📌 বাংলা ব্যান্ডের প্রথম নারী রক গায়িকা চন্দ্রাণী ব্যানার্জি তার ৩০ বছরের সংগীতজীবনে রবীন্দ্রনাথ থেকে পাশ্চাত্য মিউজিক পর্যন্ত বিভিন্ন ধারার গান গেয়েছেন। ‘তোমাকে বুঝি না প্রিয়’ ছাড়াও ‘ঘরে ফেরার গান’, ‘ঝিকো ঝিকো করি রে’ এবং ‘কান্দে শুধু মন’-এর মতো গানগুলো তাঁকে জনপ্রিয় করেছে। তবে তিনি নিজের গান লেখা ও সুর করার প্রতি বেশি মনোযোগ দেন
বাংলা ব্যান্ডের প্রথম নারী রক গায়িকা হিসেবে পরিচিত চন্দ্রাণী ব্যানার্জি তার ৩০ বছরের সংগীতজীবনে অসংখ্য শ্রোতাদের মন জয় করেছেন। কিন্তু তাঁর পরিচিতি সীমাবদ্ধ ‘তোমাকে বুঝি না প্রিয়’ গানেই? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে তাঁর জীবনের গল্পে ঢুকতে হবে। রবীন্দ্রনাথ থেকে পাশ্চাত্য মিউজিক পর্যন্ত বিভিন্ন ধারার গান গেয়েছেন চন্দ্রাণী ব্যানার্জি। তবে তাঁর পছন্দের গানগুলোই শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘তোমাকে বুঝি না প্রিয়’ ছাড়াও ‘ঘরে ফেরার গান’, ‘ঝিকো ঝিকো করি রে’, ‘কান্দে শুধু মন’ এবং ‘রাবেয়া কি রুকসানা’-এর মতো গানগুলো চন্দ্রাণী ব্যানার্জির পরিচিতি বাড়িয়েছে।
- 📌 ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্রসউইন্ডস ব্যান্ডের প্রথম নারী ভোকালিস্ট হিসেবে চন্দ্রাণী ব্যানার্জি ‘ওয়ার্ল্ড রক’ ধারার গান গাইতেন, যেখানে লোকগানের সাথে পাশ্চাত্য মিউজিকের মিশ্রণ ছিল।
- 📌 চন্দ্রাণী ব্যানার্জির সংগীতজীবনের শুরু হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গানে। পরে কলকাতায় পড়াশোনার সময় পাশ্চাত্য মিউজিকের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গীতজীবন আরও বৈচিত্র্যময় হয়।
- 📌 ‘তোমাকে বুঝি না প্রিয়’ গানটি তাঁর জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার এনেছে, কিন্তু তিনি শ্রোতাদের ভালোবাসাকে বেশি মূল্যায়ন করেন।
- 📌 চন্দ্রাণী ব্যানার্জি নিজের গান লেখা ও সুর করার প্রতি বেশি মনোযোগ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি বাংলা গানে আসতামই না, গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের মাধ্যমে বাংলা গানে আসার সুযোগ পেয়েছি।’
📰 বিস্তারিত
চন্দ্রাণী ব্যানার্জি তাঁর সংগীতজীবনের শুরু করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গানে। বাড়িতেই শুরু হয়েছিল রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতির চর্চা। দেবদাস মণ্ডলের কাছে রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতির প্রশিক্ষণ নেন তিনি। লোকগান শিখেছিলেন বড় মামার কাছ থেকে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্য মিউজিক তাঁর জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। কলকাতায় ইংরেজি অনার্স পড়ার সময় ওয়েস্টার্ন মিউজিকের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গীতজীবন আরও বৈচিত্র্যময় হয়। বাবা তাঁকে দ্য বিটলসের ‘অ্যাবে রোড’ অ্যালবামের ক্যাসেট দিয়েছিলেন, যা তাঁকে ব্লুজ, জ্যাজ, কান্ট্রি মিউজিক থেকে গজল পর্যন্ত বিভিন্ন ধারার সঙ্গীতের সাথে পরিচিত করে তোলে।
১৯৯৫ সালে নিজের লেখা ও সুর করা ‘দ্য মিন্সট্রেল’ প্রকাশের মাধ্যমে চন্দ্রাণী ব্যানার্জি নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় দেন। এই গানটি শুনে প্রশংসা করেছিলেন মহীনের ঘোড়াগুলির গৌতম চট্টোপাধ্যায়। এরপরই আসে ‘ঘরে ফেরার গান’ গাওয়ার সুযোগ। চন্দ্রাণী বলেন, ‘আমি বাংলা গানে আসতামই না। বাংলা গানে নিয়ে আসার পুরো কৃতিত্ব গৌতমদার।’ গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে চন্দ্রাণী মহীনের ঘোড়াগুলির মঞ্চে শুধু গানই নয়, মঞ্চও ভাগ করেছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রেসিডেন্সি কলেজে অনুষ্ঠিত গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন চন্দ্রাণী। সেই সময় ক্রসউইন্ডস ছিল মহীনের ব্যাকিং ব্যান্ড।
১৯৯৯ সালে ক্রসউইন্ডস ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হিসেবে যোগ দেন চন্দ্রাণী। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা বিক্রমজিৎ ব্যানার্জি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ভোকালিস্ট খুঁজতে যান। গৌতমই চন্দ্রাণীর কথা বলেন। তাঁর যোগদানের পর ক্রসউইন্ডসের গানে রকের সঙ্গে লোকসংগীতের মিশ্রণ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চন্দ্রাণী বলেন, ‘আমার শিকড় লোকগানে। ক্রসউইন্ডসের এই স্বতন্ত্র ধারাকে আমরা বলি ‘ওয়ার্ল্ড রক’।’ ব্যান্ডের গান লেখা ও সুর করার কাজেও বড় ভূমিকা চন্দ্রাণীর। ফলে তাঁর ভাষ্যও ক্রসউইন্ডসের সংগীতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
"আমি বাংলা গানে হয়তো আসতামই না। বাংলা গানে নিয়ে আসার পুরো কৃতিত্বটাই গৌতমদার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চন্দ্রাণী ব্যানার্জি, গৌতম চট্টোপাধ্যায়, বিক্রমজিৎ ব্যানার্জি, দেবদাস মণ্ডল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৯০ (ক্রসউইন্ডস প্রতিষ্ঠা), ১৯৯৫ (দ্য মিন্সট্রেল প্রকাশ), ১৯৯৯ (চন্দ্রাণী ক্রসউইন্ডসে যোগদান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!