📌 ১৬৭০ সালে জার্মানির একটি গির্জায় ক্যান্ডি কেইনের জন্ম হয় শিশুদের শান্ত রাখার জন্য। ১৯২০-এর দশকে লাল-সাদা ডোরাকাটা নকশা যুক্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৪৭ সালে এটি ক্রিসমাসের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়। আজ পেপারমিন্ট থেকে বেকন ফ্লেভার পর্যন্ত বিভিন্ন স্বাদের ক্যান্ডি কেইন পাওয়া যায়
১৬৭০ সালের জার্মানির কোলোন গির্জায় ক্রিসমাসের প্রার্থনা সভায় শিশুদের শান্ত রাখার জন্য একটি অদ্ভুত উদ্ভাবন ঘটে। গায়কদলের প্রধান বাচ্চাদের হাতে সাদা ক্যান্ডি কেইন দিলেন, যাতে তারা মুখ বন্ধ রাখতে পারে। এই ক্যান্ডির জন্মের গল্প থেকে শুরু করে আজকের বিভিন্ন স্বাদের ক্যান্ডি কেইনের বিবর্তন নিয়ে একটি আকর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬৭০ সালে জার্মানির কোলোন গির্জায় শিশুদের শান্ত রাখার জন্য সাদা ক্যান্ডি কেইনের জন্ম হয়, যা পরে ক্রিসমাসের ঐতিহ্যে পরিণত হয়
- 📌 ১৮৪৭ সালে জার্মান-সুইডিশ অভিবাসী অগাস্ট ইমগার্ড যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডি কেইন নিয়ে আসেন, যা ক্রিসমাস ট্রির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়
- 📌 ১৯২০-এর দশকে জর্জিয়ার আলবেনি শহরের বব ম্যাককরম্যাক লাল-সাদা ডোরাকাটা নকশা যুক্ত করেন, যা আজও জনপ্রিয়
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে ৪৯ শতাংশ মানুষ পেপারমিন্ট ফ্লেভারের ক্যান্ডি কেইন পছন্দ করেন, চেরি ও ব্লুবেরির জনপ্রিয়তা যথাক্রমে ১৮ ও ১৩ শতাংশ
- 📌 আধুনিক ক্যান্ডি কেইন বিভিন্ন স্বাদ ও ডিজাইনে পাওয়া যায়, যেমন টক আপেল, ঝাল দারুচিনি, বেকন ফ্লেভার, এমনকি সুপারহিরো আঁকা প্যাকেটেও পাওয়া যায়
📰 বিস্তারিত
১৬৭০ সালের ক্রিসমাসে জার্মানির কোলোন গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা চলছিল। কিন্তু পেছনের সারিতে বসা শিশুদের শান্ত রাখা সম্ভব হয়নি। গায়কদলের প্রধান এক দারুণ বুদ্ধি নিয়ে আসেন: সাদা ক্যান্ডি কেইন। এই ক্যান্ডিগুলো চুষতে অনেক সময় লাগত, ফলে শিশুদের মুখ বন্ধ থাকত। সেই সময় চিনি ছিল দামি ও দুর্লভ, তাই এই ক্যান্ডি পাওয়াটা ছিল বিশেষ আনন্দের ব্যাপার। তবে ক্যান্ডিগুলোকে যিশুর জন্মকথার সাথে মিলিয়ে দেখাতে গিয়ে গায়কদল তাদের মাথা বাঁকিয়ে দেন, যা পরে ক্যান্ডি কেইনের আকৃতি নির্ধারণ করে।
১৮৪৭ সালে জার্মান-সুইডিশ অভিবাসী অগাস্ট ইমগার্ড যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের উস্টার শহরে এসে এই ঐতিহ্যটি নিয়ে আসেন। তিনি ক্রিসমাস ট্রিতে ক্যান্ডি কেইন ঝুলিয়ে দেন। এরপর ক্যান্ডি কেইন ক্রিসমাসের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়। ৬ জানুয়ারি এপিফ্যানি উৎসবের পর বাচ্চারা ক্রিসমাস ট্রি থেকে ক্যান্ডি কেইন পেড়ে খেতেন।
১৯২০-এর দশকে জর্জিয়ার আলবেনি শহরের বব ম্যাককরম্যাক লাল-সাদা ডোরাকাটা নকশা যুক্ত করেন। তিনি বলেছিলেন, এই নকশা ক্যান্ডিগুলোকে আরও উৎসবমুখর করে তুলবে। যদিও অনেকেই বিশ্বাস করেন, লাল-সাদা ডোরাকাটা পবিত্র ট্রিনিটি ও যিশুর আত্মত্যাগের প্রতীক। তবে ম্যাককরম্যাকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যান্ডিগুলোকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলা।
শুরুর দিকে ক্যান্ডি কেইনে শুধু চিনি ছিল। পরে পেপারমিন্ট স্বাদ যুক্ত হয়, যা এত জনপ্রিয় হয় যে আজও এটি সবচেয়ে বেশি পছন্দের। ব্রাচস ক্যান্ডি কোম্পানির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯ শতাংশ মানুষ পেপারমিন্ট ফ্লেভারের ক্যান্ডি কেইন পছন্দ করেন। এরপর চেরি (১৮ শতাংশ) ও ব্লুবেরি (১৩ শতাংশ) ফ্লেভারের জনপ্রিয়তা। আধুনিক ক্যান্ডি কেইন বিভিন্ন স্বাদ ও ডিজাইনে পাওয়া যায়, যেমন টক আপেল, ঝাল দারুচিনি, বেকন ফ্লেভার, এমনকি সুপারহিরো আঁকা প্যাকেটেও পাওয়া যায়।
"পেপারমিন্টের ক্ল্যাসিক স্বাদ হোক বা নতুন যুগের উদ্ভট বেকন ফ্লেভার, উৎসবের সকালে এই ক্যান্ডির মোড়ক খোলার আনন্দটা আজও সেই আগের মতো অমলিন রয়ে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জার্মানির কোলোন গির্জা, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের উস্টার শহর, জর্জিয়ার আলবেনি শহর, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গায়কদলের প্রধান, অগাস্ট ইমগার্ড, বব ম্যাককরম্যাক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৭০ (বর্ষ), ৬ (জানুয়ারি), ৪৯ (শতাংশ), ১৮ (শতাংশ), ১৩ (শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!