📌 বরগুনা সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারকেলগাছ থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর পা ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে বরিশালে চিকিৎসাধীন। অভিভাবকরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এবং স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন
বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারকেলগাছ থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়ে বর্তমানে বরিশালে চিকিৎসাধীন। দুর্জয় রায়ের পায়ে ভয়াবহ আঘাত লাগায় এবং রোববার সন্ধ্যায় অস্ত্রোপচার করা হয়। ঘটনার পর অভিভাবকরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এবং স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুর্জয় রায় (১২ বছর) নারকেলগাছ থেকে পড়ে পায়ে ভেঙে যাওয়ায় বরিশালে চিকিৎসাধীন
- 📌 সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার মিয়া তাকে গাছে উঠানোর অভিযোগে অভিভাবকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- 📌 ৩৫৭ শিক্ষার্থী থাকা বিদ্যালয়ে ঘটনার পর অর্ধেকের কম শিক্ষার্থী উপস্থিত
- 📌 অভিভাবক দিলীপ শিকদার ও বিপুল রায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন
- 📌 বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরিত
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারকেলগাছ থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হন। দুর্জয় রায়ের মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাতের পাশাপাশি একটি পা ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে শিক্ষকরা তাকে কোলে তুলে নিয়ে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার তাকে দ্রুত বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা না দিয়ে বর্তমানে বরিশালের একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন তিনি। রোববার সন্ধ্যায় তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
দুর্জয় রায়ের বাবা বিপুল রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষকেরা আমার ছেলেকে দিয়ে ডাব পাড়তে গাছে উঠিয়েছিলেন। সেখান থেকে পড়ে গিয়ে তার পা ভেঙেছে। এখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। ওর পায়ে অপারেশন হয়েছে এবং চোখেও সমস্যা হয়েছে।’ অভিভাবক দিলীপ শিকদার বলেন, ‘আমাদের এলাকার একটি ছেলেকে দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ডাব পাড়ানোর জন্য গাছে উঠান। সেখান থেকে পড়ে ওই ছেলের পা ভেঙে গেছে। আমরা ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠাব না, সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। তবে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. আসমা আক্তার ডেইজি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দিবা শিফটের পাঠদান শুরু হওয়ার পর সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার দুর্জয়কে কোলে তুলে নিয়ে আসেন। তখন ওই ছাত্রের নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। তবে কোন শিক্ষক তাকে গাছে উঠতে বলেছেন তা তিনি জানেন না।’
"আমাদের ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠাই। সেখানে এমন ন্যক্কারজনক আচরণ করা ঠিক হয়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের ছেলেমেয়েকে ওই বিদ্যালয় পাঠাব না।"
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ছালেহ জানান, ‘গাছ থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর পা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি তদন্ত করে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরগুনা সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দুর্জয় রায় (১২), বিপুল রায়, দিলীপ শিকদার, সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার মিয়া, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. আসমা আক্তার ডেইজি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫৭ শিক্ষার্থী, ১২ বছর (দুর্জয় রায়ের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!