📌 এসএসসি ফলাফল ভালো হলেও ‘ভালো কলেজ’ পাওয়ার অপেক্ষায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ২৬ লাখের বেশি আসন থাকলেও নামী কলেজগুলোর ভর্তি প্রতিযোগিতা তীব্র। শিক্ষার্থীদের পছন্দের ভিত্তিতে কলেজের নামের প্রভাব ও ভর্তি প্রক্রিয়ার অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
এসএসসি ফলাফল প্রকাশের আনন্দের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের মনে আরেকটি চাপ জাগে — ‘ভালো কলেজ’ পাওয়ার দুশ্চিন্তা। জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দের মেয়াদ খুবই সংক্ষিপ্ত। ঘরে ফিরে অভিনন্দনের ফোন আসে, কিন্তু সেই আনন্দের সাথে সাথে শুরু হয় নতুন হিসাব: নিজের মোট নম্বর কত? পছন্দের কলেজে কত নম্বর পড়েছে? মাইগ্রেশনের মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন করা যাবে কি না? এই অনিশ্চয়তা ভালো ফলের আনন্দকে দূরে সরিয়ে দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ২৬ লাখের বেশি আসন থাকলেও, ১১ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে।
- 📌 আনন্দ মোহন কলেজের ৯৮১টি আসনের বিপরীতে ৩২ হাজার শিক্ষার্থী পছন্দের তালিকায় কলেজটির নাম দিয়েছে।
- 📌 প্রথম ধাপে ১১টি কলেজে কোনো আবেদনও পড়েনি, কিন্তু নামী কলেজগুলোর ভিড় তীব্র।
- 📌 শিক্ষার্থীদের পছন্দের ভিত্তিতে কলেজের নামের প্রভাব ও ভর্তি প্রক্রিয়ার অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- 📌 সাজিদুর রহমান তাহসিন, কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে কলেজ ভর্তির চাপ নিয়ে লেখা রেখেছেন।
📰 বিস্তারিত
দেশে কলেজের আসনের অভাব নেই। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে আসনের সংখ্যা ২৬ লাখের বেশি। কিন্তু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রায় ১১ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী পাস করেছে। যদিও সবাই ভর্তি হতে পারে, তবুও অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে। কিন্তু এই আসনগুলোতে শিক্ষার্থীদের পছন্দের ভিত্তিতে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এমন কলেজ খোঁজেন, যেখানে পড়াশোনার মান ও পরিবেশ ভালো। কিন্তু এই পছন্দের ভিত্তিতে নামী কলেজগুলোর ভিড় তীব্র। আনন্দ মোহন কলেজের ৯৮১টি আসনের বিপরীতে ৩২ হাজার শিক্ষার্থী পছন্দের তালিকায় কলেজটির নাম দিয়েছে। এই নামী কলেজগুলোর ভিড় শুধু হুজুগ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পছন্দের ভিত্তিতে কলেজের নামের প্রভাবও বড়।
শিক্ষার্থীদের পছন্দের ভিত্তিতে কলেজের নামের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কারও কাছে নিয়মিত ক্লাস বড় বিষয়, কারও কাছে যাতায়াত, কেউ আবার আগের ফল বা পরিচিত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতায় ভরসা করেন। এইচএসসির দেড়-দুই বছর দ্রুত চলে যায়, এবং এরপরই জীবনের সবচেয়ে বড় ভর্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তাই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এমন একটা জায়গাই খোঁজেন, যেটা নিয়ে পরে আফসোস করতে হবে না।
এছাড়াও, যে কলেজগুলো শুরু থেকেই বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী পায়, তাদের ফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। সেই ফল কলেজের নামকে আরও শক্ত করে। পরের ব্যাচের পছন্দেও তার প্রভাব পড়ে। এই চক্রটাকে বাদ দেওয়া কঠিন। এত আসন থাকার পরও যদি অনেক কলেজ শিক্ষার্থীর পছন্দেই না আসে, তাহলে শুধু তাদের পছন্দকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ওই কলেজগুলো কেন ভরসার জায়গা হয়ে উঠছে না, সেটা নিয়ে আলোচনা করা দরকার।
"আমাদের সমাজে কিছু কলেজের নাম এমনভাবে গেঁথে গেছে যে সেখানে ভর্তি হওয়াটাও যেন আরেকটা সাফল্য। অভিভাবকেরাও চান, সন্তান এমন জায়গায় পড়ুক, যেটার পড়াশোনা ও পরিবেশ নিয়ে ভরসা করা যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাজিদুর রহমান তাহসিন (একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ লাখ (কলেজ আসন), ১১ লাখ ৪৪ হাজার (শিক্ষার্থী), ৯৮১ (আনন্দ মোহন কলেজের আসন), ৩২ হাজার (পছন্দের তালিকায় কলেজের নাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!