📌 ১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের এই সুরকার ৯৩ বছর বয়সে ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অসংখ্য জনপ্রিয় গান এখনও মানুষের মনে জীবন্ত রয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সংগীত জগতে একটি মহান সুরকারের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। কিংবদন্তি বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের এই দিনে মৃত্যু হয় ২০০৯ সালে। ৯৩ বছর বয়সে তিনি চিরতরে বিদায় নেন, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি গানগুলো এখনও মানুষের মনে জীবন্ত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী
- 📌 ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি
- 📌 শাহ আবদুল করিমের উল্লেখযোগ্য গান: ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘রঙের দুনিয়া তরে চাই না’
- 📌 ১০টি গান ইংরেজিতে অনুদিত হয়েছে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে
- 📌 ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন গানে গানে অর্ধশতাব্দী ধরে
📰 বিস্তারিত
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের সংগীতসাধনা শুরু হয় শৈশব থেকেই। একতারা ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। তিনি গ্রামবাংলার মাটি ও মানুষকে নিয়ে কালজয়ী গান রচনা করেছেন। বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের তালিম নিয়েছিলেন কমর উদ্দিন, সাধক রসিদ উদ্দিন ও শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বক্সের কাছ থেকে। প্রখ্যাত বাউল ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহের দর্শন থেকে তিনি গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
শাহ আবদুল করিমের উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না, চলে না’, ‘রঙের দুনিয়া তরে চাই না, চাই না’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূরপঙ্খী নাও’, ‘আমি কূলহারা কলঙ্কিনী’, ‘কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু’, ‘রঙিলা বারই রে’, ‘সখী তোরা প্রেম করিও না’, ‘আমার মাটির পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে’, ‘বসন্ত বাতাসে সইগো’, ‘আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু’, ‘সখী কুঞ্জ সাজাও গো’, ‘গান গাই আমার মনরে বুঝাই’, ‘আগের বাহাদুরি গেল কই’, ‘আসি বলে গেল বন্ধু আইলনা’ ও ‘ভবসাগরের নাইয়া’।
শাহ আবদুল করিম একুশে পদকপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন কৃষিকাজ করে। সহজ-সরল জীবনযাপনের অধিকারী এই শিল্পী ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন গানে গানে অর্ধশতাব্দী ধরে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর গান মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে।
"শাহ আবদুল করিমের গান সাতটি বইয়ে গ্রন্থিত আছে। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তাঁর ১০টি গান ইংরেজিতে অনুদিত হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহ আবদুল করিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী, ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যু, ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্ম, ১০টি গান ইংরেজিতে অনুদিত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!