📌 ৭ অক্টোবর বেগম আখতার জন্মদিন। কলকাতার মেগাফোন রেকর্ডের জিতেন্দ্রনাথ ঘোষের আস্থা ও কমলকুমার ঘোষের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, 'দিওয়ানা বানানা হ্যায় তো দিওয়ানা বানা দে' গজলটি তাঁর খ্যাতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ১০টি গানে তাঁর শিল্পী জীবনের বৈচিত্র্য ও বাংলার সঙ্গে সম্পর্কের গল্প
৭ অক্টোবর বেগম আখতার জন্মদিন। 'মল্লিকা-ই-গজল' বা গজলসম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীকে কলকাতার মেগাফোন রেকর্ড কোম্পানি প্রথমে আস্থা দিয়েছিল। জিতেন্দ্রনাথ ঘোষের স্নেহ ও নিয়মিত সহযোগিতা বেগম আখতারের শিল্পী জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গবেষক আবুল আহসান চৌধুরীর লেখা থেকে জানা যায়, 'দিওয়ানা বানানা হ্যায় তো দিওয়ানা বানা দে' গজলটি তাঁর খ্যাতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই গজলটি লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছিল, যা ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টসের আর্কাইভেও রেকর্ড করা আছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলকাতার মেগাফোন রেকর্ডের জিতেন্দ্রনাথ ঘোষ বেগম আখতারের খ্যাতি গড়ে তোলেন 'দিওয়ানা বানানা হ্যায় তো দিওয়ানা বানা দে' গজল দিয়ে — এই গজলটি লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছিল।
- 📌 বেগম আখতারকে 'মল্লিকা-ই-গজল' বা গজলসম্রাজ্ঞী বলা হয়, কিন্তু তাঁর প্রভাব গজলেই সীমাবদ্ধ ছিল না — ঠুমরি, দাদরা, বাংলা গান ও চলচ্চিত্রে অভিনয়েও তাঁর অবদান ছিল।
- 📌 ১৯৩৪ সালে বিহারের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কলকাতার আলফ্রেড থিয়েটারে তাঁর গজল ও দাদরা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিল।
- 📌 'অ্যায় মোহাব্বত তেরে আনজাম পে রোনা আয়া' গজলে প্রেমের কান্না ও ভাগ্যের অভিযোগের মিশ্রণ দেখা যায়।
- 📌 'হামরি অটরিয়া পে আও সাঁওয়ারিয়া' দাদরা গানে প্রিয়জনকে ডাকার আহ্বান ও মান-অভিমান মিটিয়ে ফেলার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
- 📌 বেগম আখতার বাংলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরিচয় দিয়েছেন 'জোছনা করেছে আড়ি' গানে — রবি গুহ মজুমদারের সুরে এই গান বাংলাভাষী শ্রোতাদের কাছে তাঁর পরিচয় গড়ে তোলে।
- 📌 শিল্পকেন্দ্রের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের একটি রেকর্ডে 'জোছনা করেছে আড়ি' ও 'এ মৌসুমে পরদেশে' দুটি গান একই প্লেটে প্রকাশিত হয়েছিল।
- 📌 বেগম আখতারকে সংগীতশিক্ষা দিয়েছিলেন ওস্তাদ ইমদাদ খাঁ ও পাতিয়ালা ঘরানার ওস্তাদ আতা মোহাম্মদ খাঁ। তাঁর শিক্ষা ঠুমরি, দাদরা ও গজলের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
📰 বিস্তারিত
বেগম আখতার ফৈজাবাদীর জন্ম হয়েছিল ১৯১৪ সালের ৭ অক্টোবর। কলকাতা তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে — এখানে তিনি সংগীতানুষ্ঠান, রেকর্ড, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন। গবেষক আবুল আহসান চৌধুরীর লেখা থেকে জানা যায়, মেগাফোন রেকর্ডের জিতেন্দ্রনাথ ঘোষ বেগম আখতারের খ্যাতি গড়ে তোলেন। তিনি শুধু রেকর্ড প্রকাশ করেননি, বরং তাঁকে গড়ে তোলার জন্য স্নেহ, শাসন ও নিয়মিত সহযোগিতা করেছিলেন। কমলকুমার ঘোষের স্মৃতিচারণে উল্লেখ করা হয়েছে, জিতেন ঘোষের মৃত্যুর পরও বেগম আখতার তাঁর ছবি বের করে শ্রদ্ধা জানিয়ে গান শুরু করতেন।
বেগম আখতারকে 'মল্লিকা-ই-গজল' বলা হয়, কিন্তু তাঁর প্রভাব শুধু গজলে সীমাবদ্ধ ছিল না। ঠুমরি, দাদরা, বাংলা গান ও চলচ্চিত্রে অভিনয়েও তাঁর অবদান ছিল। 'দিওয়ানা বানানা হ্যায় তো দিওয়ানা বানা দে' গজলটি তাঁর খ্যাতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই গজলটি লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছিল, যা ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টসের আর্কাইভেও রেকর্ড করা আছে।
বেগম আখতারের গানের বৈশিষ্ট্য ছিল শ্রোতার ব্যক্তিগত অনুভূতি তুলে ধরার ক্ষমতা। রবিশঙ্করের মতে, তাঁর গান শুনে আসরের প্রত্যেক শ্রোতার মনে হতো, শিল্পী যেন তাঁর উদ্দেশেই গাইছেন। 'অ্যায় মোহাব্বত তেরে আনজাম পে রোনা আয়া' গজলে প্রেমের কান্না ও ভাগ্যের অভিযোগের মিশ্রণ দেখা যায়। এই গজলে প্রেমের স্মৃতি কান্না ডেকে আনে যেন! প্রিয়জনকে ডাকার দাদরা 'হামরি অটরিয়া পে আও সাঁওয়ারিয়া' গানে প্রিয়জনকে কাছে আসার আহ্বান ও মান-অভিমান মিটিয়ে ফেলার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
"বেগম আখতারের গান শুনে আসরের প্রত্যেক শ্রোতার মনে হতো, শিল্পী যেন তাঁর উদ্দেশেই গাইছেন।"
বেগম আখতার বাংলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরিচয় দিয়েছেন 'জোছনা করেছে আড়ি' গানে। রবি গুহ মজুমদারের সুরে এই গান বাংলাভাষী শ্রোতাদের কাছে তাঁর পরিচয় গড়ে তোলে। শিল্পকেন্দ্রের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের একটি রেকর্ডে 'জোছনা করেছে আড়ি' ও 'এ মৌসুমে পরদেশে' দুটি গান একই প্লেটে প্রকাশিত হয়েছিল। এই গানে জোছনা যেন অভিমানী এক মানুষ — চারপাশে তার উপস্থিতি অথচ সে আসে না কথকের বাড়িতে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, ভারত, বিহার, পাকিস্তান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেগম আখতার, জিতেন্দ্রনাথ ঘোষ, কমলকুমার ঘোষ, আবুল আহসান চৌধুরী, রবিশঙ্কর, রবি গুহ মজুমদার, ওস্তাদ ইমদাদ খাঁ, ওস্তাদ আতা মোহাম্মদ খাঁ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি গান, ৭ অক্টোবর, ১৯৩৪, ১৯৭১
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!