📌 চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা রাখেন মান্না। ‘ফায়ার’ সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্যের অভিযোগে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেন এবং সিনেমার ডাবিংও বর্জন করেন। তার স্ত্রী শেলী মান্না জানান, মান্নার অজান্তেই বডি ডামি ব্যবহার করে অশ্লীল দৃশ্য তৈরি করা হয়েছিল। মান্না একা চলচ্চিত্র শিল্পের অশ্লীলতা বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন
চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে মান্না এক অনন্য প্রতিবাদী চিত্রনায়ক ছিলেন। ‘ফায়ার’ সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্যের অভিযোগে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেন এবং শিল্পের অশ্লীলতা বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। মান্নার নিজস্ব ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করেননি। তার স্ত্রী শেলী মান্না জানান, মান্নার অজান্তেই সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্য তৈরি করা হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘ফায়ার’ সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্যের অভিযোগে মান্না সিনেমাটি পুরোপুরি পরিত্যাগ করেন এবং ডাবিংও বর্জন করেন
- 📌 মান্নার নিজস্ব ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ফায়ার’-এ অর্ধেক কাজ করার পর তিনি বুঝতে পারেন যে সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্য তৈরি করা হচ্ছে
- 📌 শেলী মান্না জানান, মান্নার অজান্তেই বডি ডামি ব্যবহার করে অশ্লীল দৃশ্য তৈরি করা হয়েছিল
- 📌 মান্না একা চলচ্চিত্র শিল্পের অশ্লীলতা বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং কতিপয় সৎ পরিচালক ও কলাকুশলীদের সাথে একজোট হন
- 📌 মান্না একার পক্ষে চলচ্চিত্র শিল্পের অশ্লীলতা বিরোধী লড়াইয়ে নানা ধরনের কুৎসিত আলোচনা ও সমালোচনার মুখোমুখি হন
📰 বিস্তারিত
ঢাকার চলচ্চিত্র শিল্পে নব্বই দশকের শেষভাগ ও দুই হাজারের দশকের শুরুতে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে মান্না একা লড়াই করতেন। ‘ফায়ার’ সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্যের অভিযোগ উঠলে তিনি সিনেমাটি পুরোপুরি পরিত্যাগ করেন। মান্নার নিজস্ব ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ফায়ার’-এ অর্ধেক কাজ করার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্য তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘একটি সিনেমায় সহশিল্পী, পরিচালক বা প্রযোজক কী করছেন, তা একজন অভিনেতার পক্ষে সবসময় পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে নিজের অভিনয়ের শতভাগ সততা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মান্না দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করেননি।’
মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই পুরো ঘটনার পেছনের অন্ধকার সত্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘ফায়ার’ সিনেমাটি মুক্তির পর অশ্লীল দৃশ্যের কারণে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। মান্না সিনেমাটির কাজ অসমাপ্ত রেখে সরে দাঁড়ানোর পর তার অজান্তেই বিকল্প উপায়ে বডি ডামি ব্যবহার করে বেশ কিছু সংবেদনশীল ও বিতর্কিত দৃশ্যের শুটিং করা হয়েছিল। শেলী মান্নার ভাষ্যমতে, মান্না সময়মতো বুঝতে পেরেছিলেন যে তার অজান্তে চলচ্চিত্রে এমন কিছু করা হচ্ছে যা তার সম্মান ও আদর্শের পরিপন্থী।
মান্না একা চলচ্চিত্র শিল্পের অশ্লীলতা বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিনি কতিপয় সৎ পরিচালক, ফাইট ডিরেক্টর ও কলাকুশলীদের সাথে একজোট হয়ে অশ্লীলতামুক্ত মানসম্মত সামাজিক সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। মান্নার এই প্রতিবাদী ভূমিকা তাকে নানা ধরনের কুৎসিত আলোচনা, অপপ্রচার ও সমালোচনার মুখোমুখি করে তোলে। তৎকালীন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এক নেতা জানান, তৎকালীন চলচ্চিত্রে কাটপিস ও অশ্লীল দৃশ্য সংযোজন করার একটি অসাধু চর্চা মহামারী আকার ধারণ করেছিল। মান্না একা এর বিরুদ্ধে চরম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
"একটি সিনেমায় সহশিল্পী, পরিচালক বা প্রযোজক কী করছেন, তা একজন অভিনেতার পক্ষে সবসময় পাহারা দেওয়া বা যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে নিজের অভিনয়ের শতভাগ সততা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মান্না দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করেননি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মান্না, শেলী মান্না
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০২ (সিনেমা মুক্তির বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!