📌 বলিউডে সাফল্য পেলেও কমল হাসান ফিরে গেলেন দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে। কাজের ধীরগতি, অনিয়ম, আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব এবং স্বাধীনতার অভাব ছিল তাঁর সিদ্ধান্তের মূল কারণ। ৭ নভেম্বর তাঁর জন্মদিনে ফিরে দেখা যায় তাঁর বলিউডের অধ্যায়
বলিউডের মঞ্চে সাফল্য অর্জন করেও দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কমল হাসানকে নানা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। ৭ নভেম্বর তাঁর জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তাঁর বলিউডের অদৃশ্য সফর। সাফল্য পেলেও কেন ফিরে গেলেন তিনি? তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে কী ছিল?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭৪ সালে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক হলেও ১৯৮১ সালে ‘এক দুজে কে লিয়ে’ ছবিতে বলিউডে পরিচিতি পান কমল হাসান।
- 📌 ‘সদমা’ ও ‘সাগর’ ছবিতে শ্রীদেবী ও ঋষি কাপুরের সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করে তোলেন।
- 📌 বলিউডে একটি ছবি তৈরি করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতো, যা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে একাধিক ছবিতে কাজ করার সুযোগ দিতো।
- 📌 মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রজগতের আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব ও তারকাদের জীবনযাপনের স্বাধীনতার অভাব তাঁকে দক্ষিণে ফিরতে বাধ্য করে।
- 📌 ১৯৯৭ সালের ‘চাচি ৪২০’ ছবির পর নিয়মিত বলিউডে ফিরেননি কমল হাসান।
📰 বিস্তারিত
কমল হাসানের বলিউড যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে কে বালাচন্দরের ‘আইনা’ ছবিতে। তবে তাঁর বলিউডে পরিচিতি আসে ১৯৮১ সালে ‘এক দুজে কে লিয়ে’ ছবিতে। এই ছবিতে তিনি রতি অগ্নিহোত্রীর বিপরীতে অভিনয় করেন। ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পায় এবং রাতারাতি হিন্দি দর্শকের কাছে পরিচিতি পান কমল। এরপর ‘সনম তেরি কসম’, ‘ইয়ে তো কামাল হো গয়া’, ‘জারা সি জিন্দেগি’ ও ‘সদমা’ ছবিতে অভিনয় করেন। বিশেষ করে ‘সদমা’তে শ্রীদেবীর সঙ্গে তাঁর অভিনয় আজও ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় জুটি হিসেবে আলোচিত হয়।
১৯৮৫ সালে মুক্তি পাওয়া রমেশ সিপ্পির ‘সাগর’ ছবিতে ঋষি কাপুর ও ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে অভিনয় করে কমল হাসান নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি জানান দেন। একই বছর অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘গেরাফতার’ ছবিতেও দেখা যায় তাঁকে। বলিউডে তাঁর অবস্থান শক্ত হচ্ছিল, কিন্তু এত সাফল্যের পরও তিনি নিয়মিত হলেন না। ১৯৮৫ সালের পর দীর্ঘ বিরতি। ১৯৯৭ সালে ‘চাচি ৪২০’ দিয়ে আবার হিন্দি ছবিতে ফিরলেও আগের মতো নিয়মিত হননি।
কমল হাসান বলিউড ছাড়ার কারণ হিসেবে কাজের ধীরগতি ও অনিয়মকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, একটি ছবি তৈরি করতে মুম্বাইয়ে দুই থেকে তিন বছর লেগে যেত। ওই সময়ে দক্ষিণ ভারতে তিনি প্রায় সাতটি ছবিতে কাজ করতে পারতেন। তিনি মনে করতেন, একজন অভিনেতার কর্মজীবন খুব দীর্ঘ নয়। তাই একটি ছবির পেছনে বছরের পর বছর আটকে থাকা তাঁর কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি।
তিনি মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার তুলনা করতে গিয়ে নিজেকে বলিউডের ‘গরিব আত্মীয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বলিউডের অনেক অভিনেতা একই সঙ্গে ছয়টি ছবিতে কাজ করতে পারতেন, কিন্তু কমলকে নিজের কাজের পাশাপাশি দৈনন্দিন বিষয়ও সামলাতে হতো। তিনি বলেছেন, মুম্বাইয়ের তারকাদের জীবনযাপন ছিল অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও বিলাসী। অন্যদিকে তিনি এমন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না।
"একটি ছবি তৈরি করতে মুম্বাইয়ে দুই থেকে তিন বছর লেগে যেত। ওই সময়ে দক্ষিণ ভারতে আমি প্রায় সাতটি ছবিতে কাজ করতে পারতাম। তাই আমি ফিরে গিয়েছিলাম নিজের পরিচিত চলচ্চিত্রজগতে।"
আন্ডারওয়ার্ল্ড ও কালোটাকার অভিযোগও কমল হাসানের বলিউড ছাড়ার আলোচনায় বিতর্কিত বিষয়। তিনি বলেছেন, মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগাযোগ ছিল অনেক বেশি। সেই পরিস্থিতিতে তিনি থাকতে চাননি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কমল হাসান, শ্রীদেবী, ঋষি কাপুর, ডিম্পল কাপাডিয়া, অমিতাভ বচ্চন, কে বালাচন্দর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ নভেম্বর (জন্মদিন), ১৯৮১ (বলিউডে পরিচিতি), ১৯৯৭ (চাচি ৪২০), ৪২০ (চাচি ৪২০ ছবির নাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!