📌 পদ্মা নদীর ভাঙনে পাঁচবার বাড়ি হারানোর মধ্যেও জাজিরার সাহারা আক্তার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সাফল্যের গল্প শেয়ার করে তিনি বলেছেন, আর্থিক সংকটে পড়ালেখা বন্ধ করার আগ পর্যন্ত টিউশনি দিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছিল। শরীয়তপুরে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি নিজের জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরেন
পদ্মা নদীর ভাঙনে পাঁচবার বাড়ি হারানোর মধ্যেও আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা সাহারা আক্তার। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি নিজের জীবনযাত্রার কষ্টপূর্ণ গল্প শেয়ার করেছেন। সকালে-বিকেলে গ্রামে টিউশনি দিয়ে এবং রাতভর বাসায় পড়াশোনা করে তিনি নিজের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মার ভাঙনে পাঁচবার বাড়ি হারানোর মধ্যেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন সাহারা আক্তার, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি মডেল একাডেমির শিক্ষার্থী
- 📌 বাবা সিরাজ খান কৃষিশ্রমিকের কাজ করলেও আর্থিক সংকটে পড়ালেখা বন্ধ করার আগ পর্যন্ত টিউশনি দিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়েছেন সাহারা
- 📌 শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোর জীবনে কোনো লক্ষ্য থাকে না’
- 📌 অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ, শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার দাস ও মালিহা রহমান
- 📌 ৬৪ জেলায় এসএসসি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প্রথম আলো ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখো
📰 বিস্তারিত
পদ্মা নদীর ভাঙনে পাঁচবার বাড়ি হারানোর মধ্যেও সাহারা আক্তার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের গল্প শেয়ার করেছেন। শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের পরিবারের আর্থিক সংগতি নেই। তারপরও ইচ্ছাশক্তিকে সামনে রেখে এগিয়ে গেছি। সকালে-বিকেলে গ্রামে ঘুরে টিউশনি করেছি। রাতভর বাসায় পড়ালেখা করেছি’।
সাহারা আক্তার জাজিরার পদ্মার চরাঞ্চলের রঞ্জন ছৈয়াল কান্দি এলাকায় বাস করেন। তিনি বলেছেন, ‘পদ্মার ভাঙনে পাঁচবার বসতভিটা হারিয়েছে আমাদের পরিবার। এখানে নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোর জীবনের কোনো লক্ষ্য থাকে না। অধিকাংশ পরিবারকে উদ্বাস্তু মানুষের মতো কষ্টের জীবন কাটাতে হয়। সেখানকার অনেক মেয়েরই বাল্যবিবাহ হয়ে যায়। আমাদের মতো অনেকেই অর্থকষ্টে পড়ালেখা বন্ধ করে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়’।
সাহারা আক্তার বড়কান্দি মডেল একাডেমির শিক্ষার্থী। তিনি প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন প্রথম আলোর শরীয়তপুর প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ, শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার দাস, মালিহা রহমান ও ফারদিন আহমেদ। অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার দাস বলেছেন, ‘একটি সাফল্য দেখে থেমে গেলে চলবে না, লক্ষ্য স্থির করে এগোতে হবে। শুধু উচ্চশিক্ষিত হয়ে চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা বড় চাকরিজীবী হলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। নিজের ভেতরের মানুষটাকে চিনতে ও তৈরি করতে হবে’।
"আমাদের গ্রামটি পদ্মা তীরের চরাঞ্চলে। এখানে নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলোর জীবনের কোনো লক্ষ্য থাকে না। অধিকাংশ পরিবারকে উদ্বাস্তু মানুষের মতো কষ্টের জীবন কাটাতে হয়।"
অনুষ্ঠানে বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক তামিম হোসেন সঞ্চালনা করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রথম আলোর খুলনার প্রতিনিধি উত্তম মণ্ডল বলেছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের জীবনের অনেক কিছু বদলে দিচ্ছে। তাই এআইকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো শিখতে হবে। তবে নিজে শেখা, নিজে চিন্তা করা ও নিজে চেষ্টা করার অভ্যাস কখনো হারানো যাবে না’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন, জাজিরা উপজেলার পদ্মা তীরের বড়কান্দি মডেল একাডেমি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাহারা আক্তার, অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার দাস, তামিম হোসেন, সত্যজিৎ ঘোষ, উত্তম মণ্ডল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ জেলা, ১০ জন বিজয়ী শিক্ষার্থী, জিপিএ-৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!