📌 ৬০ বছর বয়সে অভিনেতা জাহিদ হাসান নিজের জীবনের ভুলের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনকে মানুষের কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। লন্ডনে পড়াশোনা করছেন তার মেয়ে, যার কথা মনে পড়লে তিনি কান্না পান। মেসজীবনের কষ্ট থেকে তিনি শিখেছেন ছাড় দেওয়ার মূল্য
৬০ বছর বয়সে অভিনেতা জাহিদ হাসান নিজের জীবনের ভুলের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন এবং মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অভিনয়শিল্পী জাহিদ হাসান ৪ অক্টোবর ২০২৬ তার জন্মদিন পালন করছেন। তিনি বলেছেন, ‘জীবনে অনেক ভুল করেছি। মানুষ ভুল করবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমিও মানুষ। বিগত দিনের ভুলের জন্য কিংবা কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত। আগামী জীবনটা যেন মানুষের জন্য কিছু করতে পারি। জীবনটা যেন মানুষের কাজে আসে।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬০ বছর বয়সে অভিনেতা জাহিদ হাসান নিজের ভুলের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন এবং মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
- 📌 লন্ডনে পড়াশোনা করছেন তার মেয়ে, যার কথা মনে পড়লে তিনি কান্না পান। মেয়ের কথা শুনে তিনি বলেন, ‘মন খারাপ হয়ে যায়’।
- 📌 মেসজীবনের কষ্ট থেকে তিনি শিখেছেন ছাড় দেওয়ার মূল্য এবং ভাগাভাগি করার গুরুত্ব।
- 📌 অভিনয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগে মেসজীবনে থাকাকালীন এক আইনজীবীর কথা মনে পড়ে জাহিদ হাসান। তিনি বলেছিলেন, ‘একদিন সারা দেশ তোমার জন্মদিন পালন করবে’।
- 📌 জাহিদ হাসান সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার সময় থিয়েটারে কাজ করতে শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘কষ্টের মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে’।
📰 বিস্তারিত
জাহিদ হাসান পরিবারের সবার ছোট। তিনি বলেছেন, ‘অনেকের কাছে আমি বড় হলেও পরিবারের সবার ছোট, তাই আজীবনই সবার কাছে ছোটই থেকে গেলাম। বয়স যে এতটা বেড়েছে, তা ভাবনার মধ্যে আসে না।’ তিনি নিজের জীবনের ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় চেয়েছি, সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে। সেই চেষ্টা এখন আরও বেশি। আমার কাছে মনে হয়, সবাইকে নিয়ে এগোনোর চিন্তা করলে দেশেরও উন্নতি হবে।’
জাহিদ হাসানের দুই সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে পড়ছেন। ছেলে এ লেভেল শেষ করেছেন এবং শিগগিরই তিনিও দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবেন। জাহিদ বলেন, ‘দেশের বাইরে থাকা মেয়েকে প্রায়ই মনে পড়ে। ফোনে কথা হলে মেয়ে যখন বলে, ‘বাবা, এই খাবারটা মিস করছি, তোমাকে মিস করছি, বাসার সবাইকে মিস করছি’—তখন মন খারাপ হয়ে যায় জাহিদের। মেয়ের কথা মনে করে কখনো কখনো কান্নাও পায় তাঁর।’
জাহিদ হাসানের জন্মদিনের স্মৃতি তার পরিবারের ছোট ছেলে হওয়ায় বিশেষ ছিল। মা পায়েসসহ নানা খাবার রান্না করতেন, কেক আসত, থাকত চানাচুর, কলা আরও কত কিছু। কিন্তু ঢাকায় আসার পর মেসজীবনে থাকাকালীন সেই চিত্র বদলে যায়। ১৯৮৯ সালের এক জন্মদিনে ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের একটি মেসের ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন তিনি। চার-পাঁচজন মিলে একটি ঘরে থাকতেন। রান্নার জন্য বুয়া থাকলেও সব সময় খাবার মুখে তোলার মতো হতো না। সেই জন্মদিনে মেসের এক রুমমেটের বাবা, পেশায় আইনজীবী, জাহিদের জন্মদিনের কথা শুনে বলেছিলেন, ‘মন খারাপ কোরো না পুলক, এমন একটা দিন আসবে, যেদিন সারা দেশের মানুষ তোমার জন্মদিন পালন করবে।’
অভিনয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে আলোচনা হলে সেই মানুষটির কথা মনে পড়ে জাহিদ হাসানের। তিনি বলেন, ‘অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছিলাম। থিয়েটারে কাজ করতে গিয়ে শুরুতে দলের ঘর মোছা থেকে শুরু নানা কাজ করতে হয়েছে। পরে গড়ে ওঠে নাট্যকেন্দ্র। মেসজীবনের সেই কষ্টও তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কষ্টের মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে, আবার কষ্টের মধ্যে অশান্তিও আছে। জীবনে কোনো কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। তাই কষ্টের পরের সুখটা আসলে অন্য রকম।’
মেসজীবনের একটি মজার স্মৃতি মনে করে জাহিদ বলেন, বাথরুমে সাবান-শ্যাম্পু রেখে এলে অন্যরা ব্যবহার করত। এতে তাঁর আপত্তি ছিল না। তাঁর কাছে সেটিও ছিল একসঙ্গে থাকার জীবনের স্বাভাবিক অংশ।
"জীবনে অনেক ভুল করেছি। মানুষ ভুল করবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমিও মানুষ। বিগত দিনের ভুলের জন্য কিংবা কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত। আগামী জীবনটা যেন মানুষের জন্য কিছু করতে পারি। জীবনটা যেন মানুষের কাজে আসে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ধানমন্ডি ১৫), লন্ডন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহিদ হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর বয়স, ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!