📌 অমিতাভ বচ্চন ১১ অক্টোবর ২০২৬ তার ৮৪তম জন্মদিনে উদযাপন করছেন। ১৯৮২ সালের বেঙ্গালুরু দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মুখে পড়েও তিনি ফিরে এসেছিলেন। সেই ঘটনার পাশাপাশি তার জীবনের অন্যতম মাইলফলকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো
অমিতাভ বচ্চন ১১ অক্টোবর ২০২৬ তার ৮৪তম জন্মদিনে উদযাপন করছেন। এই দিনে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে (বর্তমানে প্রয়াগরাজ) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার জীবনের শুরু ছিল সাধারণ, কিন্তু তারকা হিসেবে উঠে আসার পথে তিনি অতিক্রম করেছেন অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা। তার জীবনের এক অন্যতম মাইলফলক ছিল ১৯৮২ সালের বেঙ্গালুরু দুর্ঘটনা, যেখানে তিনি মৃত্যুর মুখে পড়েও ফিরে এসেছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৪২ সালের এই দিনে উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে (বর্তমানে প্রয়াগরাজ) জন্মগ্রহণ করেন অমিতাভ বচ্চন, কবি হরিবংশ রাই বচ্চন ও তেজি বচ্চনের ছেলে হিসেবে।
- 📌 প্রথমে তার নাম রাখা হয় ‘ইনকিলাব’, পরে কবি সুমিত্রানন্দন পন্তের পরামর্শে নাম পরিবর্তন হয় ‘অমিতাভ’।
- 📌 ১৯৬৯ সালে ‘সাত হিন্দুস্তানি’ ছবিতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার।
- 📌 ‘কুলি’ সিনেমায় ১৯৮২ সালের ২৬ জুলাই দুর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুর মুখে পড়েন, কিন্তু চিকিৎসা ও ভক্তদের প্রার্থনার মাধ্যমে জীবন বাঁচান।
- 📌 দুর্ঘটনার পর তার যকৃতের প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ২০০০ সালে হেপাটাইটিস-বি সংক্রমণের কারণে প্রকাশ পায়।
- 📌 ‘কুলি’ ছবির শেষে তার চরিত্রের মৃত্যুর পরিকল্পনা বদলে যায়, কারণ দর্শকরা পর্দায় তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছিল না।
- 📌 ১৯৭০-এর দশকে রাজেশ খান্নার সঙ্গে তার প্রতিযোগিতা থেকে ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ পরিচয় গড়ে তোলেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
অমিতাভ বচ্চনের জীবনের শুরু ছিল সাধারণ। তার লম্বা গড়ন ও ভারী কণ্ঠস্বর চলচ্চিত্র জগতে তাকে নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সেই কণ্ঠস্বরই পরে তার অন্যতম পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়। তার চেহারা একসময় প্রচলিত নায়কের ছাঁচে খাপ খেতে পারছিল না, কিন্তু পরে ভারতীয় মধ্যবিত্তের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে।
১৯৬৯ সালে ‘সাত হিন্দুস্তানি’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটান। কিন্তু তার জীবনের মোড় বদলে দেয় ‘জঞ্জির’ ছবি। এই ছবিতে তিনি ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ পরিচয় গড়ে তোলেন। ‘দিওয়ার’, ‘শোলে’, ‘ত্রিশূল’ ও ‘কালা পাথর’ ছবিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ক্ষুব্ধ তরুণের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তা পান। তার বহু সিনেমায় চরিত্রের নাম ছিল ‘বিজয়’, যা ২০টিরও বেশি ছবিতে দেখা যায়।
১৯৮২ সালের ২৬ জুলাই বেঙ্গালুরুতে ‘কুলি’ সিনেমার শুটিং চলছিল। সহ-অভিনেতা পুনীত ইসারের সঙ্গে মারপিটের দৃশ্য করতে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। দৃশ্য অনুযায়ী, তিনি টেবিলের ওপর লাফ দেবেন, কিন্তু সময়ের সামান্য ভুলের কারণে তিনি টেবিলের কোণে আঘাত পান। পেটে আঘাত লাগে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্ত্র। শুরুতে ঘটনাটি শুটিংয়ের সাধারণ দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও দ্রুত পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে পড়ে। তিনি মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসা লাভ করেন। একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয়। ভারতজুড়ে ভক্তদের উদ্বেগ আর প্রার্থনার কেন্দ্র হয়ে ওঠেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর তিনি বেশ কয়েক মাস ধরে সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই করেন। তিনি পরবর্তী সময়ে ঘটনাটিকে নতুন জীবন পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই দুর্ঘটনা শুধু তার জীবনকেই ওলটপালট করেনি, বদলে দেয় ‘কুলি’ সিনেমার ভাগ্যও। পরিচালকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছবির শেষে তার চরিত্রের মৃত্যুর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তব জীবনে তার মৃত্যুর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন দর্শকরা পর্দায়ও তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছিল না। ফলে ছবির সমাপ্তি বদলে দেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে মুক্তির পর ‘কুলি’ হয়ে ওঠে বছরের অন্যতম বড় ব্যবসাসফল সিনেমা।
"দুর্ঘটনার পর শুটিংয়ে ফেরার ঘটনাটিও ছিল স্মরণীয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঋষি কাপুরের স্মৃতিচারণার উল্লেখ রয়েছে—অমিতাভের প্রত্যাবর্তনের শুটিং দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ (বর্তমানে প্রয়াগরাজ), বেঙ্গালুরু, মুম্বাই
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অমিতাভ বচ্চন, কবি হরিবংশ রাই বচ্চন, কবি সুমিত্রানন্দন পন্ত, রাজেশ খান্না
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪ (জন্মদিন), ১৯৪২ (জন্মবর্ষ), ১৯৮২ (দুর্ঘটনার বছর), ২৬ (জুলাই), ৭৫ (শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!