কামালের। নিয়মিত মহড়ায় না আসার কারণে হলের প্রভোস্ট মাসুম আজিজকে তাঁর জায়গায় অভিনয়ের জন্য বলেন। মাসুম আজিজ সাত দিন ধরে অন্য অভিনেতার জায়গায় অভিনয় করেন। শেষ পর্যন্ত শফিক কামাল নাটকটি করবেন না বলে জানিয়ে দিলে বিপাকে পড়ে হল কর্তৃপক্ষ। প্রভোস্ট শফিক হায়দার চৌধুরীর কথায় মাসুম আজিজকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। এই নাটক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মাসুম আজিজ সেরা অভিনেতা পুরস্কার পান, যা তাঁর অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
অভিনয় থেকে নির্দেশনায় সাফল্য পাওয়ার পর মাসুম আজিজ ঢাকায় আসেন। সেখানে তিনি শিক্ষক শফিকুল আমানের মাধ্যমে পরিচিত হন নাট্যনির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফের সাথে। বিভিন্ন চাকরি করলেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা স্থির রাখে। জীবিকার জন্য তিনি প্রিন্টিং সরবরাহের ব্যবসা করতেন। পরে তিনি ‘ইন্সপেক্টর জেনারেল’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে তাঁর পথচলা আরও দৃঢ় হয়। ঢাকা পদাতিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি অভিনয় চালিয়ে যান।
১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন মাসুম আজিজ। পরবর্তীতে তিনি মঞ্চ ও টেলিভিশনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও কাজ শুরু করেন। হুমায়ূন আহমেদের ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’ ও সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘তিন গ্যাদা’সহ নানা নাটকে অভিনয় করে তিনি পরিচিতি পান। ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০০৬ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার স্বীকৃতি পান। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চিত্রনাট্যকার ও নাট্যনির্মাতা হিসেবেও কাজ করেছেন।
"আমি যদি মঞ্চে অভিনয় করতে করতেই মারা যেতাম, তাহলে আমি হতাম ভাগ্যবান ব্যক্তি।"
শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০২২ সালে মাসুম আজিজকে একুশে পদক দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ক্যানসার ও হৃদ্রোগে ভুগছিলেন তিনি। ২০২২ সালের শুরুর দিকে তাঁর ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মৃত্যুর চার দিন আগে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে ১৭ অক্টোবর ২০২২ সালের ২টা ৪৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স ছিল ৬৮ বছর।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাসুম আজিজ, শফিক কামাল, শফিক হায়দার চৌধুরী, ঋত্বিক কুমার ঘটক, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, শফিকুল আমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ বছর (মৃত্যুবার্ষিকী), ১৭ অক্টোবর, ২টা ৪৫ মিনিট, ৬৮ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!