📌 নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক অ্যান কারসন 'রং নর্মা' বইয়ের নামকরণের পিছনে 'ভুল' ও 'ভদ্রতা'র সংকেতের কথা বলেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপ ও ভাষার ব্যক্তিগততা নিয়ে আলোচনা করেছেন
নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক অ্যান কারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপ, ভাষার ব্যক্তিগততা এবং লেখার গভীরতায় নিমজ্জিত। ব্রুকলিনের লেখক কেট ডোয়ারের সঙ্গে ২০২৩ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারে তিনি 'রং নর্মা' বইয়ের নামকরণের পিছনে লুকিয়ে থাকা 'ভুল' ও 'ভদ্রতা'র সংকেতের কথা উন্মোচন করেছেন। আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইক্যাভিকে অবস্থানরত কারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে কীভাবে লেখকদের মানসিকতা প্রভাবিত করে, তার কথা বলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 "কানাডীয়রা মার্কিনদের চেয়ে ভদ্র, কিন্তু ভুল" — এই স্বভাবের কথা বলেছেন অ্যান কারসন, যেটি 'রং নর্মা' বইয়ের নামকরণের পিছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপে লেখকদের ভুল করার ভয় এবং সাবধানে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
- 📌 ভাষা ব্যক্তিগত বিষয়, প্রত্যেকের ভাষা আলাদা — এই ধারণার কথা বলেছেন কারসন, যা সম্পর্কের গভীরতায় অনুবাদের মতো চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।
- 📌 অনুবাদক হিসেবে তিনি ভাষার পার্থক্য এবং মূল লেখা থেকে অনুবাদে যে অসম্পূর্ণতা তৈরি হয়, তার কথা বলেছেন।
- 📌 লেখার সময়ও তিনি ভাবনার অনুসরণের কথা তুলে ধরেছেন, যা শিয়ালের মতো রহস্যময় চরিত্রের সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
অ্যান কারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে লেখকদের মানসিক চাপের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার জন্য লেখকদের সাবধানে কথা বলতে হয়। কারণ, সেখানে প্রতিটি কথার বিচার হয় এবং কেউ কত ভালো, কে কত উঁচু পদে আছে — এসব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই চাপের কথা তিনি 'রং নর্মা' বইয়ের নামকরণের পিছনে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, "কানাডীয়রা মার্কিনদের চেয়ে ভদ্র, কিন্তু ভুল" — এই স্বভাবের কথা তিনি নিজের বইয়ের নামকরণের পিছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কারসন ভাষার ব্যক্তিগততা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একজন মানুষ যখন কথা বলে, সে আসলে কী বোঝাতে চায়, অন্য মানুষ কখনোই পুরোপুরি বুঝতে পারে না। তিনি ভাষাকে অনুবাদের মতো তুলনা করেছেন, যেখানে প্রতিটি বাক্য একটি কঠিন জায়গা পার হওয়ার চেষ্টা। তিনি বলেছেন, "প্রত্যেক মানুষের ভাষা একটু আলাদা। অনেক সময় তা অদ্ভুতও হয়। তাই একে অনুবাদ বলা যায়। তবে ব্যাপারটা তার চেয়ে কঠিন।"
অ্যান কারসন অনুবাদক হিসেবে ভাষার পার্থক্য এবং মূল লেখা থেকে অনুবাদে যে অসম্পূর্ণতা তৈরি হয়, তার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, অনুবাদক যখন কাজ করেন, তখন তাঁর মাথায় একই সঙ্গে দুটি ভাষা থাকে। তিনি বলেছেন, "দুটি ভাষা কখনোই পুরোপুরি এক হয় না। তাই দুটো সম্ভাবনাই মাথায় ভাসতে থাকে।" তিনি এমিলি ডিকিনসনের লেখার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি একটি শব্দ লেখেন, তারপর সেটি কেটে দিয়ে অন্য শব্দ লেখেন। এই ধরনের অসম্পূর্ণতা এবং কাটাকাটি অনুবাদেও ঘটে।
"আমি সেই জায়গাকে একটা খাদের মতো ভাবি। যেন দুটি রাস্তার মাঝখানে একটা খাদ। অনুবাদক যখন কাজ করেন, তখন তাঁর মাথায় একই সঙ্গে দুটি ভাষা থাকে। তিনি এক ভাষার কথা অন্য ভাষায় বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুটি ভাষা কখনোই পুরোপুরি এক হয় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইক্যাভিক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যান কারসন
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৩ সালের অক্টোবর (সাক্ষাৎকারের তারিখ), ১৭ এপ্রিল ২০২৪ (সাক্ষাৎকার প্রকাশের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!