📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মাধাইপুর গ্রামের তুরি সম্প্রদায়ের ২৯ বছর বয়সী কাজল পাঁড়ে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ২০০ জনের মধ্যে ১৪০তম স্থান পেয়ে সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। দারিদ্র্যের মধ্যে পড়াশোনা করে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মাধাইপুর গ্রামের তুরি সম্প্রদায়ের ২৯ বছর বয়সী কাজল পাঁড়ে (২৯) ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ২০০ জনের মধ্যে ১৪০তম স্থান পেয়ে সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এই সাফল্যে গ্রামবাসীরা আনন্দে মেতে উঠেছেন এবং তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাধাইপুর গ্রামের তুরি সম্প্রদায়ের কাজল পাঁড়ে (২৯) সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় ২০০ জনের মধ্যে ১৪০তম স্থান পেয়ে।
- 📌 কাজল পাঁড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সময়ই বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
- 📌 দারিদ্র্যের মধ্যে পড়াশোনা করে টিউশন দিয়েও পরিবারের খরচ চালিয়েছেন তিনি।
- 📌 বাবা নরেশ পাঁড়ে বলেছেন, ‘হামার বেটা যেন গরিবের উপকারে লাগে’।
- 📌 মাধাইপুর গ্রামের মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
📰 বিস্তারিত
মাধাইপুর গ্রামের ভূমিহীন কৃষক পরিবারের একমাত্র সন্তান কাজল পাঁড়ে। তিনি ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করেছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে পূরণ হয়েছে তাঁর বিচারক হওয়ার স্বপ্ন।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক বিভূতিভূষণ মাহাতো বলেছেন, তুরি জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজল পাঁড়েই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী। উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের মধ্যেও কাজলই প্রথম জুডিশিয়ারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
কাজল পাঁড়ে বলেছেন, ‘আমার আট বছরের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ২০১৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার দিনই স্বপ্ন দেখেছিলাম, আমি বিচার বিভাগের ক্যাডার হব। প্রথমেই আমার মনে হয়েছে, এর পেছনে অনেক ত্যাগ, হতাশা জমা হয়ে আছে। অনেক কান্না জমা হয়ে আছে। সেই সব কঠিন দিনের কথাই মনে পড়েছে সবার আগে।’
"বা, আমি জজে পরীক্ষা দিয়েছিনু, সেটাতে পাস করেছি। ভগবান হামাকে পাস করিয়েছেন।"
বাবা নরেশ পাঁড়ে বলেছেন, ‘বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় হামার ছেলে হামাকে ফোন দিয়ে বলল, “বা, আমি জজে পরীক্ষা দিয়েছিনু, সেটাতে পাস করেছি। ভগবান হামাকে পাস করিয়েছেন।” তারপর সে খবরে হামাদের কী যে আনন্দ হইছে, তা কহিতে পারব না। হামাদের বেটা যেন অনেক বড় হয়, গরিবের উপকারে লাগে। বেটার জন্যি বুক গর্বে ফুলে উঠিছে। হামাকে তো ভালো লাগছে, গ্রামের সবাই এখন হামার ছেলেকে নিয়ে আনন্দে মেতে আছে।’
মাধাইপুর গ্রামের মোড়ল নিরঞ্জন তিরকি বলেছেন, কাজল পাঁড়েকে দেখে এলাকার আদিবাসী ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত হবে। তাঁর সাফল্য অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। পার্বতীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, ‘গোবরে পদ্মফুল ফুটেছে। ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো পড়াশোনা করত এবং প্রচণ্ড মেধাবী ছিল। তাদের বলতে গেলে কোনো জমিজমা নেই। নিজের মেধা, চেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে আজ সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একজন তরুণ হিসেবে আমাদের উপজেলায় এত বড় একটি পদে তার সুপারিশ প্রাপ্তি সত্যিই গর্বের বিষয়। তার এই সাফল্য আমাদের এলাকার অন্য তরুণদেরও অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাধাইপুর গ্রাম, গোমস্তাপুর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজল পাঁড়ে (২৯), নরেশ পাঁড়ে, বিভূতিভূষণ মাহাতো, নিরঞ্জন তিরকি, মোয়াজ্জেম হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ বছর বয়স, ১৮তম বিজেএস পরীক্ষা, ২০০ জনের মধ্যে ১৪০তম স্থান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!