📌 চট্টগ্রামের মিফতাহুল জান্নাত সায়মা বিশ্বের তিনটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়—অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ও হার্ভার্ড— থেকে উচ্চশিক্ষার অফার পেয়েছিলেন। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনে লার্নিং ডিজাইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। সায়মা শিক্ষা ও সামাজিক কাজে গভীর আগ্রহের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন
চট্টগ্রামের নন্দনকানন এলাকার মিফতাহুল জান্নাত সায়মা বিশ্বের তিনটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়—অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ও হার্ভার্ড— থেকে উচ্চশিক্ষার অফার পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেন। বর্তমানে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনে লার্নিং ডিজাইন, ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। সায়মা শিক্ষা ও সামাজিক কাজের প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বের তিনটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়—অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ও হার্ভার্ড— থেকে উচ্চশিক্ষার অফার পেয়েছেন চট্টগ্রামের মিফতাহুল জান্নাত সায়মা।
- 📌 হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনে লার্নিং ডিজাইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন সায়মা।
- 📌 সায়মা ৩.৯০ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং আইইএলটিএস স্কোর ৮.৫ পেয়েছেন।
- 📌 ফ্রান্সের প্যারিসের ‘সায়েন্সেস পো’ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিস্টার পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সায়মা।
- 📌 সায়মা শিক্ষা ও সামাজিক কাজে গভীরভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষা, মাসিকজনিত স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল সাক্ষরতা ও জীবিকা বিষয়ে কাজ করেছেন।
📰 বিস্তারিত
মিফতাহুল জান্নাত সায়মা চট্টগ্রামের নন্দনকানন এলাকার বাসিন্দা। তিনি দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। বোন বর্তমানে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার এবং ভাই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন। বাবা ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিণী। সায়মার মা-বাবা সন্তানদের শিক্ষার প্রশ্নে সবসময় দৃঢ় ছিলেন, যদিও নিজেদের পড়াশোনার সুযোগ ছিল সীমিত।
শৈশবে সায়মার কোনো নির্দিষ্ট পেশার স্বপ্ন ছিল না, তবে সমাজে বৈষম্য এবং মেয়েদের জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্যরা কেন নেয়—এসব প্রশ্ন তাঁকে ভাবাত। তিনি ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয় থেকে শুরু করে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে জিপিএ-৫ নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) ভর্তি হন এবং পলিটিকস, ফিলোসফি অ্যান্ড ইকোনমিকসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতক ডিগ্রিতে তিনি কম্পিউটার সায়েন্স এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে মাইনর হিসেবে পড়াশোনা করেন।
স্নাতক জীবনে সায়মা একটি ফান্ডেড এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে ফ্রান্সের প্যারিসের ‘সায়েন্সেস পো’ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিস্টার পড়ার সুযোগ পান। সেখানে তিনি ইউরোপের ২৩টি দেশ ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন দেশের মানুষ, সংস্কৃতি ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে কাছ থেকে জানতে পারেন। স্নাতক ডিগ্রি ২০২৩ সালে ৩.৯০ সিজিপিএ নিয়ে তিনি শেষ করেন।
সায়মা বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ক্লাসের বাইরের কাজেও জড়িত ছিলেন। তিন বছর প্রিক্যালকুলাসের মতো কোর্সে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং রাইটিং সেন্টারে টিউটর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি এআই ক্লাবের সভাপতি ছিলেন এবং মডেল ইউনাইটেড ন্যাশনসের নেতৃত্ব দিয়েছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণেও তাঁর আগ্রহ ছিল। ২০২২ সালে তাঁর প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘গিল্টি?’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্মমেকিং পুরস্কার পায়।
সায়মা কিশোর বয়স থেকেই চট্টগ্রামে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষা, মাসিকজনিত স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল সাক্ষরতা ও জীবিকা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করেছেন। বিদেশে পড়ার ইচ্ছা একদিনে তৈরি হয়নি। স্নাতক জীবনে নানা দেশের সহপাঠী এবং ফ্রান্সে এক্সচেঞ্জের অভিজ্ঞতা তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
"অফার লেটারে নিজের নাম দেখে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। বারবার যাচাই করেছি, সত্যিই কি এটা আমাকেই পাঠানো হয়েছে! প্রতিটি অফারই আমার কাছে সমান আনন্দের।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, নন্দনকানন; ফ্রান্সের প্যারিস; হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিফতাহুল জান্নাত সায়মা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩.৯০ (সিজিপিএ), ৮.৫ (আইইএলটিএস), ২৩ (দেশ), ৫ (অফার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!