📌 সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ইউনিয়ন পরিষদের বন্ধ অটিজম স্কুলে ১০৮ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্কুল বন্ধ হওয়ায় শিক্ষকরা কর্মহীন, শিশুরা মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়েছে। পুনরায় চালু করার জন্য প্রশাসনের দরখাস্ত দায়ের করা হয়েছে
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ইউনিয়ন পরিষদের বন্ধ অটিজম স্কুলে ১০৮ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিশুরা মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়েছে এবং শিক্ষকরা কর্মহীন হয়ে বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসক আফরিন জাহান জানান, স্কুল পুনরায় চালু করার জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দরখাস্ত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০৮ শিশু** শিক্ষা থেকে বঞ্চিত: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ইউনিয়ন পরিষদের বন্ধ অটিজম স্কুলে ১০৮ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে।
- 📌 **২০ শিক্ষক কর্মহীন**: স্কুল বন্ধ হওয়ায় ২০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
- 📌 **২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট** থেকে স্কুল বন্ধ: রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্কুল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- 📌 **১৮ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ**: স্কুল বন্ধ হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ১৮ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
- 📌 **শিশুরা মানসিক বিকাশে পিছিয়ে**: স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়েছে এবং বাড়ির বাইরে সামাজিক অবস্থান হারিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
২০১৪ সালে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় প্রতিষ্ঠিত ‘বেলকুচি অটিজম স্কুল’ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশের একমাত্র মাধ্যম ছিল। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্কুলটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “নানামুখী প্রশাসনিক ও আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে আমরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘর খালি করার নির্দেশ পাওয়ায় আমরা শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছি। বর্তমানে সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।”
অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা একঘেয়ে ও গৃহবন্দি জীবনযাপন করছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহমেদ জানান, “ভবনটি ইউনিয়ন পরিষদের হওয়ায় স্কুল চালু থাকা বা বন্ধ থাকা সম্পূর্ণ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। স্কুল বন্ধ থাকাকালীন সময়ে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।”
সরকারি কর্মকর্তা আফরিন জাহান (ইউএনও) বলেন, “২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছি। এখন স্কুল পুনরায় চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই আসবে।” তিনি আরও বলেন, “বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এসব শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার থেকে রক্ষা করতে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে দ্রুততম সময়ে স্কুলটি পুনরায় চালু করার জন্য দরখাস্ত করা হয়েছে।”
"স্কুল চলাকালে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। স্কুল বন্ধ হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই প্রায় ১৮ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।"
"নানামুখী প্রশাসনিক ও আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই আমরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘর খালি করার নির্দেশ দিলে আমরা শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে নিতে বাধ্য হই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ, বেলকুচি ইউনিয়ন পরিষদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহিদুল ইসলাম (প্রধান শিক্ষক), ফয়সাল আহমেদ (সচিব), আফরিন জাহান (ইউএনও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৮ শিশু, ২০ শিক্ষক, ১৮ মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, ৫ই আগস্ট ২০২৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!