📌 মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রাক্-চাকরিকালীন প্রশিক্ষণ চালু করার প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। ২৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বাজেটে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষকের পেশাদারত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাইলট মডেল চালু হবে
মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণ নিতে হবে — এই নতুন নিয়মের প্রস্তাব করেছে বর্তমান সরকার। শিক্ষকদের পেশাদারত্ব বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ‘প্রফেশনালাইজেশন ফর এনহ্যান্সড লার্নিং প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্পের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব করেছে, যেখানে শিক্ষক নিয়োগের আগেই প্রার্থীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বাজেটে** শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রাক্-চাকরিকালীন প্রশিক্ষণ চালু করার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
- 📌 **২০৩০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত** বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি চলতি বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হবে।
- 📌 **২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৪ জন** মাধ্যমিক শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ হাজার ৪৯ জন নারী শিক্ষক রয়েছে।
- 📌 **পাইলট মডেলে ৫টি প্রতিষ্ঠানে** প্রাক্-চাকরিকালীন প্রশিক্ষণ চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
- 📌 **বৈদেশিক অনুদান** থেকে প্রকল্পের পুরো অর্থ আসবে।
- 📌 **শিক্ষক পেশাগতীকরণ নির্দেশিকা (টিপিজি)** এবং **শিক্ষক পেশাগত উন্নয়ন কাঠামো (টিপিডিএফ)** প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।
- 📌 **১০টি বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কোর্সের পাশাপাশি আরও ১০টি নতুন কোর্স** চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রাক্-চাকরিকালীন প্রশিক্ষণ চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই প্রকল্পের নাম ‘প্রফেশনালাইজেশন ফর এনহ্যান্সড লার্নিং প্রজেক্ট’। মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং) অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিক্ষাবিদেরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং বলছেন, এর মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়নে ২৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এই অর্থের বড় অংশ খরচ হবে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামত এবং পেশাগত সেবা খাতে। প্রকল্পের পুরো অর্থ বৈদেশিক অনুদান হিসেবে আসবে। প্রকল্পের সম্ভাব্য বাস্তবায়নকাল চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।
মাধ্যমিক স্তরে বর্তমানে মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৪ জন শিক্ষক রয়েছেন, যার মধ্যে ৭৩ হাজার ৪৯ জন নারী শিক্ষক। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হয় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে, আর বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে।
প্রকল্পের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রকৃত প্রাক্-চাকরিকালীন (প্রি-সার্ভিস ট্রেনিং) প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। কিন্তু শিক্ষকতার মতো পেশায় প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন এবং মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বলেছেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। শিক্ষাদীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষকতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেছেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো উচিত নয়। তিনি এই প্রকল্পকে শিক্ষক পেশার মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
"শিক্ষার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।"
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ড. সরদার মো. কেরামত আলী বলেছেন, প্রকল্প প্রস্তাবটি বর্তমানে অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে শিক্ষকদের পেশাদারত্ব বৃদ্ধিতে ‘শিক্ষক পেশাগতীকরণ নির্দেশিকা (টিপিজি)’ এবং ‘শিক্ষক পেশাগত উন্নয়ন কাঠামো (টিপিডিএফ)’ প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরিতে থাকা শিক্ষকদের জন্য অব্যাহত পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন, ড. সরদার মো. কেরামত আলী, মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা (বাজেট), ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৪ জন (মাধ্যমিক শিক্ষক), ৭৩ হাজার ৪৯ জন (নারী শিক্ষক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!