📌 মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি হামলার পর আবার আলোচিত হল লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধ চক্র। সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা তারকাদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তিন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে, যাদের একজন বিষ্ণোইয়ের সহযোগী অনিল পণ্ডিতের সাথে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
মুম্বাইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি হামলার পর আবার আলোচিত হয়েছে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধ চক্র। এই হামলায় অভিনেতার শরীরে গুলি লাগেনি, তবে তাঁর গাড়িচালকসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হামলার পর বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়ানো বার্তায় শুধু টাইগার শ্রফকে নিশানা করার দায়ই দাবি করা হয়নি, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে একটি হামলার তদন্তের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বলিউডকে ঘিরে এই অপরাধী চক্রের তৎপরতা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুম্বাইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি হামলায় দুজন গুলিবিদ্ধ হন, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের চক্রের দায় স্বীকারের বার্তা ছড়ানো হয়
- 📌 সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা তারকাদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বিষ্ণোই চক্রের পোস্টে
- 📌 রাজস্থানের কোটায় তিন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়, তাদের একজন অনিল পণ্ডিতের সাথে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়
- 📌 লরেন্স বিষ্ণোই ১৯৯৩ সাল থেকে অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন, কারাগারে থাকা অবস্থায়ও চক্র পরিচালনা করছেন
- 📌 সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের বিরোধের শুরু ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায়
- 📌 ২০২২ সালে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালার হত্যার পর থেকে বিষ্ণোই চক্রের নাম আলোচিত
- 📌 ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল সালমানের বাসভবনে গুলি হামলা, ১২ অক্টোবর সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকের হত্যা — উভয় ঘটনায় বিষ্ণোই চক্রের লক্ষ্য ছিল সালমান
📰 বিস্তারিত
মুম্বাইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি হামলায় দুজন গুলিবিদ্ধ হন। এই হামলায় অভিনেতার শরীরে গুলি লাগেনি, তবে তাঁর গাড়িচালকসহ দুজন আহত হন। হামলার পর বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়ানো বার্তায় শুধু টাইগার শ্রফকে নিশানা করার দায়ই দাবি করা হয়নি, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে একটি হামলার তদন্তের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে বলিউডকে ঘিরে এই অপরাধী চক্রের তৎপরতা।
সোমবার রাজস্থানের কোটায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক একজনসহ তিন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। কোটার পুলিশ সুপার তেজস্বিনী গৌতম জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের একজন রেহানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের কথিত সহযোগী অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে দায় স্বীকারের পোস্টটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। লরেন্স বিষ্ণোই নিজে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন কি না, সেটিও প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।
লরেন্স বিষ্ণোই ১৯৯৩ সালে পাঞ্জাবের গ্রাম থেকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। শৈশব কাটানোর পর পড়াশোনার জন্য চণ্ডীগড়ে যান। ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলায়। গ্রেপ্তার ও কারাবাসের মধ্যেও অন্য অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন লরেন্স। কারাগারের বাইরের সহযোগীদের মাধ্যমে বিস্তৃত হয়েছে তাঁর চক্র। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বহু অভিযোগ অবশ্য তিনি অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তিনি গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে সালমান খানের বিরোধের সূত্রপাত ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায়। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের সময় সালমানের বিরুদ্ধে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ প্রাণীটিকে পবিত্র মনে করেন এবং বন্য প্রাণী রক্ষায় তাঁদের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ২০১৮ সালে ওই মামলায় সালমানের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়; পরে তিনি জামিন পান। একই বছর প্রকাশ্যে অভিনেতাকে হত্যার হুমকি দেন লরেন্স। পরবর্তী সময়েও সালমানকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালার হত্যার পর থেকে বিষ্ণোই চক্রের নাম আলোচিত। বিদেশ থেকে হত্যার দায় স্বীকার করেন গোল্ডি ব্রার। ভারতের তদন্ত সংস্থাগুলোও ওই হত্যাকাণ্ডে বিষ্ণোইয়ের সহযোগীদের অভিযুক্ত করে। এরপর ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে গুলি চালান মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি বিষ্ণোই চক্রের নির্দেশে হয়েছিল। লরেন্সের ভাই আনমোলের নামে ছড়ানো বার্তায় ঘটনাটিকে ভবিষ্যৎ হামলার সতর্কসংকেত হিসেবে তুলে ধরা হয়।
২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে খুন হন মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিক। সালমানসহ বলিউডের বহু তারকার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। হত্যার পর বিষ্ণোই চক্রের নামে দেওয়া পোস্টে সালমানকে সহায়তা করা ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে সালমানের নিরাপত্তার প্রশ্নটি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের নিরাপত্তার উদ্বেগেও বিস্তৃত হয়।
"লরেন্স বিষ্ণোইয়ের চক্রের সদস্যদের মধ্যে তথ্য সীমিত রাখা হয়। ফলে একজন ধরা পড়লেও অন্যদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই (জুহু), রাজস্থান (কোটা), পাঞ্জাবের গ্রাম, চণ্ডীগড়, গুজরাট (আহমেদাবাদ), মুম্বাই (বান্দরা), মুম্বাই (জুহুর বাড়ি), কানাডা (সারেত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লরেন্স বিষ্ণোই, সালমান খান, টাইগার শ্রফ, গোল্ডি ব্রার, সিধু মুসেওয়ালা, বাবা সিদ্দিক, অনিল পণ্ডিত, রেহান, পুলিশ সুপার তেজস্বিনী গৌতম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৯৩ (লরেন্সের অপরাধজগতে প্রবেশ), ১৯৯৮ (কৃষ্ণসার হরিণ শিকার), ২০১৮ (সালমানের কারাদণ্ড), ২০২২ (সিধু মুসেওয়ালার হত্যা), ১৪ এপ্রিল ২০২৪ (সালমানের বাসভবনে গুলি), ১২ অক্টোবর ২০২৪ (বাবা সিদ্দিকের হত্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!