📌 নাট্যকার, অভিনেতা ও শিক্ষাবিদ ইনামুল হকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ করা হচ্ছে। ৭৮ বছর বয়সে ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর মৃত্যুবরণকারী তিনি ছিলেন নাট্যাঙ্গনের অন্যতম আলোকিত ব্যক্তিত্ব। শিক্ষকতা, নাট্যরচনা ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতে অমর হয়ে থাকবেন
বাংলাদেশের নাট্য, অভিনয় ও শিক্ষা জগতে এক অমর নাম — ইনামুল হক। তার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ স্মরণ করা হচ্ছে এই বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অসামান্য অবদান। ৭৮ বছর বয়সে ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর মৃত্যুবরণকারী ইনামুল হক ছিলেন একজন অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ও দীর্ঘ ৪৩ বছরের শিক্ষক। বেইলি রোডের বাসায় চেয়ারে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭৮ বছর বয়সে ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন অভিনেতা ও নাট্যকার ইনামুল হক।
- 📌 ৪৩ বছর শিক্ষকতা জীবনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষদ ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- 📌 ৬০টি টেলিভিশন নাটক লিখেছেন তিনি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সেইসব দিনগুলি’, ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’।
- 📌 ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ইনামুল হক।
- 📌 ১৯৯৫ সালে নিজস্ব নাট্য দল ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং মৃত্যুর আগপর্যন্ত সভাপতি ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নে ১৯৪৩ সালের ২৯ মে জন্মগ্রহণকারী ইনামুল হক তার শৈশব কাটানোর সময়ই নাট্য ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। সাত বছর বয়সে মা রাজিয়া খাতুনকে হারানোর পর তিনি ফুফুর কাছে বেড়ে ওঠেন। ফুফা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ায় পরিবার বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে যেতেন, যা ইনামুল হকের শৈশবকে প্রভাবিত করেছিল।
ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে ঢাকায় আসেন ইনামুল হক। নটর ডেম কলেজে পড়ার সময়ই তিনি অভিনয়ের শুরু করেন। ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে অভিনয় করে তিনি মঞ্চজগতে পদার্পণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেন। বিজ্ঞান শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি নাটক ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ বজায় রেখেছিলেন।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ইনামুল হক ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ ও ‘নূরুলদীনের সারাজীবন’ নাটকে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি নিজস্ব নাট্য দল ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং মৃত্যুর আগপর্যন্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
"নাটক লেখা, অভিনয় ও নির্দেশনায় তাঁর অবদান বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে অমর হয়ে থাকবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বেইলি রোড বাসা), ফেনী সদর উপজেলা (মোটবী ইউনিয়ন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইনামুল হক, ওবায়দুল হক, রাজিয়া খাতুন, লাকী ইনাম, হৃদি হক, প্রৈতি হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৮ বছর (বয়স), ১১ অক্টোবর (মৃত্যুবার্ষিকী), ৪৩ বছর (শিক্ষকতা), ৬০টি (টেলিভিশন নাটক), ১৫ বছর (চেয়ারম্যান), ২ বছর (অনুষদ ডিন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!