📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী একটি গোধূলি সৈকতে একা বসে থাকা এক মহিলাকে 'নয়নী' বলে ডাকার গল্প লিখেছেন। মহিলাটি তার পুরোনো চিঠি থেকে জানান যে, তার প্রিয়জনকে সমুদ্র কেড়ে নিয়েছে এবং তিনি এখনও তার জন্য অপেক্ষা করছেন। দুজনের মধ্যে একটি অদ্ভুত সংযোগের গল্পের শেষে তারা মহাকালের পথে হাঁটতে হাঁটতে মিশে যায়
গোধূলির আঁধারে সমুদ্রসৈকতে একা বসে থাকা এক মহিলাকে 'নয়নী' বলে ডাকার গল্পের শেষে সমুদ্রের স্মৃতি ও অপেক্ষার গভীরতা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। তার লেখায় বর্ণিত হয়েছে, কীভাবে লোনাপানির ধাক্কায় খসে পড়া ব্লকের ওপর বসে থাকা মহিলাটি সমুদ্রের দিকে তন্ময়ভাবে তাকিয়ে থাকেন। তার শাড়ির আনাড়ি আঁচল ও ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুলছিল চুল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গোধূলির সৈকতে একা বসে থাকা মহিলাকে লেখক 'নয়নী' বলে ডাকার চেষ্টা করেন, কিন্তু মহিলাটি নিজেকে 'নয়নী' বলে ডাকার কারণ জানিয়ে বলেন, "তোমার চোখের জন্য"।
- 📌 মহিলাটি একটি পুরোনো ভাঁজ করা চিঠি বের করে দেখান, যা তার প্রিয়জনের লিখা। তিনি জানান, সেই ব্যক্তি সমুদ্র কেড়ে নিয়েছে এবং তিনি এখনও তার জন্য অপেক্ষা করছেন।
- 📌 লেখক যখন প্রশ্ন করেন, 'তার জন্যই কি জীবনের সমস্ত সন্ধ্যা অপেক্ষা করবে?' তখন মহিলাটি কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান এবং লেখকের কনিষ্ঠা ধরে হাঁটতে শুরু করেন।
- 📌 দুজনের মধ্যে কোনো কথা না বলে, তারা মহাকালের পথে হাঁটতে হাঁটতে মিশে যায় মিশমিশে অন্ধকারে।
📰 বিস্তারিত
লেখক লোনাপানির ধাক্কায় খসে পড়া ব্লকের ওপর বসে থাকা মহিলাকে অবচেতনে সজাগ করার চেষ্টা করেন। তিনি জানতে চান, কী নামে ডেকে সজাগ করবেন তাকে। কিন্তু মহিলাটি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শাড়ির আনাড়ি আঁচল ও চুল ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুলতে থাকেন। সমুদ্রের ওপারে সীমানা নেই, শুধু অথই জল। মহিলাটি তন্ময়ভাবে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকেন, যেন তার মনও সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে গেছে।
লেখক গোধূলির আবিরে ধীরপায়ে কাছে ঘেঁষতে চাইলেও মহিলাটির বিষাদকে বুঝতে পারেন না। অন্ধকার নেমে আসার সাথে সাথে মহিলাটি ঝাউবনের শব্দ শুনতে পান। লেখক পাখির মতো নীড়ে ফেরার তাড়ায় সমুদ্রতীর থেকে ফিরে যেতে চান, কিন্তু মহিলাকে একা ফেলে যাওয়ার ভয় তাকে থামিয়ে রাখে।
অন্ধকারে গাঙচিলের মতো উড়াল দেবার আশায় লেখক 'নয়নী' বলে ডাক দিলে মহিলাটি ক্লান্ত চোখে তাকালেন। মিশমিশে অন্ধকারে তার কাজলকালো চোখ জ্বলছিল উজ্জ্বল হয়ে। লেখক যখন প্রশ্ন করেন, 'আমাকে ‘নয়নী’ বলে ডাকলে কেন?', তখন মহিলাটি বলেন, "তোমার চোখের জন্য"। তিনি একটি পুরোনো চিঠি বের করে দেখান, যা তার প্রিয়জনের লিখা। তিনি জানান, সেই ব্যক্তি সমুদ্র কেড়ে নিয়েছে এবং তিনি এখনও তার জন্য অপেক্ষা করছেন।
"আমাকে ‘নয়নী’ বলে ডাকলে কেন? — তোমার চোখের জন্য। এই নামে আমাকে শেষবার একজনই ডাকত, জানো? আমার এই চিঠিটা তার লিখা, সে কখনোই জানবে না, আমি আজও তার জন্য এখানে অপেক্ষা করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রসৈকত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থী (লেখক) ও 'নয়নী' নামের মহিলা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (পুরোনো চিঠি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!