📌 শরীয়তপুরের আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজে উদ্বোধনের তিন বছর পরও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় মাত্র একজন প্রশিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষা। ২০০ শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, ল্যাব ও উপবৃত্তি পাচ্ছেন না
শরীয়তপুরের আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজে উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পরও শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হয়নি। মাত্র একজন প্রশিক্ষক দিয়ে চলছে এই সরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। ২০০ শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শরীয়তপুরের ডামুড্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থিত আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজে মাত্র একজন প্রশিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম
- 📌 ৩৫ কোটি টাকায় নির্মিত একাডেমিক ভবন, ২৭৮ শয্যার হোস্টেল ও ল্যাব থাকলেও কোনো জনবল নিয়োগ হয়নি
- 📌 ২০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৭ জন নিয়মিত ক্লাসে আসেন, কিন্তু প্রশিক্ষক একার পক্ষে শিক্ষা দিতে পারছেন না
- 📌 ল্যাব ও লাইব্রেরি চালু হয়নি, শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও পাঠ্যবই পাচ্ছেন না
- 📌 অর্থনৈতিক কোড না থাকায় শিক্ষার্থীরা সরকারি উপবৃত্তি পাচ্ছেন না
- 📌 অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স জাহিদ হোসেন
- 📌 নার্সিং প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গাজীপুরের সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজের অসীমা রানী দাস সরকার
📰 বিস্তারিত
শরীয়তপুরের ডামুড্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে। তবে সেখানে সাতটি ল্যাবের মধ্যে একটিও চালু হয়নি। লাইব্রেরি থাকলেও সেখানে কোনো বই নেই। কলেজের অর্থনৈতিক কোড না থাকায় শিক্ষার্থীরা সরকারি উপবৃত্তি পাচ্ছেন না।
কলেজের অধ্যক্ষ জাহিদ হোসেন ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স। তিনি ২০২৩ সালে কলেজটি চালুর সময় সংযুক্তিতে নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান। নার্সিং প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অসীমা রানী দাস সরকার, যিনি গাজীপুরের সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ থেকে সংযুক্তিতে এসেছেন।
নার্সিং প্রশিক্ষক অসীমা রানী সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘চারটি ব্যাচের ২০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৫৭ জন নিয়মিত ক্লাসে আসেন। আমার একার পক্ষে একটি কলেজ চালানো খুবই কষ্টসাধ্য। শিক্ষার্থীরা যতটুকু শিক্ষা এই প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করার কথা, তার ২০ শতাংশ আমরা দিতে পারছি না। জানি না এদের ভবিষ্যৎ কী হবে?’
কলেজের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী বৃষ্টি রানী শীল বলেন, ‘ভর্তির সময় জানতাম না এখানে শিক্ষক নেই। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। সার্টিফিকেট পাবেন ঠিকই, তবে কী শিখে যাচ্ছেন তা বুঝতে পারছি না। ল্যাব চালু না হওয়ায় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পাচ্ছি না।’
শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘ল্যাবে ব্যবহারিক পড়ালেখা করা কোর্সের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। কিন্তু তা করতে পাচ্ছি না। উপবৃত্তি পেলে আর্থিক চাপ কমত।’
"চারটি ব্যাচের ২০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৫৭ জন নিয়মিত ক্লাসে আসেন। আমার একার পক্ষে একটি কলেজ চালানো খুবই কষ্টসাধ্য। শিক্ষার্থীরা যতটুকু শিক্ষা এই প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করার কথা, তার ২০ শতাংশ আমরা দিতে পারছি না। জানি না এদের ভবিষ্যৎ কী হবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ডামুড্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শরীয়তপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহিদ হোসেন (অধ্যক্ষ), অসীমা রানী দাস সরকার (প্রশিক্ষক), বৃষ্টি রানী শীল (শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ শিক্ষার্থী, ১৫৭ নিয়মিত আসা শিক্ষার্থী, ৩৫ কোটি টাকা নির্মাণ খরচ, ২৭৮ শয্যার হোস্টেল, ৯০% ছাত্রী, ১০% ছাত্র
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!