📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর এক বছরের মেয়াদ শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাবার, পরিবহন, চিকিৎসা ও একাডেমিক সমস্যা সমাধান হয়নি। ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ হাজার হলের বাস করতে পেরেছে। রাকসু নেতারা দাবি করেন ৭৩% প্রতিশ্রুতি পূরণ হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যর্থতা দেখছেন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এক বছর আগে দায়িত্ব গ্রহণকারী রাকসুর প্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এক বছরের মেয়াদ শেষ হলেও আবাসন সংকট, খাবারের মান, পরিবহন, চিকিৎসা ও একাডেমিক সুবিধাসহ শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৭টি হল ও একটি ডরমিটরিতে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর বাসের সুবিধা রয়েছে — অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকতে বাধ্য
- 📌 রাকসুর প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল ‘১২ মাসে ২৪ সংস্কার’ — কিন্তু শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলো (আবাসন, খাবার, পরিবহন, চিকিৎসা) সমাধান হয়নি
- 📌 শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, খাবারের মান, মেডিকেল সেবা, পরিবহনব্যবস্থা ও একাডেমিক সুবিধায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি
- 📌 রাকসুর ভিপি দাবি করেন ৭৩ শতাংশ প্রতিশ্রুতি পূরণ হলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের মৌলিক সমস্যা বেড়েছে
- 📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘রাকসু শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে — তাদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে মৌলিক সমস্যা নজর থেকে চলে গেছে’
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় বিশ্বাস এক মাসের মধ্যে চতুর্থ বর্ষে ওঠার কথা থাকলেও তিনবার হলের আসন বরাদ্দের আবেদন করেও সফল হননি। তিনি মেসেই থাকতে বাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৭টি আবাসিক হল ও একটি ডরমিটরিতে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর বাসের সুবিধা রয়েছে। ফলে প্রায় ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকতে বাধ্য।
রাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ‘১২ মাসে ২৪ সংস্কারের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এক বছরের মেয়াদ শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান হয়নি। আবাসন সংকটের পাশাপাশি খাবারের মান, পরিবহন, চিকিৎসা ও একাডেমিক সুবিধাসহ নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে রয়েছে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘খাবারের মান কোনো পরিবর্তন হয়নি। হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতিনিধিরা মাঝেমধ্যে পরিদর্শন করলেও কোনো উন্নতি আসেনি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। রাকসুর ইশতেহারে ছিল ২৪ ঘণ্টা মেডিকেল সেবা চালু ও মেডিকেল সেন্টারকে ২০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি। তবে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেবা চালু করা হঠাৎ সম্ভব নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করছি।’
পরিবহনব্যবস্থাতেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রুটে বাসের সংখ্যা, সময়সূচি ও ধারণক্ষমতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্ট। একাডেমিক ক্ষেত্রেও শ্রেণিকক্ষের সংকট ও পরীক্ষা ফল প্রকাশে দেরির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘ হচ্ছে।
"অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে প্রথম বর্ষেই হলে সিট পেয়ে যান, সেখানে আমি তৃতীয় বর্ষের শেষ দিকে এসেও তা পাইনি। বিশ্ববিদ্যালয় মূলত আমার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। রাকসুর প্রতিনিধিরাও তাঁদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।"
— হৃদয় বিশ্বাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হৃদয় বিশ্বাস, ইসমাইল হোসাইন, মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ফুয়াদ রাতুল, সুলতান আহমেদ রাহী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ হাজার শিক্ষার্থী, ১৭টি হল, ১০ হাজার শিক্ষার্থী, ৬৮ শতাংশ, ১২ মাসে ২৪ সংস্কার, ২৪ ঘণ্টা মেডিকেল সেবা, ২০ শয্যা, ৭৩ শতাংশ প্রতিশ্রুতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!