📌 সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। একাধিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়ে পুরো পাঠদান করা হচ্ছে, অন্যরা পাশের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে খোলা পড়ায় বাধ্য। যোগাযোগ সুবিধাজনক এলাকায় শিক্ষকসংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও দুর্গম এলাকায় পদায়নকৃত শিক্ষকরা বদলি হয়ে সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছেন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে, অন্যরা পাশের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে সাময়িকভাবে খোলা পড়ায় বাধ্য। অন্যদিকে যোগাযোগ সুবিধাজনক এলাকায় শিক্ষকসংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও দুর্গম এলাকায় শিক্ষকরা বদলি হয়ে সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছেন। এতে হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তাহিরপুর উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে মাত্র একজন করে শিক্ষক কর্মরত রয়েছে, যার মধ্যে ৫টি বিদ্যালয় শিক্ষকশূন্য।
- 📌 দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শরীফপুর রাধাচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় পাশের দুটি বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ১২ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সানজু মিয়া একাই দায়িত্ব পালন করছেন।
- 📌 ১ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৯ জন শিক্ষক জেলা শিক্ষা অফিসে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু ১১ অক্টোবর থেকে তাদের পদায়ন হবে।
- 📌 সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দুর্গম এলাকার শিক্ষকরা বদলি হয়ে সুবিধাজনক এলাকায় চলে যাচ্ছেন।
📰 বিস্তারিত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের শিবরামপুর, মন্দিয়াতা, জয়পুর, বাঁশতলা ও মনভোজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের উক্তিয়ারগাঁও, কলাপাড়া ও মাহমুদপুর এবং উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাহরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে একজন করে শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শরীফপুর রাধাচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে।
মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সানজু মিয়া বলেছেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট পাঁচটি পদ রয়েছে। কিন্তু ১২ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য। আমি দায়িত্ব পালন করছি। অনেক সময় অন্য কোনো শিক্ষক না থাকায় একাই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান করতে হয়েছে। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকও বদলির আদেশ পেয়েছেন। নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে, কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রয়োজন।’
শরীফপুর রাধাচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মোয়াজ্জেমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রীতম সরকার ও মানিকখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন তালুকদার বলেছেন, ‘শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী কাজে জড়িয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টি স্বাভাবিকভাবে চালু রাখতে দ্রুত শিক্ষক প্রয়োজন।’
"দুর্গম এলাকার বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকরা বদলি হয়ে সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে চলে আসায় হাওরাঞ্চলের শিশুরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।" — উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সদস্য ও মধ্য তাহিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন পাটোয়ারী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা, হাওরাঞ্চল (উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সানজু মিয়া (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, মন্দিয়াতা), প্রীতম সরকার ও মিলন তালুকদার (অস্থায়ী শিক্ষক), শাখাওয়াত হোসেন পাটোয়ারী (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক (৫টি শিক্ষকশূন্য), ৪৯ জন নতুন শিক্ষক, ১২ বছর প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!