📌 ১৮ অক্টোবর চাক বেরির জন্মশতবর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গীতিকার ও গিটারবাদক চাক বেরি রক অ্যান্ড রোলের জনক হিসেবে পরিচিত। তার গান ‘জনি বি. গুড’ মহাকাশযান ভয়েজার ১ ও ২-এর গোল্ডেন রেকর্ডে স্থান পেয়েছে। বিটলস থেকে অঞ্জন দত্ত পর্যন্ত তার প্রভাব বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত
১৮ অক্টোবর ১৯২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইসে জন্মগ্রহণ করেন চার্লস এডওয়ার্ড অ্যান্ডারসন বেরি, যিনি বিশ্বকে চাক বেরি নামে পরিচিত। আজ তার জন্মশতবর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। গীতিকার, গায়ক ও গিটারবাদক হিসেবে তিনি রক অ্যান্ড রোলের অন্যতম পথিকৃৎ। তার সুর ও গানের কথা বিশ্বসংগীতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাক বেরির ‘জনি বি. গুড’ গান মহাকাশযান ভয়েজার ১ ও ২-এর গোল্ডেন রেকর্ডে স্থান পেয়েছে
- 📌 ১৯৫৫ সালে ‘মেবেলিন’ গান যুক্তরাষ্ট্রের রিদম অ্যান্ড ব্লুজ তালিকায় শীর্ষে ওঠে
- 📌 বিটলস, রোলিং স্টোনসসহ বহু শিল্পী তার গান গেয়েছেন ও অনুপ্রাণিত হয়েছেন
- 📌 ভারতের অঞ্জন দত্তসহ বিশ্বের বহু শিল্পী তার প্রভাব অনুভব করেছেন
- 📌 চাক বেরির ‘ডাক ওয়াক’ মঞ্চে হাঁটার ধরন রক সঙ্গীতের পরিচয় গড়ে তুলেছে
📰 বিস্তারিত
গিটারের প্রেমের শুরু অনেকেই এক গান শুনে পায়। চাক বেরির ‘জনি বি. গুড’ তেমনই এক গান, যা গিটারপ্রেমীদের মনে স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছে। গানের শুরুতে বাজানো গিটার শুনে মনে হয়, ‘এভাবে যদি বাজাতে পারতাম!’ সেই ইচ্ছা গানের সাথে মিশে যায় এক তরুণের গল্পের। লেখাপড়ায় মন না থাকলেও গিটার বাজাতে পথচলতি মানুষ থমকে দাঁড়ায়। তার মা স্বপ্ন দেখতেন, একদিন ছেলের নাম আলোয় লেখা হবে। সেই স্বপ্নই শুনিয়েছিলেন চাক বেরি।
চাক বেরির জন্মের এক শতাব্দি পরও তার গান পৃথিবীর কোনো প্রান্তে নতুন কারও হাতে গিটার তুলে নেওয়ার প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার গান ‘জনি বি. গুড’ মহাকাশযান ভয়েজার ১ ও ২-এর গোল্ডেন রেকর্ডে স্থান পেয়েছে। পৃথিবীর সংগীতের নমুনা হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে এই গান।
চাক বেরির জন্ম ১৯২৬ সালের ১৮ অক্টোবর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইসের সন্তান। গীতিকার, গায়ক ও গিটারবাদক হিসেবে তিনি রক অ্যান্ড রোলের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি ব্লুজ, রিদম অ্যান্ড ব্লুজ ও কান্ট্রির উপাদান মিশিয়ে নিজস্ব ধারা গড়ে তুলেছিলেন। তার গান চেনা যেত গিটারের ঝলক, ছন্দের দোলা ও ছোট ছোট গল্পে ভরা গানের কথার মাধ্যমে।
১৯৫৩ সালে তিনি পিয়ানোবাদক জনি জনসনের দল স্যার জনস ট্রিওতে যোগ দেন। সেখানে বাজাতে বাজাতে তিনি বুঝতে পারেন কোন সুরে শ্রোতাদের পা নড়ে, কোন পরিবেশনা মনোযোগ ধরে রাখে। ব্লুুজের পাশাপাশি কান্ট্রির উপাদান মেশানোর মাধ্যমে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ শ্রোতাদের একত্রিত করতে সক্ষম হন।
১৯৫৫ সালে তিনি শিকাগোয় মাডি ওয়াটার্সের সঙ্গে দেখা করেন। ওয়াটার্স তাঁকে চেস রেকর্ডসের লিওনার্ড চেসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে আসে ‘মেবেলিন’ গান, যা যুক্তরাষ্ট্রের রিদম অ্যান্ড ব্লুজ তালিকায় শীর্ষে ওঠে এবং পপ তালিকায় পঞ্চম স্থানে পৌঁছায়। এরপর তিনি একের পর এক হিট গান রেকর্ড করেন, যেমন ‘রোল ওভার বিটোফেন’, ‘স্কুল ডেজ’, ‘রক অ্যান্ড রোল মিউজিক’, ‘সুইট লিটল সিক্সটিন’ ও ‘জনি বি. গুড’।
চাক বেরির গান তরুণদের নিজস্ব রুচি, ছোট ছোট চাওয়া ও বড় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে। দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ঘটনা তার গানে প্রাণবন্ত গল্পে রূপ নেয়। তার গিটার বাজানোর ধরন ও মঞ্চে হাঁটার ‘ডাক ওয়াক’ রক সঙ্গীতের পরিচয় গড়ে তুলেছে। তিনি বর্ণবিভক্ত মার্কিন সমাজে কৃষ্ণাঙ্গ সংগীতের ঐতিহ্য থেকে উঠে আসা একজন শিল্পী হিসেবে শ্রোতাদের মাঝে একতা সৃষ্টি করেন।
"রক অ্যান্ড রোলকে অন্য কোনো নাম দিতে চাইলে, তাকে চাক বেরি বলতে পারেন।"
— জন লেনন
বিটলস ও রোলিং স্টোনসসহ বহু শিল্পী তার গান গেয়েছেন ও অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ভারতের অঞ্জন দত্তসহ বিশ্বের বহু শিল্পী তার প্রভাব অনুভব করেছেন। ভারতীয় গিটারবাদক আয়ুষী কার্নিকের অভিজ্ঞতায় প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার পথটি আরও স্পষ্ট।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্য, সেন্ট লুইস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চাক বেরি (চার্লস এডওয়ার্ড অ্যান্ডারসন বেরি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ অক্টোবর (জন্ম তারিখ), ১৯২৬ (জন্ম বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!