📌 হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে অসাধারণ মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত টেড ক্যাকজিনস্কি পরবর্তীকালে বিশ্বের বিখ্যাত বোমা হামলাকারী 'ইউনাবোম্বার' হিসেবে পরিচিতি পান। নেটফ্লিক্সের নতুন চলচ্চিত্র 'ইউনাবোম্বার' তার অন্ধকার জীবনযাত্রার গল্প তুলে ধরেছে
১৯৪২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে জন্মগ্রহণকারী টেড ক্যাকজিনস্কি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিতি পান। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি বিশ্বের বিখ্যাত বোমা হামলাকারী 'ইউনাবোম্বার' হিসেবে পরিচিতি পান। নেটফ্লিক্সের নতুন চলচ্চিত্র 'ইউনাবোম্বার' তার অন্ধকার জীবনযাত্রার গল্প তুলে ধরেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে অসাধারণ মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত টেড ক্যাকজিনস্কি ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ১৬টি বোমা হামলায় জড়িত ছিলেন, যার ফলে ৩ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হন
- 📌 চলচ্চিত্রে তার তরুণ বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যাকব ট্রেম্বলে, হেনরি মারের চরিত্রে রাসেল ক্রো, জোয়ান মিলারের চরিত্রে শেইলিন উডলি এবং ক্রিস্টিয়ানা মরগানের চরিত্রে অ্যানাবেল ওয়ালিস
- 📌 পরিচালক জানুস মেটজ বলেছেন, চলচ্চিত্রটি টেডের হার্ভার্ডের সময়কালকে তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভঙ্গুর সময় হিসেবে তুলে ধরেছে
- 📌 ১৯৯৫ সালে টেড ক্যাকজিনস্কি একটি ৩৫ হাজার শব্দের দীর্ঘ ইশতেহার প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন এবং এফবিআই তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়
📰 বিস্তারিত
১৬ বছর বয়সে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া টেড ক্যাকজিনস্কি গণিতে অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন। পরে তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে গণিতে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২৫ বছর বয়সে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে গণিতের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু ১৯৬৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দেন এবং সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে শুরু করেন। তিনি মন্টানার লিংকনের কাছে একটি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি ছোট কেবিনে বসবাস শুরু করেন, যেখানে বিদ্যুৎ বা পানির সরবরাহ ছিল না। তার দিন কাটতো পড়াশোনা, শিকার এবং গাছপালা পরিচর্যার মধ্য দিয়ে।
১৯৭৮ সালে শুরু হয় তার বোমা হামলার অধ্যায়। প্রথম হামলায় একটি হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডাকযোগে নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরের বছর আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে বিস্ফোরক যন্ত্র রাখা হয়, যার ফলে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বিমান জরুরি অবতরণ করতে হয়। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত মোট ১৬টি হামলায় তিনি জড়িত ছিলেন, যার ফলে তিনজন নিহত এবং ২৩ জন আহত হন। এফবিআই এই মামলার সাংকেতিক নাম দিয়েছিল 'ইউনাবম'।
১৯৯৫ সালে টেড ক্যাকজিনস্কি একটি ৩৫ হাজার শব্দের দীর্ঘ ইশতেহার 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট' ও 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস'-এ প্রকাশের দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, লেখাটি প্রকাশ করতে হবে। ইশতেহারে তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ ও শিল্পসভ্যতার বিরুদ্ধে তার অবস্থান তুলে ধরেন। এফবিআই শেষ পর্যন্ত লেখাটি প্রকাশের পক্ষে যায়। তার ভাই ডেভিডের স্ত্রী লিন্ডা প্যাট্রিক লেখাটি পড়ার পর কিছু ভাষাগত ও ভাবগত মিল খুঁজে পান এবং তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
"টেড ক্যাকজিনস্কির হার্ভার্ডের সময়টাকে আমরা তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভঙ্গুর সময় হিসেবে দেখেছি। অন্ধকার ও আরও ভয়ংকর পথে যাত্রা শুরুর আগপর্যন্ত এই তরুণ মানুষটি আসলে কে ছিলেন, সেটি বোঝাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় (ম্যাসাচুসেটস), ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলে, মন্টানা (লিংকন), যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: টেড ক্যাকজিনস্কি, জ্যাকব ট্রেম্বলে, রাসেল ক্রো, শেইলিন উডলি, অ্যানাবেল ওয়ালিস, জানুস মেটজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬টি বোমা হামলা, ৩ জন নিহত, ২৩ জন আহত, ৩৫ হাজার শব্দের ইশতেহার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!