📌 বিশ্ববিখ্যাত অভিনেত্রী এমিলিয়া ক্লার্ক মাত্র ২২ ও ২৪ বছর বয়সে দু’বার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন। স্ট্রোকের দু’বার আক্রমণ থেকে বেঁচে তিনি এখন ২৪০ কোটি টাকার মালিক। জন্মদিনে তিনি বলেছেন, বেঁচে থাকা যথেষ্ট নয়, সুস্থ হয়ে ওঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের কাছে ‘ড্রাগনের মা’ হিসেবে পরিচিত এমিলিয়া ক্লার্কের জীবনযুদ্ধের গল্প আজও অনুপ্রেরণার উৎস। এই ব্রিটিশ অভিনেত্রী মাত্র ২২ ও ২৪ বছর বয়সে দু’বার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন। স্ট্রোকের দু’বার আক্রমণ থেকে বেঁচে তিনি এখন ২৪০ কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছেন। ২৩ অক্টোবর তার জন্মদিনে তিনি বলেছেন, মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ছিল না—সুস্থ হয়ে ওঠা ছিল তার দ্বিতীয় লড়াই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাত্র ২২ ও ২৪ বছর বয়সে দু’বার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত এমিলিয়া ক্লার্ক স্ট্রোকের দু’বার আক্রমণ থেকে বেঁচে ১৫ বছর পর আজ ২৪০ কোটি টাকার মালিক
- 📌 ‘গেম অব থ্রোনস’-এ ডেনেরিস টারগারিয়েনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিখ্যাত হন এবং চারবার প্রাইমটাইম এমি পুরস্কারের মনোনয়ন পান
- 📌 ২০১৯ সালে টাইম সাময়িকীর ‘বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি’ তালিকায় স্থান পান এবং ব্রিটিশ শিল্পী হিসেবে বাফটা পুরস্কার লাভ করেন
- 📌 জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৬ সালের ২৩ অক্টোবর লন্ডনে; বাবা পিটার ক্লার্ক ছিলেন থিয়েটারের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, মা জেনিফার ডড ক্লার্ক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন
- 📌 মাত্র তিন বছর বয়সে থিয়েটারের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হন এবং স্কুলজীবন থেকেই নাটকে অভিনয় শুরু করেন
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক এমিলিয়া ক্লার্ককে ‘ড্রাগনের মা’ হিসেবে চেনেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটি ছিল নিজের জীবন বাঁচানোর লড়াই। মাত্র ২২ বছর বয়সে ‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজে তারকা হওয়ার সময়ই আচমকা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন। এরপর আবার ২৪ বছর বয়সে একই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন। আজ, প্রায় ১৫ বছর পর, তিনি বলছেন, ‘বেঁচে যাওয়াই যথেষ্ট নয়, সুস্থ হয়ে ওঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ’।
১৯৮৬ সালের ২৩ অক্টোবর লন্ডনে জন্মগ্রহণকারী এমিলিয়া ক্লার্কের পুরো নাম এমিলিয়া ইসোবেল ইউফেমিয়া রোজ ক্লার্ক। তাঁর বাবা পিটার ক্লার্ক থিয়েটারে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন, যা ছোটবেলায় থিয়েটারের পরিবেশের সঙ্গে তাঁকে পরিচিত করে। মা জেনিফার ডড ক্লার্ক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। বাবার কাজের সুবাদেই মাত্র তিন বছর বয়সে শো বোট মঞ্চনাটক দেখার পর অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ জাগে। ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারে বেড়ে ওঠা এমিলিয়া স্কুলজীবন থেকেই নাটকে অভিনয় করতেন। পড়াশোনা শেষে লন্ডনের ড্রামা সেন্টারে অভিনয় শেখেন এবং ২০০৯ সালে পেশাদার অভিনয়জীবন শুরু করেন।
বিবিসির চিকিৎসাবিষয়ক ধারাবাহিক ‘ডক্টরস’-এ ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু বড় সুযোগ সহজে আসেনি। অভিনয়ের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন কাজ করতে হয়েছিল। তবে তাঁর সংগ্রাম থামাতে পারেনি বড় সুযোগের অপেক্ষা। ২০১১ সালে ‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজে ডেনেরিস টারগারিয়েনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। সাদা চুলের ড্রাগনের মা হিসেবে তাঁর উপস্থিতি সিরিজটির অন্যতম পরিচিত দৃশ্যচিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আটটি মৌসুমে প্রচারিত সিরিজটি এমিলিয়াকে আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করে। এই চরিত্রের জন্য চারবার প্রাইমটাইম এমি পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি এবং ২০১৯ সালে সেরা অভিনেত্রী বিভাগেও মনোনয়ন পান।
"আমি মনে করতাম, আমার এখানে থাকার কথা নয়। মনে হতো মৃত্যুকে প্রতারণা করে বেঁচে আছি।"
২০১৯ সালে টাইম সাময়িকীর ‘বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি’ তালিকায় স্থান পান এমিলিয়া। একই বছর ব্রিটিশ শিল্পী হিসেবে বাফটা লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রিটানিয়া পুরস্কার লাভ করেন। ‘গেম অব থ্রোনস’ তাঁকে শুধু পরিচিতিই দেয়নি, হলিউডের বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে কাজের দরজাও খুলে দিয়েছে। সিরিজের সাফল্যের পর তিনি অভিনয় করেন ‘টার্মিনেটর জেনিসিস’ (২০১৫), ‘মি বিফোর ইউ’ (২০১৬) এবং ‘সোলো: আ স্টার ওয়ারস স্টোরি’ (২০১৮) ছবিতে। বড় পর্দার পাশাপাশি মঞ্চেও কাজ করেছেন তিনি। ২০১৩ সালে ব্রডওয়েতে ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানিজ’ নাটকে অভিনয় করেন এবং লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডেও মঞ্চে কাজ করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন (জন্মস্থান), ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ার (বেড়ে ওঠা)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: এমিলিয়া ক্লার্ক (অভিনেত্রী), পিটার ক্লার্ক (বাবা), জেনিফার ডড ক্লার্ক (মা), ডেনেরিস টারগারিয়েন (চরিত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪০ কোটি টাকা (বর্তমান সম্পদ), ২২ বছর (প্রথম স্ট্রোকের বয়স), ২৪ বছর (দ্বিতীয় স্ট্রোকের বয়স), ১৫ বছর (স্ট্রোকের পর বর্তমান সময়), ৪০ বছর (বর্তমান বয়স), ১০০ (টাইম সাময়িকীর প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!