📌 খুরশীদ আলমের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১ আগস্ট জয়পুরহাটের হারুঞ্জা গ্রামে। তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়ক হিসেবে সত্তরের ও আশির দশকে রেডিওতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ৮০ বছর বয়সেও তিনি গানের প্রতি অনুরাগী এবং সুরে অবিরাম
বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়ক মো. খুরশীদ আলমের কণ্ঠে সুরের মধুরতা এখনো মানুষের মনে জাগ্রত। সত্তরের ও আশির দশকে রেডিও ছিল বিনোদনের প্রধান মাধ্যম, এবং খুরশীদ আলমের গান সেই সময়ের মানুষের জীবনে বিশেষ স্থান পেয়েছিল। তার গানগুলি রেডিওতে প্রচারিত হতো এবং জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুরশীদ আলমের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১ আগস্ট জয়পুরহাটের হারুঞ্জা গ্রামে, কিন্তু শৈশব কাটে ঢাকায়
- 📌 তার পরিবার শিক্ষিত ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল; বাবা ছিলেন ঢাকার নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং দাদা ছিলেন ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক
- 📌 খুরশীদ আলমের গানের যাত্রা শুরু হয় চাচার কাছ থেকে এবং তিনি কলেজ অব মিউজিকে ওস্তাদ বারীণ মজুমদারের কাছে গান শিখেন
- 📌 ১৯৬২ ও ১৯৬৩ সালে তিনি তৎকালীন এডুকেশন উইকে রবীন্দ্রসংগীত ও আধুনিক গানে সাফল্য পান
- 📌 ১৯৬৬ সালে বাংলাদেশ বেতারে অডিশন দেন এবং বোর্ডের সদস্য সমর দাসের পরামর্শে তিনি গানের কৌশল উন্নত করেন
- 📌 ১৯৬৯ সালে তিনি চলচ্চিত্রে প্রথম গান গান ‘বন্দী পাখির মতো’ এবং তারপর থেকে তিনি বাংলাদেশের প্রায় সব সুরকারের গান গেয়েছেন
- 📌 ২০২৬ সালের ১ আগস্ট তিনি ৮০ বছর বয়স পূর্ণ করেছেন, কিন্তু তার গানের প্রতি অনুরাগ অব্যাহত
📰 বিস্তারিত
মো. খুরশীদ আলমের কণ্ঠে সুরের মধুরতা বাংলাদেশের কৈশোরকে রঙিন ও আনন্দময় করে তুলেছিল। সত্তরের ও আশির দশকে টেলিভিশন ঢাকার বাইরে পৌঁছেনি, রেডিওই ছিল সবার সঙ্গী। খবর শুনতে বিবিসি বাংলা এবং বিনোদনের জন্য বেতার। গরমের ছুটিতে মাদুর পেতে বসে শুনতেন ‘গানের ডালি’, ‘অনুরোধের আসর’ এবং সৈনিক ভাইদের জন্য অনুষ্ঠান ‘দুর্বার’। খুরশীদ আলমের গান ‘মা গো মা, ওগো মা, আমারে বানাইলা তুই দিওয়ানা’ এবং ‘পাখির বাসার মতো দুটি চোখ তোমার’ সেই সময়ের জনপ্রিয় গান ছিল।
খুরশীদ আলমের পরিবার শিক্ষিত ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল। তার বাবা এ এফ তসলিম উদ্দিন আহমেদ ঢাকার নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক ছিলেন। দাদা জসীমউদ্দীন আহমেদ ছিলেন ইন্সপেক্টর অব স্কুলস এবং ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক। চার চাচার মধ্যে একজন ইংরেজির অধ্যাপক, একজন চিকিৎসক এবং একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। খুরশীদ আলমের গানের প্রতি আগ্রহও পরিবারের ঐতিহ্য থেকে শুরু হয়েছিল। তিনি প্রথমে দাদার স্কুল ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু দাদার শাসন পছন্দ করেননি। তিনি বলেছিলেন, ‘ছবি আঁকতে...একটুতেই হাতে মারে।’ তাই তিনি স্কুল বদল করে বাবার স্কুল নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে চলে আসেন। পড়াশোনায় খুব একটা মন ছিল না, নিজের ভাষায় তিনি বলেছিলেন, ‘পড়ালেখায় খুব বেশি ইয়ে ছিলাম না। খালি গান।’
গানের দিকে যাত্রা শুরু হয় চাচার কাছ থেকে। তিনি মেডিক্যাল কলেজকেন্দ্রিক একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীতে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, পল্লিগীতি এবং নাচ চর্চা করতেন। পরে তিনি কলেজ অব মিউজিকে ওস্তাদ বারীণ মজুমদারের কাছে গান শেখেন। তিনি জগন্নাথ কলেজে পড়াশোনা করতেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ পড়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু গানই শেষ পর্যন্ত তাঁকে টেনে নিয়েছিল।
১৯৬২ ও ১৯৬৩ সালে তিনি তৎকালীন এডুকেশন উইকে রবীন্দ্রসংগীত ও আধুনিক গানে পরপর সাফল্য পান। তিনি বলেছিলেন, ‘সব ভারতীয় শিল্পীদের গান জানতাম এবং প্রচুর গান শুনতাম।’ তিনি নিয়মিত শুনতেন রেডিও সিলনের ‘বিনাকা গীতমালা’ এবং আকাশবাণী কলকাতার ‘অনুরোধের আসর’। ১৯৬৬ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতারে অডিশন দেন। বোর্ডে ছিলেন আবদুল আহাদ, ফেরদৌসী রহমান ও সমর দাস। সমর দাস তাঁর গান শুনে বলেছিলেন, ‘গলা ভালো, কিন্তু একজনকে কপি করে।’ পরে তিনি ছয় মাস সমর দাসের কাছে অনুশীলন করেন। তিনি বলেন, ‘ছয় মাস এটা করার পর তারপর উনি বললেন, “এইবার তোকে ছেড়ে দিলাম, ১০ জনের সঙ্গে গাবি, তোর গলা আলাদা হবে।”’
"এইবার তোকে ছেড়ে দিলাম, ১০ জনের সঙ্গে গাবি, তোর গলা আলাদা হবে।"
বেতারে আজাদ রহমানের সুরে খুরশীদ আলমের দুটি গান রেকর্ড হয়, ‘তোমার দুহাত ছুঁয়ে শপথ নিলাম’ এবং ‘চঞ্চল দুনয়নে বলো না কী খুঁজছ’। দ্বিতীয় গানটির গীতিকার জেবুন্নেসা জামাল এবং প্রথমটির গীতিকার কবি সিরাজুল ইসলাম। এই গান দুটি জনপ্রিয় হয় এবং পরে পাকিস্তানে ডিস্ক আকারেও প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর ১৯৬৯ সালে তিনি চলচ্চিত্রে প্রথম গান গান ‘বন্দী পাখির মতো’। এই গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নায়করাজ রাজ্জাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও। খুরশীদ আলমের ভাষায়, প্রযোজক গানটি নিয়ে দ্বিধায় পড়লে আজাদ রহমান বলেছিলেন, তাঁকে দিয়ে গানটি না গাওয়ালে তিনি ছবির সংগীত পরিচালক থাকবেন না। শেষ পর্যন্ত রেকর্ডিং হলো।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জয়পুরহাটের হারুঞ্জা গ্রাম, নবাবপুর, কলকাতা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. খুরশীদ আলম, এ এফ তসলিম উদ্দিন আহমেদ, জসীমউদ্দীন আহমেদ, ওস্তাদ বারীণ মজুমদার, সমর দাস, আজাদ রহমান, রাজ্জাক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ বছর, ১৯৪৬, ১ আগস্ট, ১০ জন, ৮০ বার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!