📌 সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষে প্রকাশকরা দাবি করছেন, বই বিক্রির পতন এবং রাজনৈতিক খেলার কারণে কবিতার বই বিক্রি হচ্ছে না। একুশের বইমেলা থেকে শুরু করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বইমেলা নীতির কারণে প্রকাশকরা লাখ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন
বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের সময় প্রকাশকরা একটি চিন্তাজনক প্রশ্ন তুলেছেন: কেন কবিতার বই বিক্রি হচ্ছে না? এক দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক একদিন আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কবিতার বই বিক্রি হয় না কেন?’ আমি উত্তর দিয়েছিলাম, ‘এটি সাহিত্যের জন্য মারাত্মক লক্ষণ। পাঠক যদি কবিতা পছন্দ না করে, তাহলে তা আমাদের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রকাশকরা দাবি করছেন, গত দু-তিন বছরে সব ধরনের বই বিক্রি ভয়াবহভাবে কমেছে, বিশেষত কবিতা ও সাহিত্য বই।
- 📌 ধর্মীয় বই ছাড়া অন্য কোনো বই বিক্রি হচ্ছে না, এমনকি কিছু ধর্মীয় বইও বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
- 📌 অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বইমেলা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা চলার কারণে প্রকাশকরা লাখ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- 📌 স্বাধীনতার পর থেকে বইমেলার ব্যাপ্তি বর্ধমান হাউস থেকে রমনা পার্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু বর্তমান নীতির কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
- 📌 সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষে তার কবিতা থেকে মানুষ বিস্মৃত হয়নি, কিন্তু বই বিক্রির পতন তার জনপ্রিয়তার সাথে সম্পর্কিত নয়।
📰 বিস্তারিত
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে বইয়ের বিক্রি একটি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখেছিল। বিভিন্ন জেলা শহরে বইমেলা অনুষ্ঠিত হতো এবং প্রকাশকরা সেখান থেকে লাভবান হতেন। বিশেষত একুশের বইমেলা বর্ধমান হাউস থেকে শুরু করে রমনা পার্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। মেলার ভিড় এমন পর্যায়ে পৌঁছত যে পুলিশ বাহিনীকে মোতায়েন করতে হতো। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বইমেলা নিয়ে রাজনৈতিক খেলা চলার কারণে প্রকাশকরা লাখ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শোনা যায়, আগামী বইমেলাটি জানুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হবে, যা একুশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বইমেলার জনপ্রিয়তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬) একজন অসামান্য কবি ছিলেন যিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে মৃত্যুবরণ করেন। তার কবিতা গণমানুষের জীবনকে নিবিড়ভাবে তুলে ধরেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সমাজের অসাম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা মানুষকে প্রভাবিত করেছিল। তার কবিতায় ব্যবহৃত উপমাগুলি পাঠককে বিস্মিত করে তোলে, যেমন ‘পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’। এই কবির মৃত্যুর পরেও তার কবিতা থেকে মানুষ বিস্মৃত হয়নি। আমরা কৈশোরে তার ‘চটি’ কবিতার বই পড়েছি এবং যৌবনে ‘রানার’ কবিতার গান শুনেছি।
বাংলা কবিতার উৎসস্থল চর্যাপদ এবং মঙ্গলকাব্য থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলা কবিতার বিকাশ ঘটে মাইকেল মধুসূদনের হাত ধরে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ডি এল রায়, রজনীকান্ত সেন এবং অতুলপ্রসাদ সহ গীতি কবিদের অবদান ছিল অপরিসীম। পরবর্তীকালে জীবনানন্দ দাশ এবং তিরিশের কবিদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে বাংলার সাহিত্য জগতে। সুকান্ত ভট্টাচার্য এই ঐতিহ্যের ধারক ছিলেন এবং তার কবিতা শ্রেণিসংগ্রামের কবি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
"পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। পূর্ণিমার চাঁদকে তিনি ঝলসানো রুটি ভেবেছেন, যা দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেন, মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রকাশকরা, সম্পাদক, মাইকেল মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ডি এল রায়, রজনীকান্ত সেন, অতুলপ্রসাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ বছর (সুকান্তের বয়স), ১৯২৬ (সুকান্তের জন্মবছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!