📌 কলকাতার ইরান সোসাইটি ও ছায়ানটের উদ্যোগে ১২ অক্টোবর হাফিজ দিবস উদযাপনে অনুষ্ঠিত হয় নজরুল সাহিত্য ও ইরানীয় প্রভাব নিয়ে আলোচনা ও কবিতা পাঠ। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীরা অংশ নেন এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে
কলকাতায় ইরান সোসাইটির উদ্যোগে এবং ছায়ানটের (কলকাতা) সাংস্কৃতিক উদ্যোগে ১২ অক্টোবর হাফিজ দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিলো কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীতের মধ্যে ইরানীয় প্রভাবের আলোচনা। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশিষ্ট আলোচক, কবি ও শিল্পীরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ অক্টোবর কলকাতায় ইরান সোসাইটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় নজরুল-স্মরণ অনুষ্ঠান, যেখানে আলোচিত হয় নজরুল সাহিত্য ও সংগীতের মধ্যে ইরানীয় প্রভাব।
- 📌 অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরান সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ মানসুর আলম এবং ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতা মল্লিক।
- 📌 বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহমদ হাসান ইমরান (পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক), ওয়াএজুল হক এবং মনিরুল ইসলাম।
- 📌 অনুষ্ঠানে নজরুল-অনূদিত কাব্যগ্রন্থ ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ ও ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ থেকে রুবাই পাঠ করেন ছায়ানটের বাচিকশিল্পীরা।
- 📌 সোমঋতা মল্লিক পরিচালনায় পরিবেশিত হয় দুটি নজরুলসংগীত: ‘পরি’ জাফরানি ঘাগরি’ ও ‘বুলবুলি নীরব নার্গিস-বনে’।
- 📌 নজরুলের ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ বইটিতে লেখা আছে: “বাঙলার শাসনকর্ত্তা গিয়াসুদ্দিনের আমন্ত্রণকে ইরানের কবি সম্রাট হাফিজ উপেক্ষা করেছিলেন। আমার আহ্বান উপেক্ষিত হয়নি। যে পথ দিয়ে আমার পুত্রের ‘জানাজা’ চলে গেল, সেই পথ দিয়ে আমার বন্ধু, আমার প্রিয়তম ইরানী কবি আমার দ্বারে এলেন।”
📰 বিস্তারিত
১২ অক্টোবর ইরানে উদযাপিত হাফিজ দিবসের তাৎপর্য অনুধাবন করে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান। ইরানের বিখ্যাত কবি হাফিজের সাহিত্যকর্ম ও সুফি দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীতের মধ্যে ইরানীয় প্রভাবের আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ছায়ানটের (কলকাতা) বাচিকশিল্পীরা তিস্তা দে, সোমা রায়, অন্বেষা মুখার্জী, দেবলীনা চৌধুরী, শর্মিষ্ঠা রায়, পারমিতা চৌধুরী, পিয়ালী ঘোষ, মৌমিতা ঘোষ, অনিন্দিতা ঘোষ। তারা নজরুল-অনূদিত কাব্যগ্রন্থ ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ ও ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ থেকে রুবাই পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে নজরুলের দুটি সংগীত পরিবেশন করা হয়: ‘পরি’ জাফরানি ঘাগরি’ ও ‘বুলবুলি নীরব নার্গিস-বনে’। এই গান দুটি নজরুলের ইরানের প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন অথবা ইরানীয় সুর থেকে অনুপ্রাণিত। এই গানগুলো পরিবেশন করেন চম্পা মিত্র, বিচিত্রা ঘোষ, নন্দিনী নন্দী, স্বাতী ভট্টাচার্য, সোমা রায় বর্মণ, গৌরী ধর, চন্দ্রা মজুমদার এবং সুরূপা মল্লিক।
নজরুলের ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ বইটি তার প্রিয় পুত্র বুলবুলের স্মরণে লেখা। বইটির মুখবন্ধে নজরুল লিখেছেন, “হাফিজকে আমরা কাব্য-রস-পিপাসুর দল কবি বলেই সম্মান করি। তাঁর কবিতায় সুফি দর্শনের আভাস পাওয়া যায়। ইরানের অধিকাংশ কবিই শারাব-সাকী নিয়ে দিন কাটাতেন, কিন্তু কাব্যে তারা প্রেমের আনন্দের প্রতীকরূপেই গ্রহণ করেছিলেন মদিরাকে।”
"বাঙলার শাসনকর্ত্তা গিয়াসুদ্দিনের আমন্ত্রণকে ইরানের কবি সম্রাট হাফিজ উপেক্ষা করেছিলেন। আমার আহ্বান উপেক্ষিত হয়নি। যে পথ দিয়ে আমার পুত্রের ‘জানাজা’ চ’লে গেল, সেই পথ দিয়ে আমার বন্ধু, আমার প্রিয়তম ইরানী কবি আমার দ্বারে এলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, ইরান সোসাইটি ও ছায়ানটের (কলকাতা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ মানসুর আলম, সোমঋতা মল্লিক, আহমদ হাসান ইমরান, ওয়াএজুল হক, মনিরুল ইসলাম
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ অক্টোবর (তারিখ), ৬টা ৩০ মিনিট (অনুষ্ঠান শুরু), ২ ঘণ্টা (অনুষ্ঠান দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!