📌 এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। শতকরা হার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা শেষেও ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী মৌলিক পাঠ্যবোধে অক্ষম। শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার অকৃতকার্য হয়েছে প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী। শতকরা হিসাবে ঝরে পড়ার হার দাঁড়িয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। দশ বছর স্কুলে পড়াশোনার পরও এমন ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। এই বিপর্যয়ের দায়ভার শুধু কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নয়; শিক্ষার্থী, পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসন সবাই এর সমান অংশীদার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী
- 📌 ঝরে পড়ার হার দাঁড়িয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ
- 📌 দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড
- 📌 ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করতে পারেনি
- 📌 ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে মানবিক বিভাগে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য
- 📌 বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা শেষেও ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী মৌলিক পাঠ্যবোধে অক্ষম
- 📌 শিক্ষা খাতে জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ
📰 বিস্তারিত
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী। শতকরা হিসাবে ঝরে পড়ার হার দাঁড়িয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। দশ বছর স্কুলে পড়াশোনার পরও এমন ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার গভীর সংকটকে উন্মোচিত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যর্থতার দায়ভার শুধু শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের নয়; বরং পুরো শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাই এর প্রধান কারণ।
বিশ্বব্যাংকের ২০২৪ সালের ‘লার্নিং পভার্টি’ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরোনো ৫১ শতাংশ শিশুই বয়সোপযোগী সাধারণ পাঠ্য পড়ে বোঝার ন্যূনতম সক্ষমতা রাখে না। এর অর্থ হলো, শিক্ষার্থীরা শ্রেণি পরিবর্তন করেছে, সিলেবাস শেষ করেছে, কিন্তু প্রকৃত শিখনঘাটতি রয়ে গেছে। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ জন ডিউই বলেছিলেন, ‘আমরা যদি আজকের শিক্ষার্থীদের গতকালের নিয়মে শেখাই, তবে আমরা মূলত তাদের ভবিষ্যৎ চুরি করছি।’
শিক্ষাবিদদের মতে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষামুখী হয়ে পড়েছে। মুখস্থবিদ্যাকে মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে সমস্যা বিশ্লেষণ, যৌক্তিক চিন্তন ও বাস্তব জীবনে জ্ঞানের প্রয়োগের মতো দক্ষতাগুলো অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। এবারের ফলাফলে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো দুই দশকে সর্বনিম্ন পাসের হার এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর একসঙ্গে ঝরে পড়া।
৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করতে পারেনি। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে মানবিক বিভাগে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও লাখো শিক্ষার্থী যদি ভাষা ও গণিতের মতো মৌলিক দক্ষতায় দুর্বল থাকে, তবে নিছক দায় স্বীকার করে এই ব্যর্থতা ঢাকা যাবে না।
"আমরা শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছি ঠিকই, কিন্তু গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারিনি। শিক্ষার্থী এক শ্রেণি থেকে আরেক শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে, সিলেবাস শেষ করেছে; কিন্তু তার প্রকৃত শিখনঘাটতি কোথায়, সে প্রশ্ন আড়ালেই থেকে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ লাখ, ৩৫-৪০ শতাংশ, ৫১ শতাংশ, ৩১২টি প্রতিষ্ঠান, ২ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!