📌 রাজশাহী কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. সাজেদুল ইসলামের লেখা 'হাইড্রোকেমিক্যাল ইভাল্যুয়েশন অ্যান্ড গ্রাউন্ডওয়াটার কোয়ালিটি' শিরোনামের বইটি স্প্রিঙ্গার প্রকাশ করেছে। বইটি বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে
রাজশাহী কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. সাজেদুল ইসলামের লেখা একটি গবেষণাধর্মী বই আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা স্প্রিঙ্গারের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই বইটি বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বইটির শিরোনাম 'হাইড্রোকেমিক্যাল ইভাল্যুয়েশন অ্যান্ড গ্রাউন্ডওয়াটার কোয়ালিটি'।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০ হাজার টাকার বই: স্প্রিঙ্গার প্রকাশিত বইটির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার টাকা। ১৩০ ইউরোর মূল্য থেকে ভ্যাট ও শুল্কসহ এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
- 📌 বিশ্বব্যাপী প্রকাশ: বইটি নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে ই-বুক ও হার্ডকপি আকারে প্রকাশ পেয়েছে। বিক্রয় ও বিপণনের দায়িত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যামাজন ও কিন্ডল লাইব্রেরি।
- 📌 গবেষণার ফলাফল: বইয়ে ভূ-রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে জলস্তরের ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন, পানিতে বিষাক্ত ভারী ধাতুর সংমিশ্রণ, জলস্তরে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রভাব ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে।
- 📌 জাতীয় গুণী শিক্ষক: সরকার অধ্যাপক সাজেদুল ইসলামকে ‘জাতীয় গুণী শিক্ষকের’ মর্যাদা প্রদান করেছে।
- 📌 বিশেষত্ব: এককভাবে লেখা বইয়ের ক্ষেত্রে এটি স্প্রিঙ্গারের প্রথম প্রকাশনা বাংলাদেশি লেখকদের মধ্যে।
📰 বিস্তারিত
অধ্যাপক মো. সাজেদুল ইসলামের লেখা বইটি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়। বইটির রিভিউ যুক্তরাষ্ট্রে, প্রুফ রিডিং ভারতে এবং বাঁধাই ও মুদ্রণ নেদারল্যান্ডসে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকাশনা সংস্থা স্প্রিঙ্গার বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। বইটি ডাউনলোড করতে খরচ পড়ে ১১১ দশমিক ২৭ ইউরো।
অধ্যাপক সাজেদুল ইসলাম জানান, বইটি লিখতে ছয় থেকে সাত মাস সময় লেগেছে। তবে রিভিউ ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় আরও প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। তিনি বলেন, বইয়ে ভূ-রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে জলস্তরের ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের কৌশল ও মাত্রা বিষয়ে গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পানিতে বিষাক্ত ভারী ধাতুর সংমিশ্রণ, তাপগতীয় ব্যাখ্যা, জলস্তরে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রভাব, পানিদূষণের উৎস, প্রাকৃতিক নিয়ামকের প্রভাবের ধরন, আইসোটোপ লঘূকরণসহ নানা বিষয় আলোচিত হয়েছে।
বিশ্বের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে ভূ-রসায়ন, ভূতাত্ত্বিক জলস্তর ও ভূগর্ভস্থ পানির গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা করা হলে এই বইটি সহায়ক হতে পারে। অধ্যাপক সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো প্রাণী পানি পান করে। পানি ছাড়া আরও প্রায় ৩০ রকম খনিজ উপাদান গ্রহণ করার জন্য আমরা পানি পান করি। তবে এসব উপাদানের নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। মাত্রার বেশি হলে সেটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যেমন: ভূগর্ভস্থ পানিতে ক্যালসিয়ামের মাত্রা প্রতি লিটারে ৭৫ মিলিগ্রামের বেশি থাকা উচিত নয়। কিন্তু দেশের উত্তরাঞ্চলসহ পৃথিবীর অনেক স্থানের পানিতে এর চেয়ে বেশি মাত্রায় ক্যালসিয়াম শনাক্ত হয়েছে। আমার বইয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পানির গুণাগুণ পরিমাপ ও বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আলাদা একটি অধ্যায় আছে।’
"পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশে স্প্রিঙ্গারের একটি করে কার্যালয় আছে। আমি যুক্তরাষ্ট্রের কার্যালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলাম। প্রথমে অনলাইনে প্রায় ২০ পৃষ্ঠার ফরম পূরণ করতে হয়। তারা এটা দেখে নির্ণয় করে এই কনটেন্ট কত বছর চলতে পারে, কী পরিমাণ মুনাফা হতে পারে। সব যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে তারা লেখার জন্য অনুমতি দেয়। তারপর ৩০ পৃষ্ঠার একটি চুক্তিপত্র সই হয়। সাইনিং মানি হিসেবে দেওয়া হয় এক হাজার ডলার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক মো. সাজেদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ হাজার টাকা, ১৩০ ইউরো, ১১১.২৭ ইউরো, ৩০ রকম খনিজ, ৭৫ মিলিগ্রাম, ৩৫টি গবেষণা প্রবন্ধ, ২০ পৃষ্ঠা ফরম, ৩০ পৃষ্ঠা চুক্তিপত্র
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!