📌 স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে বেতন পাচ্ছেন। ১৪তম বা ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়ার বদলে ১০ম গ্রেডে বেতন দেওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়েছে
স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে বেতন পাচ্ছেন। এই অসামঞ্জস্য নিয়ে দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও একজন শিক্ষার্থী যদি তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদার পদে যোগ দেন, তাহলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করার প্রয়োজন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৪তম বা ১৩তম গ্রেডে নির্ধারিত, কিন্তু স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হন।
- 📌 শিক্ষকদের দাবি, অন্যান্য সরকারি পদে স্নাতক বা সমমানের যোগ্যতা চাওয়া হলে ১০ম গ্রেডে বেতন দেওয়া হয়, কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা নেই।
- 📌 প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মো. মাহাবুবুর রহমান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও একজন মেধাবী শিক্ষার্থী যদি তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদার পদে যোগ দেন, তাহলে বিষয়টি নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।
- 📌 বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০.৫২ শতাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষণের বাইরে ছিলেন।
- 📌 বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে এগুলো ফাউন্ডেশন কোর্সের বিকল্প নয়।
📰 বিস্তারিত
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন ও আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছরের অঙ্গীকার’। এই দিবসের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও উন্নয়ন। তবে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও বেতন নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষকদের মতে, শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা বাড়াতে শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পদমর্যাদা ও বেতন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি বিভিন্ন পদে স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হলে সাধারণত ১০ম গ্রেডে বেতন দেওয়া হয়। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা নেই। এ কারণে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আগেই পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষক সনদ অর্জনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত শিক্ষক নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের সুযোগ আসে। ফলে নিয়োগ ও পেশাগত প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকরভাবে সমন্বয় করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
"বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও একজন মেধাবী শিক্ষার্থী যদি তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদার পদে যোগ দেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। এ কারণে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মাহাবুবুর রহমান (প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪তম/১৩তম গ্রেড বেতন, ১০ম গ্রেড দাবি, ৪০.৫২ শতাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষণহীন, ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ শিক্ষক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!