📌 ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার গঁকুরের তালিকা থেকে কানাডীয়-হাইতীয় লেখক থেলিসোঁ ওরেলিয়েনের উপন্যাস বাদ দেওয়া হয়েছে। এআই দিয়ে লেখার অভিযোগে বিতর্কের পর আকাদেমি গঁকুর সিদ্ধান্ত নেয়। লেখক অভিযোগকে বর্ণবিদ্বেষের চিহ্ন বলে দাবি করেন
ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার গঁকুরের তালিকা থেকে কানাডায় বসবাসকারী হাইতীয় লেখক থেলিসোঁ ওরেলিয়েনের উপন্যাস *সেতেঁ সা উ মুরি* বাদ দেওয়া হয়েছে। এআই দিয়ে লেখার অভিযোগের পর আকাদেমি গঁকুরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে লেখকের সৃষ্টিকর্মের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার উদ্দেশ্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গঁকুর পুরস্কারের তালিকা থেকে বাদ: ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকা থেকে থেলিসোঁ ওরেলিয়েনের উপন্যাস *সেতেঁ সা উ মুরি* বাদ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 এআই লেখার অভিযোগ: ২১ সেপ্টেম্বর এক্সে প্রকাশিত অভিযোগে দাবি করা হয়, উপন্যাসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লেখা।
- 📌 ৩৫ হাজার কপি বিক্রি: প্রকাশের পর থেকে বইটির বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কপি।
- 📌 ২০টি দেশে অনুবাদের স্বত্ব বিক্রি: উপন্যাসটি ২০টিরও বেশি দেশে অনুবাদ প্রকাশের জন্য স্বত্ব বিক্রি হয়েছে।
- 📌 বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ: লেখক থেলিসোঁ ওরেলিয়েন অভিযোগকে বর্ণবিদ্বেষের চিহ্ন বলে দাবি করেন।
- 📌 বেনামি অ্যাকাউন্টের মালিক স্যামুয়েল ফিতুসি: ফরাসি সংবাদপত্র লে ফিগারো জানায়, অভিযোগের পেছনে রয়েছে তাদের কলাম লেখক স্যামুয়েল ফিতুসি।
- 📌 প্রকাশক নিরপেক্ষতা দাবি: কানাডার বোরেয়াল প্রকাশনী বলেছে, তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
📰 বিস্তারিত
হাইতিতে জন্মগ্রহণকারী ৩৮ বছর বয়সী থেলিসোঁ ওরেলিয়েনের উপন্যাস *সেতেঁ সা উ মুরি* ফ্রান্সের গ্রাসে প্রকাশিত হয়েছে। বইটি একজন ইতিহাস ও ভূগোল শিক্ষকের নিজের মুখে বলা কাহিনি নিয়ে লেখা। লেখক নিজের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে তোলেন এই উপন্যাস, যেখানে তিনি হাইতির গ্যাং সহিংসতা থেকে পালিয়ে ১২টি দেশ পেরিয়ে কানাডায় আশ্রয় নেন।
বইটি প্রকাশের পর থেকে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। প্রায় ৩৫ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে এবং ২০টিরও বেশি দেশে অনুবাদের স্বত্ব বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও, উপন্যাসটি পেয়েছে ফনাক উপন্যাস পুরস্কার। তবে, ২১ সেপ্টেম্বর এক্সে একটি বেনামি অ্যাকাউন্ট *ব্যালান্স তোঁ ক্লদ* দাবি করে, উপন্যাসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে লেখা। তারা প্যাংগ্রাম নামের একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই দাবি করেন।
লেখক থেলিসোঁ ওরেলিয়েন অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় সৃষ্টিশীলতা ও লেখালেখি ভালোবাসি। আমি কেন একটি যন্ত্র ব্যবহার করতে যাব, সেটাই বুঝি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার লেখায় হাইতি ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের নিজস্ব ভাষা ও ছন্দ ব্যবহার করা হয়েছে। চিত্রকল্প, পুনরাবৃত্তি ও ছন্দ এগুলো আমার নিজস্ব।’
ফরাসি সংবাদপত্র লিবেরাসিওঁকে ওরেলিয়েন বলেন, ‘আমাকে চুপ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কেবল বইটিকে আক্রমণ করার চেষ্টা নয়, বিশেষ করে আমার কণ্ঠকেই আক্রমণ করা হচ্ছে।’ তিনি সর্বশেষ অভিযোগগুলো নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করবেন না।
বেনামি অ্যাকাউন্টের মালিক স্যামুয়েল ফিতুসি, যিনি ফরাসি সংবাদপত্র লে ফিগারোর কলাম লেখক, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, তিনি প্রযুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী হলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসময় মানুষের পড়া ও লেখার অভ্যাস বিলীন করতে পারে। এই উদ্বেগ থেকেই তিনি এই প্রচার শুরু করেছেন।
কানাডার বোরেয়াল প্রকাশনী একটি বিবৃতিতে জানায়, ‘বিশ্বাসযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এই বই প্রকাশের অধিকার আছে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের কাজ নয়।’ তারা সবাইকে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন।
"আমি সব সময় সৃষ্টিশীলতা ও লেখালেখি ভালোবাসি। আমি কেন একটি যন্ত্র ব্যবহার করতে যাব, সেটাই বুঝি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স (গ্রাস), কানাডা, হাইতি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: থেলিসোঁ ওরেলিয়েন, স্যামুয়েল ফিতুসি
- 📖 উপন্যাসের নাম: *সেতেঁ সা উ মুরি*
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ বছর (ওরেলিয়েনের বয়স), ১২টি দেশ (পেরিয়ে যাওয়া), ৩৫ হাজার কপি (বিক্রি), ২০টি দেশ (অনুবাদ স্বত্ব বিক্রি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!