📌 ১২ বছর আগের সেই মেলামেলা দুর্গাপূজার স্মৃতি ফিরে এলো শুভ্রাংশের চোখে। প্রতিমা তৈরির কাজ থেকে শুরু করে মেলার আনন্দ, আরতির জাঁকজমক, মায়ের বিসর্জন — সবকিছুই আবার ফিরে এলো মনে
১২ বছর আগের সেই মেলামেলা দুর্গাপূজার স্মৃতি ফিরে এলো শুভ্রাংশের চোখে। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র হিসেবে প্রতিদিন মন্দিরের সামনে দিয়ে হেঁটে হেঁটে স্কুল যাওয়ার পথে তিনি দেখতেন প্রতিমা তৈরির কাজের মালাকারদের নিখুঁত হাত। সেই সময়ের সেই অনুভূতি এখনও মনে আছে, যেখানে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখার জন্য স্কুলে দেরি করা যেতেও মন চাইত না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ বছর আগের সেই দুর্গাপূজার স্মৃতি ফিরে এলো শুভ্রাংশের মনে, যেখানে প্রতিমা তৈরির কাজ থেকে শুরু করে মেলার আনন্দ পর্যন্ত সবকিছুই ছিল অনন্য অভিজ্ঞতা।
- 📌 প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে স্কুলে দেরি করা যেতেও মন চাইত না, কিন্তু কাপড় দিয়ে ঢাকা প্রতিমা দেখার জন্য বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আলোচনা লেগেই থাকত।
- 📌 পূজার মেলায় ঘুরতে ঘুরতে সকালে ঘুম থেকে ওঠা, অঞ্জলি দেওয়া এবং মায়ের বিসর্জন দেখার অনুভূতি ছিল অন্য রকম।
- 📌 দশমীর দিন মায়ের ভাসান দেখতে মেলায় ভিড়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতো, যেখানে নাচ-গান, রং ও সিঁদুর খেলায় পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ মেতে উঠত।
- 📌 ছোটবেলায় যা কল্পনা করতেন, বড় হয়ে সেই কাজগুলো নিজেই করতে পেরেছেন — প্রতিমা তৈরির কাজ থেকে শুরু করে মেলার আয়োজন পর্যন্ত।
📰 বিস্তারিত
শুভ্রাংশের মনে সেই আশ্বিন মাসের অনুভূতি এখনও জীবন্ত। প্রতিদিন স্কুলের পথে মন্দিরের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে মন চাইত না। প্রতিমাশিল্পীরা মালাকারের ভেতরে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু করলে, ছোট শুভ্রাংশ লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতেন সেই নিখুঁত হাতের কাজ। বাসায় ফিরে টিফিন খাওয়ার সময়ও প্রতিমা তৈরির কাজ দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে যেতেন। কিন্তু সাধারণত কাপড় দিয়ে ঢাকা প্রতিমা দেখতে পেতেন না, যা তাকে খুব আফসোস করত।
পূজার চার দিন আগে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়ে যেত। সেই সময় মায়ের প্রতিমা দেখার জন্য কাপড়ের ফাঁক দিয়ে একটু দেখতেন এবং মালাকারের কাজের প্রশংসা করতেন। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আলোচনা লেগেই থাকত, কীভাবে প্রতিমা আরও সুন্দর হতো। তারপর সেই পূজার মাহেন্দ্রক্ষণ দেখতে দেখতে চলে আসত। পূজার দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে অঞ্জলি দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতেন।
আমাদের গ্রামের সবচেয়ে বড় পূজাটি ছিল আমাদের এলাকাতেই। পূজায় এত বড় মেলা বসত যে আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ আসত মেলায় ঘোরাফেরা করতে। অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও এই মেলায় অবাধ বিচরণ ছিল। রাতের বেলায় আরতি অনুষ্ঠান সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ হতো। ছোটবেলায় একা একা রাতে গিয়ে আরতি অনুষ্ঠান দেখা খুব কষ্টকর ছিল। বড়দের সঙ্গে যেতে হতো এই অনুষ্ঠান দেখতে, কিন্তু লোকজনের ভিড়ের কারণে দীর্ঘস্থায়িত্ব ছিল না।
দশমীর দিন মায়ের ভাসান দেখতে মেলায় ভিড়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতো। সকাল থেকে পুকুরের পাশে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকত। মায়ের বিসর্জন দেওয়ার সময় আকাশে চাঁদ দেখা যেত। সঙ্গে সঙ্গে চারপাশ ‘আসছে বছর আবার হবে’, ‘দুর্গামাই কি জয় জয়’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠত। মায়ের ভাসান শেষে পুকুরের জল সবাই একে অপরের গায়ে ছিটিয়ে দিত।
"মায়ের প্রতিমা তৈরি করা দেখতাম লুকিয়ে, আর আমরা এখন ছেলেপেলেরা মালাকার ঠিক করি। সত্যিই, জীবন বড়ই অদ্ভুত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গ্রামের মন্দির প্রাঙ্গণ, পুকুরের পাশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শুভ্রাংশ (স্মৃতিকথা লেখক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!