📌 ইউল্যাবের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানো উচিত বাস্তব জীবনের প্রয়োজনে। কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এআই ব্যবহার ও পেশাগত ভাষাশিক্ষার দাবি উঠেছে। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০৩৪ সালের এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণে দক্ষ জনশক্তি তৈরি জরুরি
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শিক্ষা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে সাজানো দরকার। এ দাবি উঠেছে ‘ইউল্যাব-টিইএসওএল বিডি সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইএসপি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখানো হলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে ভাষাটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবেন না। এআই ব্যবহার, পেশাগত ভাষাশিক্ষা ও শিক্ষক-শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কে সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বাস্তব কর্মক্ষেত্রে ইংরেজি দক্ষতা**: শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানো উচিত বাস্তব জীবনের প্রয়োজনে, বিশেষ করে প্রকৌশল, ব্যবসা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে। বর্তমান পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা ভাষাটি ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছেন।
- 📌 **এআই ব্যবহারে আশা**: ডিজিটাল ইংরেজি প্রতিষ্ঠান রিয়েলিইংলিশের প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কিলিক বলেছেন, এআই দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাক্রমকে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা সম্ভব। অল্প খরচে ভাষা অনুশীলন ও সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা যাবে।
- 📌 **পেশাগত ভাষাশিক্ষার দাবি**: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাসুমা হাবিব বলেছেন, ইংরেজি শিক্ষায় শুধু ব্যাকরণ ও পরীক্ষা ফলকে গুরুত্ব দিলে চলবে না। কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভাষাদক্ষতা গড়ে তুলতে হবে।
- 📌 **২০৩৪ সালের লক্ষ্য**: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি তৈরি জরুরি। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।
- 📌 **সম্মেলনের লক্ষ্য**: ‘ফ্রম মার্জিন টু মেইনস্ট্রিম: রিস্ট্রাকচারিং ইনস্টিটিউশনাল ইএসপি ফর সাস্টেইনেবল ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনায় শিক্ষাব্যবস্থা ও দেশের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সংযুক্ত করার উদ্দেশ্য।
📰 বিস্তারিত
মোহাম্মদপুরের ইউল্যাবের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আজ শুক্রবার সকাল নয়টায় শুরু হয় ‘ইউল্যাব-টিইএসওএল বিডি সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইএসপি’। সম্মেলনটি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) ও টিইএসওএল সোসাইটি অব বাংলাদেশের যৌথ আয়োজন। এতে বক্তারা ইংরেজি শিক্ষাকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে সাজানোর দাবি তুলেছেন। তারা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানো হচ্ছে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য, কিন্তু বাস্তব জীবনে ভাষাটি ব্যবহারে তারা সমস্যায় পড়ছেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষতার বড় ঘাটতি রয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের দায়ী করা যায় না। বরং ইংরেজি শেখানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি পড়ানো হলেও শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে ভাষাটি ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছেন।” তিনি বলেন, শুধু সাধারণ যোগাযোগের জন্য নয়, পেশাগত ও কারিগরি জ্ঞান অর্জনেও ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৌশল, ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জটিল বিষয় বুঝতে ইংরেজির প্রয়োজন হয়। ভাষায় দক্ষতার অভাবে তাঁদের জ্ঞান ও দক্ষতার যথাযথ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
সম্মেলনে ডিজিটাল ইংরেজি প্রতিষ্ঠান রিয়েলিইংলিশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক বলেন, “শিক্ষার্থীদের এমন ইংরেজি শেখানো উচিত, যা তাঁরা বাস্তব জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারবেন। বছরের পর বছর ইংরেজি শিখেও অনেকে ভাষাটিতে কথা বলতে পারেন না। এতে সময় ও অর্থ—দুটোই নষ্ট হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অল্প খরচে ইংরেজিতে কথা বলার অনুশীলন ও তাৎক্ষণিক সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।” তিনি বলেন, বিদেশি পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু অনেক সময় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জীবনের সঙ্গে মেলে না। এআই দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাক্রম ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে পাঠ তৈরি করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাসুমা হাবিব বলেন, “ইংরেজি শেখানোর ক্ষেত্রে শুধু ব্যাকরণ ও পরীক্ষায় ভালো ফলের ওপর গুরুত্ব দিলে চলবে না; কর্মক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োজনে ইংরেজি ব্যবহারের দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের পেশাভিত্তিক ভাষাশিক্ষা দিতে হবে, যাতে তাঁরা কাজের প্রয়োজনে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারেন।”
প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, “ইংরেজিতে দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েন। তাই শিক্ষার্থীদের পেশাভিত্তিক ইংরেজিতে দক্ষ করে তুলতে বিশেষায়িত ভাষাশিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
"শিক্ষার্থীদের এমন ইংরেজি শেখানো উচিত, যা তাঁরা বাস্তব জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারবেন। এআই দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাক্রমকে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা যায়।"
"২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি তৈরি জরুরি। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোহাম্মদপুর, ঢাকা (ইউল্যাবের স্থায়ী ক্যাম্পাস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, নাইজেল কিলিক (রিয়েলিইংলিশ), অধ্যাপক মাসুমা হাবিব (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন), আনিসুল হক (প্রথম আলো)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ বিলিয়ন ডলার (বর্তমান অর্থনৈতিক আকার) → লক্ষ্য: ১ ট্রিলিয়ন ডলার (২০৩৪ সালের মধ্যে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!