📌 ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অমর আচার্য রাধিকামোহন মৈত্রের অবদান নিয়ে আলোচনা করেছেন তাঁর জীবনীকার ও সরোদবাদক সোমজিৎ দাশগুপ্ত। তিনি বলেছেন, রাধিকামোহন মৈত্রের উপস্থিতি ভারতীয় সংগীতের পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী-সদৃশ, যার অভাবে ধারা হারিয়ে যেতে পারে। তাঁর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শিষ্যদের কর্তব্য ও ধ্রুপদি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অমর আচার্য রাধিকামোহন মৈত্রের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তাঁর জীবনীকার ও প্রখ্যাত সরোদবাদক সোমজিৎ দাশগুপ্ত। সোমজিৎ দাশগুপ্তের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, রাধিকামোহন মৈত্রের উপস্থিতি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী ব্যাকরণের মতো — যার অভাবে ধারা হারিয়ে যেতে পারে। তাঁর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই সাক্ষাৎকারে শিল্পী ও শিষ্যদের কর্তব্য, ধ্রুপদি চর্চা এবং আচার্যের অবিস্মরণীয় অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাধিকামোহন মৈত্রের উপস্থিতি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী ব্যাকরণের মতো — এর অভাবে ধারা হারিয়ে যেতে পারে, বলেছেন সোমজিৎ দাশগুপ্ত।
- 📌 ৪৫ বছর আগে (১৯৮১) মৃত্যুবরণকারী আচার্য রাধিকামোহন মৈত্রের জন্ম হয়েছিল ১৯১৭ সালে রাজশাহীর তানোরের তালন্দ জমিদারবাড়িতে।
- 📌 ৩২ ধরনের বাদ্যযন্ত্র তাঁর কাছ থেকে পেয়েছেন শিষ্যদের, যা অবিভক্ত বাংলায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
- 📌 রবিশঙ্কর একবার বলেছিলেন, ‘তোমরা তো ওনার ছাত্র — যেখানেই বসে গান-বাজনা করো না কেন, কেউ ফেলে দিতে পারবে না।’
- 📌 রাধিকামোহন মৈত্র ছিলেন গভীর শিল্পের উপাসক, যিনি ধ্রুপদি দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রেখেছিলেন কিন্তু ভেতরে আধুনিক ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
সোমজিৎ দাশগুপ্তের মতে, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রাচীনত্ব নির্ধারণ করা কঠিন — সম্ভবত ৬ থেকে ১০ হাজার বছর পুরানো হতে পারে। তিনি বলেন, “ভারতীয় সভ্যতা ও এর প্রাচীনত্ব বারবার উন্মুক্ত হচ্ছে। এখানে যাঁরা আচার্য, ঋষি, শিল্পী — তাঁদের কাজগুলোও কালোত্তীর্ণ। সেই পরম্পরাটি এভাবে চলে আসছে বলেই এ ধারা এত সমৃদ্ধ।”
রাধিকামোহন মৈত্রের উপস্থিতি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, “রাধিকামোহন মৈত্রকে বাদ দিলে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত নানা রকমের আলো হারায়। বিষয়টি আধুনিক প্রজন্ম কতটা মনে রাখছে বা রাখছে না, তাতে কিছু আসে যায় না।” এই কথাগুলো তিনি তুলে ধরেন রবিউল আলম খানের সাক্ষাৎকারে।
সোমজিৎ দাশগুপ্তের মতে, রাধিকামোহন মৈত্রের শিষ্যদের কর্তব্য হলো তাঁর ধ্রুপদি দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রাখা। তিনি বলেন, “আমি একভাবে শিখেছি, এখন তোমাদের একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শেখাচ্ছি। সেই শেখানোর ফলটা এমন হয়েছিল যে পণ্ডিত রবিশঙ্কর একবার আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমরা তো ওনার ছাত্র। তোমরা যেখানেই বসে গান-বাজনা করো না কেন, কেউ ফেলে দিতে পারবে না।’”
রাধিকামোহন মৈত্রের জানাশোনা ও চর্চা গভীর প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “তাঁর শিক্ষা, চর্চা, পরম্পরা ও চিন্তাভাবনা গভীর প্রভাব ফেলছে, ভবিষ্যতেও ফেলবে। তিনি সব সময় শিক্ষা ও পড়াশোনাকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন।”
"রাধিকামোহন মৈত্রের উপস্থিতি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী ব্যাকরণের মতো — এর অভাবে ধারা হারিয়ে যেতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী (জন্মস্থান), কলকাতা (সংগীত পরম্পরা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোমজিৎ দাশগুপ্ত, রাধিকামোহন মৈত্র, রবিশঙ্কর, রিতা গাঙ্গুলি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ (মৃত্যুবার্ষিকী), ১৯১৭ (জন্মবছর), ৩২ (বাদ্যযন্ত্রের ধরন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!