📌 প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ ও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি প্রত্যাবর্তনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি 'লাল কার্ড' প্রদর্শন করেছে। শিক্ষক নিয়োগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় একটি ঐতিহাসিক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি দলীয়করণ ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে শিক্ষক নিয়োগে বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি প্রত্যাবর্তনের প্রতিবাদে সরকারকে 'লাল কার্ড' প্রদর্শন করে। এই কর্মসূচিতে শিক্ষক নিয়োগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি 'রেড কার্ড টু বিএনপিজম' কর্মসূচি পালন করে সরকারের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন করে।
- 📌 শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশনে হাজারখানেক প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
- 📌 শামসুন্নাহার হল সংসদের সহ-সভাপতি কুররাতুল আইন কানিজ বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা, কিন্তু তাদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হচ্ছে।
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিবুল ইসলাম হাসিব দাবি করেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
- 📌 ডাকসু ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানায়।
📰 বিস্তারিত
শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি প্রত্যাবর্তনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় ছাত্রশক্তি একটি কর্মসূচি পালন করে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) কুররাতুল আইন কানিজ বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে মেধাবী তরুণ-তরুণীরা রক্ত দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধির মাধ্যমে মূর্খ-চাঁদাবাজভিত্তিক বাংলাদেশ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিএনপি সরকার।
জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিবুল ইসলাম হাসিব বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যেকটি জায়গায় নিজেদের দলের লোককে বসাচ্ছে। তাদের যোগ্যতা একটাই— তারা বিএনপির নেতা বা কর্মী। তিনি দাবি করেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যে দলীয়করণ করা হয়েছে এবং যেভাবে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। ভেরিফিকেশনের নামে যেসব যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের পুনরায় চাকরিতে স্থান করে দিতে হবে।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ, সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ, ইশরাক ফাহিম হিমেল, নুসরাত জাহান জেরিন, আমিনুল ইসলাম, জামিউল ইসলামসহ আরও অনেকে। তারা ‘বন্ধু কোটায় মন্ত্রী, কর্মী কোটায় চাকরি’, ‘সবার আগে বিএনপি, সবার পরে বাংলাদেশ’, ‘দলীয় নিয়োগের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভেরিফিকেশনের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
"চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা, কিন্তু তাদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধির মাধ্যমে মূর্খ-চাঁদাবাজভিত্তিক বাংলাদেশ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিএনপি সরকার। আমরা চাই, বাংলাদেশে মেধার ভিত্তিতে চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিটি নিয়োগ হবে।"
এছাড়াও, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে পুলিশ, এনএসআই ও ডিএসবির ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে বহু প্রার্থী বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে ‘ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি’ বন্ধ এবং বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত প্রতিকারের দাবি জানানো হয়। পৃথক বিজ্ঞাপ্তিতে জামায়াতে ইসলামী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠনও প্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কুররাতুল আইন কানিজ (ভিপি), হাসিবুল ইসলাম হাসিব (সভাপতি), সাইফুল্লাহ, সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!