📌 রাজশাহীর ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলের দাতা সদস্য আজাদ আলী সপ্তাহিক ছুটির দিনে বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে তালা দেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগান। তিনি দাবি করেন, পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করায় তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে প্রধান শিক্ষক জানান, পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়া হয়েছে
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে দাতা সদস্য আজাদ আলীর অদ্ভুত পদক্ষেপ সৃষ্টি করেছে। সপ্তাহিক ছুটির দিনে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা দেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগান। তিনি দাবি করেছেন, পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করায় তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা জানান, পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীর ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে দাতা সদস্য আজাদ আলী সপ্তাহিক ছুটির দিনে শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা দেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগান।
- 📌 তিনি দাবি করেন, পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করায় তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
- 📌 ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে নিম্ন মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে বিদ্যালয়টি, তবে এমপিওভুক্ত হয়নি।
- 📌 ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর আদালতে আজাদ আলী মামলা করেন, দাবি করে যে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
- 📌 প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা জানান, দাতা সদস্য নিঃশর্তভাবে প্রতিষ্ঠানে জমি দান করেছিলেন এবং চাকরি দেওয়ার বিষয়ে রেজুলেশন রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি ইউনিয়নের ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে আজাদ আলী সপ্তাহিক ছুটির দিনে শিক্ষকদের কার্যালয়ে আরেকটি তালা দেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগান। তিনি দাবি করেছেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের একজন দাতা সদস্য এবং টেকনিক্যাল কলেজ চালু করার প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, তার ছেলের বউকে চাকরি দেওয়া হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের নাম ছিল মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তবে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার সময় শুধু প্রাথমিক শ্রেণিতে শিক্ষাদান করা হতো। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। তখন প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সভা করে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ নামকরণ করেন। দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই এই নাম প্রস্তাব করেছিলেন বলে রেজুলেশনে উল্লেখ আছে।
২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিম্ন মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। তবে এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা পড়ছে। স্থানীয় দোকানি লাল মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, আগে বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু মামলা করার কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘আজ হঠাৎ করে আজাদ আলী এসে বেড়া দিয়ে গেছেন, তাঁরা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিও নিতে পারছেন না।’
প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা জানান, দাতা সদস্য নিঃশর্তভাবে প্রতিষ্ঠানে জমি দান করেছিলেন এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু করতে বলেছিলেন। স্থাপনা নির্মাণের পর প্রতিষ্ঠানের নামে জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে তিনি ভোকেশনাল শাখায় ছেলেকে এবং কলেজ শাখায় ছেলের বউয়ের চাকরি দাবি করেন। কমিটি বাধ্য হয়ে সম্মতি দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলী তাঁর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে ঢোকান। চাকরি করা অবস্থায় ২০২২ সালে তিনি মারা যান। এরপর ছেলেকে দ্বিতীয় বিবাহ করিয়ে সেই বউকেও মাধ্যমিক শাখার কেরানি পদে চাকরি দিতে বলেন। কমিটি তাতেও সম্মত হয়।’
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘একটা প্রতিষ্ঠান তো একদিনে দাঁড়ায় না। ওই দাতা সদস্যের দাবি সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী আছে, রীতিমতো পাঠদান চলছে। গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন দিয়েছে।’
"আমি প্রতিষ্ঠানের একজন দাতা সদস্য। সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ করে আমার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেকনিক্যাল কলেজের মতো কোনো প্রতিষ্ঠান হয়নি। আমার ছেলের বউকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ জন্য আমি তালা দিয়ে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আজাদ আলী, লাল মোহাম্মদ, প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা, মো. তৌহিদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ টাকা (স্ট্যাম্প), ১১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০ তারিখ (গত মাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!