📌 আইয়ুব বাচ্চু জাপানি গিটার দোকানে তাচ্ছিল্য পেলেও জেদী জবাব দিয়ে গিটারটি বাজিয়ে দোকানদারের মন জয় করেন। বাংলাদেশের গিটার জাদুকর হিসেবে পরিচিত তিনি, যিনি মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেমের কথা বলতেন। ২০১৮ সালে মৃত্যুর পরও তাঁর কবর অবহেলিত রয়েছে
বাংলাদেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু এক সময় তাচ্ছিল্য ও অপমানের মুখোমুখি হলেও তার জেদ ও প্রতিভা দোকানদারের মন জয় করে নিল। ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের একটি গিটার দোকানে তিনি জাপানি ব্র্যান্ড আইভানেজের একটি গিটার দেখে পছন্দ করেন। দোকানদার বাংলাদেশকে অপমান করে গিটারটি কেনার অনুমতি দেননি। কিন্তু আইয়ুব বাচ্চু তার দলের সদস্যদের ডলার নিয়ে গিটারটি কিনে নিতে চাইলেন। দোকানদার প্রথমে অস্বীকার করলেও বাচ্চু গিটার বাজিয়ে তার দক্ষতা দেখিয়ে দিলেন। দোকানদার অবাক হয়ে গিয়ে বললেন, ‘এই গিটার তোমার জন্যই। তুমাকে হাফ দামে দেব’। কিন্তু বাচ্চু বললেন, ‘আমি তোমার দেশকে অপমান করলে এই গিটার নেব না’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নিউইয়র্কে তাচ্ছিল্য থেকে জেদে জাপানি গিটার কিনে নেন আইয়ুব বাচ্চু** — দোকানদার বাংলাদেশকে অপমান করলে তিনি গিটার বাজিয়ে তার দক্ষতা দেখিয়ে দোকানদারের মন জয় করেন।
- 📌 **মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেমের কথা বলতেন** — তিনি বলতেন, ‘মা কষ্ট পেলে দেশ কষ্ট পাবে’। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের পাঠানোর কথা তিনি লজ্জাজনক বলে মনে করতেন।
- 📌 **সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি গভীর অনুরাগ** — তিনি মাইজভান্ডার দরবার শরিফের ভক্ত ছিলেন এবং সুফি সংস্কৃতির প্রতি বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করতেন।
- 📌 **মৃত্যুর আগে মায়ের কবর পরিষ্কার রাখার নির্দেশ** — চট্টগ্রামের চৈতন্যগলী কবরস্থানে তিনি মায়ের কবর পরিষ্কার রাখার জন্য টাকা দিয়েছিলেন এবং নিজের মৃত্যুর পর নিজেকে মায়ের পাশে সমাহিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
- 📌 **অবহেলিত কবর** — ২০১৮ সালে মৃত্যুর পর থেকে আইয়ুব বাচ্চুর কবর অবহেলিত এবং অরক্ষিত রয়েছে। তাঁর ভক্তরা কবর জিয়ারত করতে এসে কবর খুঁজে পান না।
📰 বিস্তারিত
আইয়ুব বাচ্চু তার জীবনের শুরুতে ঢাকায় আসার সময় মাত্র ৬০০ টাকা পকেটে নিয়ে এলিফ্যান্ট রোডের একটি হোটেলে থাকতেন। তিনি মেঝেতে পাটি বিছিয়ে ঘুমাতেন। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল দেশবরেণ্য গিটার জাদুকর হিসেবে পরিচিত হওয়া। তিনি মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা প্রকাশ করতেন। ২০০৪ সালে মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করান এবং বিদেশেও চিকিৎসা করিয়ে দেন। তিনি বলতেন, ‘দেশকে ভালোবাসতে হবে সবার আগে। কেননা মা কষ্ট পেলে দেশ কষ্ট পাবে’।
আইয়ুব বাচ্চু সুফিবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি মাইজভান্ডার দরবার শরিফের ভক্ত ছিলেন এবং আধ্যাত্মিক সুফি সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করতেন। তিনি পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমানের বাসায় গিয়ে আবেগাপ্লুত হন। তিনি বলতেন, ‘মা–বাবা ছাড়া আমি কিছুই না। ওনাদের অবদানেই আমার জীবন। বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের পাঠানোর কথা তিনি লজ্জাজনক বলে মনে করতেন এবং বলতেন, ‘টাকাপয়সা থাকলে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠিয়ে অন্তত একটা ঘর ভাড়া করে মাকে আলাদা রাখুন’।
১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কে কনসার্টের পর তিনি এলআরবি ব্যান্ডের সদস্যদের সাথে একটি শপিং মলে গিয়ে জাপানি ব্র্যান্ড আইভানেজের একটি গিটার দেখেন। দোকানদার বাংলাদেশকে অপমান করে গিটারটি কেনার অনুমতি দেননি। কিন্তু আইয়ুব বাচ্চু তার দলের সদস্যদের ডলার নিয়ে গিটারটি কিনে নিতে চাইলেন। দোকানদার প্রথমে অস্বীকার করলেও বাচ্চু গিটার বাজিয়ে তার দক্ষতা দেখিয়ে দিলেন। দোকানদার অবাক হয়ে গিয়ে বললেন, ‘এই গিটার তোমার জন্যই। তুমাকে হাফ দামে দেব’। কিন্তু বাচ্চু বললেন, ‘আমি তোমার দেশকে অপমান করলে এই গিটার নেব না’।
আইয়ুব বাচ্চু ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি চট্টগ্রামের চৈতন্যগলী কবরস্থানে মায়ের কবর পরিষ্কার রাখার জন্য টাকা দিয়েছিলেন এবং নিজের মৃত্যুর পর নিজেকে মায়ের পাশে সমাহিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর পর থেকে তাঁর কবর অবহেলিত এবং অরক্ষিত রয়েছে। তাঁর ভক্তরা কবর জিয়ারত করতে এসে কবর খুঁজে পান না।
"আমার বাড়ি পটিয়া, তোমরা আমাকে গাওয়ার জন্য দাওয়াত করো না। আগে দাওয়াত করে দেখতে, সম্মানী না নিতাম"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, নিউইয়র্ক, জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইয়ুব বাচ্চু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০০ টাকা, ১০ মাস, ১০ দিন, ১৮ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!