📌 আয়ারল্যান্ডের অভিনেতা ব্যারি কিওগান শৈশব কাটিয়েছেন ১৩টি বাড়ি বদলিয়ে। মায়ের মাদকাসক্তি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তিনি ও তার ভাই পালক পরিবারের কাছে বড় হন। অস্কার মনোনয়ন ও বাফটা পুরস্কার জেতা এই তারকা ‘দ্য ব্যানশিজ অব ইনিশেরিন’ ও ‘সল্টবার্ন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত
আয়ারল্যান্ডের অভিনেতা ব্যারি কিওগান শৈশব কাটিয়েছেন অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে। মায়ের মাদকাসক্তি ও পরিবারের অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে তিনি ও তার ভাইকে ৭ বছর ধরে ১৩টি ভিন্ন বাড়িতে পালক পরিচর্যায় থাকতে হয়েছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয় জীবনকে গড়ে তুলেছে। ১৮ অক্টোবর ৩৪ বছর পূর্তি মেনে চলেছেন এই অস্কার মনোনীত ও বাফটা পুরস্কার বিজয়ী তারকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৩টি বাড়ি বদলিয়ে বড় হয়েছেন** — শৈশবের ৭ বছর ধরে ব্যারি কিওগান ও তার ভাইকে পালক পরিবারের কাছে থাকতে হয়েছিল আইএমডির তথ্য অনুযায়ী।
- 📌 **অস্কার মনোনয়ন ও বাফটা পুরস্কার** — ‘দ্য ব্যানশিজ অব ইনিশেরিন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২০২৩ সালে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছেন। একই চরিত্রে বাফটা পুরস্কারও জিতেছেন।
- 📌 **‘সল্টবার্ন’ ছবিতে আলোচিত** — অলিভার কুইক চরিত্রে অভিনয় করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হন।
- 📌 **শৈশবের কঠিন অভিজ্ঞতা অভিনয়ের অনুপ্রেরণা** — পালক পরিচর্যার অভিজ্ঞতা তাঁকে চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
- 📌 **অর্থনৈতিক কষ্টের মধ্যেও অভিনয় স্বপ্ন** — মা মারা যাওয়ার পরও স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ১৬ বছর বয়সে স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হন।
📰 বিস্তারিত
ব্যারি কিওগানের শৈশব ছিল অস্থিরতায় ভরা। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯২ সালের ১৮ অক্টোবর আইরিশ রাজধানী ডাবলিনে। মায়ের মাদকাসক্তির কারণে ছোটবেলায় তাঁকে ও তাঁর ভাইকে পালক পরিচর্যায় থাকতে হয়েছিল। আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, ৭ বছর ধরে ১৩টি ভিন্ন বাড়িতে তাঁকে থাকতে হয়েছিল। পরে দাদি, খালা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে বড় হন তিনি। অর্থনৈতিক কষ্টও ছিল তাঁর জীবনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২২ সালে ব্রিটিশ সাময়িকী জি-কিউ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন না। মায়ের মৃত্যুর পরও জীবন সহজ হয়নি। কৈশোরে স্কুলে নিয়মিত যেতেন না, নানা ঝামেলায় জড়াতেন। ১৬ বছর বয়সে স্কুল থেকেও বহিষ্কৃত হন।
অভিনয়ের স্বপ্ন ছাড়েননি কিওগান। শৈশব থেকেই সিনেমার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে লুকিয়ে সিনেমা দেখতেন। মার্লন ব্র্যান্ডো, জেমস ডিন ও পল নিউম্যানের মতো অভিনেতাদের অভিনয় দেখতেন। পর্দার চরিত্রদের পর্যবেক্ষণ করেই অভিনয়ের ভাষা বোঝার চেষ্টা করতেন। ২০১১ সালে ডাবলিনের অপরাধজগতের পটভূমিতে নির্মিত ‘বিটুইন দ্য ক্যানালস’ ছবিতে অভিনয় করে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। এরপর টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ফেয়ার সিটি’ ও ‘লাভ/হেট’-এ অভিনয় করেন।
২০১৭ সাল তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ বছর। ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ডানকার্ক’ ছবিতে জর্জ চরিত্রে অভিনয় করেন। একই বছর ইওর্গোস লানথিমোসের ‘দ্য কিলিং অব আ সেক্রেড ডিয়ার’ ছবিতে মার্টিন চরিত্রে তাঁর অভিনয় নজর কাড়ে। অস্বস্তিকর ও জটিল চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা তাঁকে অন্য অভিনেতাদের থেকে আলাদা পরিচিতি দেয়। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ব্যানশিজ অব ইনিশেরিন’ তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করে। ছবিতে ডমিনিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০২৩ সালে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পান। একই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বাফটা পুরস্কারও জিতেছেন।
"অর্থ, খ্যাতি আমার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা নয়। আমার কাছে সাফল্য হলো সুখী থাকা এবং আমার আশপাশের মানুষদেরও সুখী রাখা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ডাবলিন, আইরল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্যারি কিওগান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩টি বাড়ি, ৭ বছর, ১২ বছর বয়সে মা মারা যান, ১৬ বছর বয়সে স্কুল থেকে বহিষ্কৃত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!