📌 ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালু করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। তবে ২য় থেকে ৫ম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করছে
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে চলেছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রণয়ন করেছে ভর্তি নীতিমালার খসড়া, যেখানে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ২য় থেকে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে
- 📌 ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে (বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০, গণিত ৪০)
- 📌 প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি চলবে, তবে শিক্ষার্থীর বয়স ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে থাকতে হবে
- 📌 ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে করোনা মহামারির কারণে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয়েছিল
- 📌 শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৬ আগস্ট ঘোষণা করেছিল, প্রথম শ্রেণিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না
- 📌 শিক্ষামন্ত্রী ১৬ মার্চ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি প্রত্যাহার করা হবে
📰 বিস্তারিত
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রণয়িত ভর্তি নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারির মাধ্যমে বাছাই করা হবে। তবে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এই পরীক্ষায় বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষা সময়সীমা হবে দুই ঘণ্টা।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল আজকের পত্রিকাকে বলেন, খসড়া নীতিমালা শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় তা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করবে। তিনি আরও বলেন, প্রথমে চার শ্রেণি (দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি) ভর্তিতে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তা পরিবর্তন করা হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর বয়স ৬ বছরের বেশি ধরে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে। প্রতি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ৫৫ জন।
২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে করোনা মহামারির কারণে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয়েছিল। এর আগে ২০১১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে পরীক্ষার পরিবর্তে প্রথমবারের মতো লটারি পদ্ধতি চালু হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও এই পদ্ধতি চালু করা হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো।
"শিগগির ভর্তি নীতিমালার খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে তা চূড়ান্ত করবে মন্ত্রণালয়।"
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না, লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ১৬ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ভর্তিতে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আমরা লটারি সিস্টেম প্রত্যাহার করলাম’।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ স্কুলে লটারিতে শিক্ষার্থী ভর্তিপ্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদে ১৫ মার্চ এই বিষয়ে কথা বলেছিলেন। শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ হয়েছিল, কারণ তারা মনে করতেন, ভর্তি পরীক্ষা চালু করলে শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে এবং কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা বাড়বে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর), কুমিল্লা (দেবিদ্বার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, হাসনাত আবদুল্লাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৭ (শিক্ষাবর্ষ), ১০০ (নম্বরের পরীক্ষা), ৩০ (বাংলা), ৩০ (ইংরেজি), ৪০ (গণিত), ৫৫ (শিক্ষার্থী সংখ্যা), ৫ (বয়স), ৭ (বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!